রবিবার দুপুর ২:৫০, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ. ৩রা মার্চ, ২০২৪ ইং

খেলাধুলার শরয়ী বিধান

৪৫৭ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

দিনদিন খেলাধুলায় মানুষের মগ্নতা বেড়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেক দ্বীনদার নামাযী ব্যক্তিও এর পেছনে মূল্যবান সময় অপচয় করে। অথচ মুমিনের প্রতিটি কাজ পরিচালিত হবে শরিয়ত অনুযায়ী। আসুন জেনে নেই খেলাধুলার কতটুকু ইসলাম সমর্থন করে আর কতটুকু ইসলাম নিষেধ করে।

খেলা প্রথমত দুই প্রকার। প্রথম প্রকার হচ্ছে, এমন সব খেলা যেগুলো আল্লাহর পথে জিহাদ (শক্তির মাধ্যমে তথা যুদ্ধ অথবা ভাষার মাধ্যমে তথা জ্ঞান) এর সাথে সম্পৃক্ত। যেমন সাঁতার কাটা, তীর নিক্ষেপ, অশ্বারোহণ এবং এমন সব খেলা যেগুলো বিদ্যায় প্রবৃদ্ধি এবং প্রখরতা বৃদ্ধি করে।

এ সকল খেলা মুসতাহাব এবং ব্যাক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী সাওয়াব বা গুনাহের অংশীদার হবে। যদি দ্বীনের কল্যাণের নিয়ত থাকে তাহলে সাওয়াব পাবে আর শুধুই বিনোদন বা জশ-খ্যাতির উদ্দেশ্যে হলে সময় অপচয়ের গুনাহ হবে।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- হে বনু ইসমাইল! তোমরা তীর নিক্ষেপ করো কেননা তোমাদের পিতৃপুরুষরা তীরন্দাজ ছিল। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকী : ২০২৪৮)। এ হাদিসের আলোকে ওলামায়ে কেরাম বলেন, সাঁতার কাটা, অশ্বারোহণ ইত্যাদির ক্ষেত্রেও এ বিধান প্রযোজ্য হবে।
দ্বিতীয়ত এমন সব খেলা যেগুলো জিহাদের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এ জাতীয় খেলা আবার দুই প্রকার। ক. যে সকল খেলার ব্যাপারে ইসলামী শরিয়তে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা এসেছে। যেমন- পাশা খেলা। এ জাতীয় খেলা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা আবশ্যক।

খ. যে সকল খেলার ব্যাপারে সরাসরি বিধান প্রবর্তিত হয় নাই। এটা আবার দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম প্রকার : যে সকল খেলা হারামের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন – (দ্বীন বহির্ভুত) অভিনয়, প্রাণবিশিষ্ট বস্তুর আকৃতিদান, গান-বাজনা ইত্যাদি যে সকল খেলায় রয়েছে। অথবা এমন খেলা, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে এগুলো মানুষকে ঝগড়া-বিবাদের দিকে নিয়ে যায় কিংবা অশ্লীল কথা বা কাজে নিপতিত করে। হারামের সাথে সম্পৃক্ত বা সম্ভাবনার কারণে এগুলোও হারামের অন্তর্ভুক্ত হবে।

দ্বিতীয় প্রকার: যেগুলো সাধারণত হারামের সাথে সম্পৃক্ত বা হারামের দিকে নিয়ে যায় না। এটা সমাজ ভেদে বিভিন্ন হতে পারে। যেমন আমাদের সমাজে প্রচলিত হাডুডু, কাবাডী, গোল্লাছুট ইত্যাদি খেলা। এসব খেলা কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে বৈধ। শর্তগুলো নিম্নরূপ-

১. জুয়া থেকে মুক্ত হওয়া। ২. খেলাটি আবশ্যকীয় জিকির যেমন- সালাত বা আবশ্যকীয় এতায়াত যেমন- মাতা-পিতার আনুগত্য ইত্যাদির মাঝে প্রতিবন্ধক না হওয়া।
৩. অধিকাংশ সময় খেলার পেছনে ব্যায় না হওয়া । খেলাকে পেশা হিসেবে না নেওয়া । এর মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্য না থাকা।
কেননা আশঙ্কা রয়েছে এমন লোকের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার এ আয়াত প্রযোজ্য হবে- তারা স্বীয় ‘দ্বীন’কে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছিল। অতএব, আমি আজকে তাদেরকে ভুলে যাবো; যেমন তারা এ দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করত। (৭:৫১)। অর্থাৎ যারা খেল-তামাশাতেই জীবন ব্যায় করবে।

আল্লাহ তাআলা আমদেরকে শরীয়ত বিবর্জিত অহেতুক খেল-ধূলা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন। আমিন। (ইমাম মুহাম্মদ বন সউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শায়েখ খালেদ আল মাজেদ এর ফতোয়া অবলম্বনে)

Some text

ক্যাটাগরি: চিন্তা

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি