রবিবার রাত ১১:৩৬, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ. ২৩শে জুন, ২০২৪ ইং

শ্রীমঙ্গলে অনিতা রাণী হত‍্যার অভিযোগে স্বামী অনুজ আটক

৪৫৫ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

তিমির বনিক/তুষার দেব: শ্রীমঙ্গলে অনিতা রাণী হত‍্যার অভিযোগে স্বামী অনুজ কান্তি দাশকে (৩৮) আটক করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের পূর্বাশা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নরেশ দাশের পুত্র শ্রীমঙ্গল শহরের সাইফুর রহমান মার্কেটের পূরবী এন্টার প্রাইজের স্বত্তাধিকারী ও ইত্তেফাক পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি অনুজ কান্তি দাশের সহিত হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার পোকড়া গ্রামের দিলীপ দাশের মেয়ে অনিতা রানী দাশের সাথে সামাজিক ধর্মীয় রীতিমতো অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হয় ২০১৭ সালে।

বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতি হলে বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার বিবরণে শ্রীমঙ্গল থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর অনুজ কান্তি দাশের স্ত্রী অনিতা রানী দাশকে অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে শ্রীমঙ্গল পলি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয় পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে সিলেটের রাগিব রাবেয়া হাসপাতালের আই সি ইউ তে ভর্তি করানো হয়। আইসিউতে রাখা অবস্থায় পরদিন ২৯ নভেম্বর অনিতা রানী দাশ মারা যায়। হাসপাতাল থেকে স্বামী অনুজ অনিতার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসলে অনিতার পরিবার থেকে গত ৪ ডিসেম্বর অনিতাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ করা হয়। এবং এ নিয়ে নিহত অনিতার বাবা দিলীপ দাশ (৬৫) বাদী হয়ে অনুজ কান্তি দাশকে প্রধান আমাসী করে শ্রীমঙ্গল থানায় হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।

উক্ত মামলায় অনুজের মা পূরবী রাণী দাস (৬৫) ও বাবা নরেশ চন্দ্র দাশ (৭০) কে আসামী করা হয়। মামলার অভিযোগে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ অনুজ কান্তি দাশকে তার নিজ বাড়ি পূর্বাশা আবাসিক এলাকা থেকে ৫ ডিসেম্বর শনিবার দুপুর ২.৩০ এ গ্রেফতার পূর্বক মৌলভীবাজার জেল হাজতে প্রেরণ করে।

অনিতার বাবা দিলীপ দাশ বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের স্বামী তাকে নানাভাবে নির্যাতন করতো এবং সে মাদকাসক্ত ছিলো এনিয়ে আমার মেয়ে বাপের বাড়ি চলে আসে কিছুদিন পুর্বে আমার মেয়েকে নির্যাতন করবে না বলে ওর স্বামী নিয়ে যায় কিন্তু আজ আমার মেয়ে নেই। তাই আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং আমার মেয়ের জন‍্য বিচার চাই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল পলি ক্লিনিকের কর্তব্যরত ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন বিগত ২৮ নভেম্বব অনিতা রানী দাশকে রোগীর আত্মীয় স্বজন ডাক্তার প্রদীপ লাল বনিকের কাছে নিয়ে যান সেখান থেকে প্রদীপ স‍্যারের মাধ্যমে আমাদের এখানে ভর্তী হন অনিতা রানী দাশ। প্রথমে আমরা কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ইউরিন ইনফেকশন পাই এবং রোগির জ্বর ছিলো সাথে অস্বাভাবিক আচরণ ছিলো পরবর্তীকালে রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে আমরা রোগীকে সিলেটে নিয়ে যাবার পরামর্শ দেই।

অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অনুজের পিতা নরেশ দাশ বলেন, বিয়ের পর ছেলের সংসার ভালোই চলছিলো বছর খানেক পর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কি নিয়ে সমস‍্য তৈরী হয় তখন অনিতার পরিবার এখানে আসলে দুইপক্ষই ঘরোয়াভাবে বসলে ছেলে কিছু মোবাইল ম‍্যাসেজ ওদের পরিবারকে দেখায় তারপর বিষয়টি সমাধান হলে কিছুদিন পর আবার সমস্যা তৈরী হলে অনিতা কাউকে কিছু না বলে বাপের বাড়ি চলে যায়। ২৮ ডিসেম্বর অনিতার শারীরিক দূর্বলতা দেখা দিলে আমরা ডাক্তার প্রদীপ লাল বনিকের কাছে নিয়ে যাই সেখান উনি পরামর্শ দেন পলি ক্লিনিকে ভর্তি করানোর।

ভর্তি করানোর পর অনিতার পরিবার খবর পেয়ে আসেন এবং উনাদের সাথে নিয়েই এখানে কিছু পরিক্ষা নিরিক্ষা করে তার অবস্থা অবনতি হলে তাকে সিলেট রাগীব রাবেয়া হাসপাতালে আই সি ইউ তে ভর্তি করাই এবং অবস্থার অবনতি হলে সেখানেই সে মারা যায়। তখন আমরা দাহ করতে নিয়ে আসলে অনিতার পরিবার অনিতাকে নির্যাতন করে হত‍্যা করা হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ করে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুছ ছালেক বলেন, নিহত অনিতা রানীর পরিবার থেকে তার পিতার অভিযোগ ও প্রাথমিক স্বাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামী অনুজ কান্তি দাশকে ৫ ডিসেম্বর দুপুরে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল থানা মামলা নাম্বার ৩, তারিখ (৪ নভেম্বর ) ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Some text

ক্যাটাগরি: মতামত

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি