বৃহস্পতিবার ভোর ৫:০৫, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ. ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ইং

মিম্বার মুক্ত রাখি

৩৭২ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

দৃশ্যপট-১: একজন তরুণ বক্তা। একটি সুন্দর মসজিদে জুমার বয়ান করছেন। প্রসঙ্গক্রমে চলমান লকডাউন এবং সরকারের কার্যকলাপ নিয়ে সমালোচনা করছেন। এই আলোচনা উত্তেজনা সৃষ্টিকারী হেডলাইন দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ইউটিউবে।

দৃশ্যপট-২: দেশের জনপ্রিয় বক্তা। জুমার নামাজ পরবর্তী সেলফি শেয়ার করেছেন ফেসবুকে। নিচে লিখেছেন যারা জুমার শিডিউল নিতে চান ০১৭…. নাম্বারে যোগাযোগ করুন।

দৃশ্যপট-৩: দেশের একটি ঐতিহাসিক এবং প্রসিদ্ধ মসজিদ। খতিব দেশসেরা আলেম, শাইখ। জুমার খুতবাপূর্ব বয়ান করতে দেওয়া হয় না। লিখিত বয়ান বিলি হয় মুসুল্লিদের মাঝে।

প্রথম দুটি ঘটনা সাম্প্রতিক। করোনা অতিমারীর কারণে বন্ধ হয়ে আছে মাঠে ময়দানের ওয়াজ মাহফিল। অধিকাংশ ওয়ায়েজ-বক্তাগণ অন্য কাজে মনোযোগ দিয়েছেন। কিন্তু যারা ওয়াজ মাহফিলকেই নিজেদের পেশা অথবা মিশন বানিয়ে নিয়েছেন, তারা বিকল্প খুঁজেছেন। এরমধ্যে কেউ কেউ অনলাইনে মনোনিবেশ করেছেন। বিশেষ করে ইউটিউব এবং ফেসবুকে লাইভ প্রোগ্রাম করে ওয়াজ, বয়ানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এটা একটা ভাল দিক। সময়ের পরিবর্তনে কর্মপন্থার পরিবর্তনে তারা উদ্যোগী হয়েছেন। কিন্তু এই উন্মুক্ত অনলাইন কার্যক্রমের জন্য কোনো কোনো বক্তা মসজিদের মিম্বারকে বেছে নিয়েছেন। যা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলবে।

ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি, কতিপয় স্টেজ-মাঠ কাঁপানো বক্তা এবং ওয়ায়েজ কাম কমেডিয়ান এর কারণে ওয়াজ মাহফিলের এই সুন্দর ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিটি কলুষিত হয়ে পড়ল। দেখা দিল নানান ধরণের বিশৃঙ্খলা। যেই ওয়াজ সমাজে শান্তি সম্প্রীতির সুবাতাস বইয়ে দিত সেই ওয়াজ হয়ে পড়ল দলাদলি, হানাহানির ইন্ধনদাতা। এরূপ বিশৃঙ্খলার মধ্যে ও মানুষ মসজিদের জুমার বয়ানে শান্তি খুঁজে পেত। মাঠ কাঁপানো গরম বক্তা ও মসজিদে নরম সুরে বয়ান করতো। মানুষকে দ্বীনের শিক্ষা এবং সময়োপযোগী নির্দেশনা প্রদানই হতো বয়ানের উদ্দেশ্য। কারণ মসজিদে লাইট ক্যামেরা আর স্লোগান ছিল না। বেশি বেশি বুকিং এবং ইউটিউব ভিউ পাওয়ার চিন্তা ছিল না।

এখন শান্ত কোমল বয়ানের মিম্বরের দিকে তাক হচ্ছে লাইট ক্যামেরা। ফিরে আসছে অধিক ভিউ আর লাইক-কমেন্টের চিন্তা। অদিকে ব্যাবসার চিন্তায় খতিবদের স্বাভাবিক বয়ানকে অস্বাভাবিক করে তুলছে নিচু পর্যায়ের অনলাইন এক্টিভিস্টরা। এরমধ্যে নতুনভাবে এক ঘণ্টা বয়ান করে ত্রিশ-চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজার টাকা উপার্জনের পথ ও দেখাচ্ছে কেউ কেউ। যেটা দেখছি ২য় দৃশ্যপটে।

অনলাইন অংশগ্রহণের এই খারাপ এবং ক্ষতিকর ব্যাপারগুলো আমরা যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, মসজিদের মিম্বরকে মুক্ত রাখুতে না পারি তাহলে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে শেষ দৃশ্যপটটি। কারণ, স্বাভাবিক এবং চলমান ধারায় ব্যাতিক্রম ঘটলেই সবার নজরে আসবে। ইসলাম বিদ্বেষী চক্রগুলো পথ খুঁজবে একজন আলেমের কথা বলার শেষ আশ্রয় মিম্বরকে নিয়ন্ত্রণ করতে। পেশিশক্তি দিয়ে বাধ্য করবে সত্য গোপন রেখে মিথ্যার গন্ধ ছড়াতে।

তাই আসুন মসজিদের মিম্বারকে স্বাভাবিক এবং মুক্ত রাখি। খতিব নির্বাচনে আমলধারী সাদামাটা আলেমকে প্রাধান্য দেই। মিম্বারকে কেউ যেন লাইক, কমেন্ট আর ভিউ ব্যবসার মাধ্যম বানাতে না পারে- এ ব্যাপারে সতর্ক থাকি। মিম্বারে প্রতিধ্বনি হোক আমাদের মহান পূর্বসূরিদের দরদমাখা নসিহার।

Some text

ক্যাটাগরি: চিন্তা, মতামত

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি