বুধবার সন্ধ্যা ৬:১৭, ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ. ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ ইং

কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের ইতিবৃত্ত

৮৫০ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ওয়ার্ড ভিত্তিক মেহারী ইউনিয়নের গ্রাম সমূহের নামের তালিকাঃ

➤১ নং ওয়ার্ড – ঈশান নগর,যমুনা।
➤২ নং ওয়ার্ড – মেহারী।
➤৩ নং ওয়ার্ড – বল্লভপুর।
➤৪ নং ওয়ার্ড – শিমরাইল সাতপাড়া।
➤৫ নং ওয়ার্ড – শিমরাইল মধ্য পাড়া।
➤৬ নং ওয়ার্ড – শিমরাইল উত্তর পাড়া।
➤৭ নং ওয়ার্ড – খেওড়া, বামুটিয়া।
➤৮ নং ওয়ার্ড – পুরকুইল,বাহারআটা,খেওড়া পশ্চিম।
➤৯ নং ওয়ার্ড – চৌবেপুর।

 

কসবার ঈশান নগর গ্রামের নামকরণের ইতিকথা : এস এম শাহনূর

কসবার ঈশান নগর গ্রামের নামকরণের ইতিকথা : এস এম শাহনূর
ষড়ঋতুর রঙশালা আমাদের এ বাংলাদেশ।ঋতু বৈচিত্রের এদেশে আষাঢ় শ্রাবণ মাসে সজীবতা খুঁজে পায় সারা বছর শুকিয়ে থাকা খাল আর নদীগুলো।নতুন রূপে সেজে উঠে নদী তীরের জনপদ।অপরিকল্পিত গ্রামায়নের ফলে ক্রমশ ভরে যাচ্ছে এক সময়কার প্রবাহমান ছোট নদী আর খালগুলো।এর মধ্যেও বর্ষাকালে যে গায়ের যৌবন উপচে পড়ে তার নাম ঈশান নগর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত এটি এমনই এক গ্রাম যার উত্তরে সেনের খাল আর দক্ষিণে রাজার খালের জলরাশির প্রবাহ খেলা করে।

★সীমানাঃ
উত্তরে-মেহারী।
পূর্বে-পুরকুইল।
দক্ষিণে-চৌবেপুর।
পশ্চিমে-রাজার খাল ও শিমরাইল গ্রাম।

★একনজরে ঈশান নগর গ্রাম-
*জনসংখ্যাঃ প্রায় ১০০০(হাজার)জন।
*নারী ও পুরুষের অনুপাতঃ ৪৯:৫১
*শিক্ষার হারঃ প্রায় ৭৫%
১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
১ টি আরবি শিক্ষার মক্তব।
১ টি মসজিদ।
১ টি কবরস্থান।
১ টি ঈদগাহ।
১ টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন।মেহারী ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি এ গ্রামেই অবস্থিত।

ছোট্ট একটি গ্রাম ঈশান নগর।আকারে ছোট হলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে মোটেও ছোট নয়।খোঁজ নিয়ে জানা যায়,অত্র গ্রামের বহু শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন নামকরা মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে।এছাড়াও এখানে অনেক গুণী শিক্ষক,সরকারী কর্মকর্তা,কৃতি ও বরেণ্য ব্যক্তিদের জন্ম হয়েছে।এঁদের মধ্যে কয়েকজনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিম্নরূপঃ

★শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীঃ
*জনাব,আব্দুর রকিব(মাষ্টার)
(প্রাক্তন শিক্ষক,জমশেরপুর হাই স্কুল)।
তিনি কসবা উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুম আলহাজ্ব নূরুল হকের(মাষ্টার)ও শিক্ষক ছিলেন।

*জনাব,মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া
সিনিয়র শিক্ষক,
কুমিল্লা ইউসুফ স্কুল।

*জনাব, মোঃ ইবাল হোসেন সরকার, বিএসসি
সিনিয়র শিক্ষক,
পুরকুইল মাদ্রাসা।

*প্রভাষক শামসুর নাহার মিতা
(মরহুম জনাব,নজ্জম সরকারের মেঝ ছেলের মেয়ে)।
ইংরেজি বিভাগ,
সরকারী বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ডিগ্রী কলেজ।শর্শা,যশোর।

*প্রভাষক ফাতেমা হোসনে জাহান(রেখা)
(ঈশান নগর গ্রামের পুত্র বধূ,তিনি খেওড়া আনন্দময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক জনাব,আব্দুস সামাদ (স্যার)এর কন্যা ও শিক্ষাবিদ মরহুম আলহাজ্ব নূরুল হক(মাস্টার) এর নাতনী)।
অর্থনীতি বিভাগ,
সরকারী আদর্শ মহাবিদ্যালয়,
সৈয়দাবাদ,কসবা।

★বরেণ্য ব্যক্তিঃ
*জনাব,মরহুম শামসুল হক।
(বিশিষ্ট ব্যবসায়ী,সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ)।

*জনাব,মরহুম আব্দুল মজিদ মেম্বার।
(শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সংস্কারক)

★গুণীজনঃ
*জনাব,মরহুম নজ্জম সরকার,
*জনাব,গোলাম সরোয়ার সরকার,
*জনাব,চান মিয়া সরকার,
জনাব,আসমত আলী ভূঁইয়া,
জনাব,শামসু মিয়া প্রমুখ ব্যক্তিবর্গের নূরনগর ও বরদাখাত পরগনায় হা ডু-ডু খেলার জন্য সুখ্যাতি ছিল।

*মোহাম্মদ মানিক মিয়া(আয়কর আইনজীবী)
(বি,কম(সম্মান) এম কম;এল,এলবি)
গবেষণা লব্ধ প্রকাশনা –
(১) অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক সহায়িকা।
(২) অগ্নিঝুকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা।
(৩) পোষাক শিল্প কারখানায় অগ্নিঝুকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা।
এই শিরোনামে তিনটি প্রকাশনা রয়েছে।যাহা ইতোমধ্যে পোষাক শিল্পের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় সরকারী ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রকাশনা তিনটি ব্যাপক ভাবে সমাদৃত হয়েছে।তিনি বর্তমানে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ইয়ংওয়ান,বাংলাদেশ এ ব্যবস্থাপক- সেফটি এর পাশাপাশি আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।

★সরকারী কর্মকর্তাঃ
*মেজর আব্দুল্লাহীল বাকী
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত।
(আব্দুর রকিব মাষ্টারের বড় ছেলে জনাব,আবু নাছার ওয়াহীদ দুলাল এর একমাত্র পুত্র)।

*জনাব,ইসমাইল মিয়া
এএসপি অব বাংলাদেশ পুলিশ।
(মরহুম আব্দুল মজিদ মেম্বারের ছেলে)।

*জনাব,মজিবুর রহমান টিটু
ইন্সপেক্টর অব বাংলাদেশ পুলিশ।
(মরহুম আব্দুল মজিদ মেম্বারের ছেলে)।

★সমাজসেবাঃ
গ্রামের বিভিন্ন জনহিতকর কাজে অনেক স্বদেশী ও প্রবাসীদের অবদান রয়েছে বলে জানা যায়।তাঁদের মধ্যে অন্যতম –
*জনাব,মোহাম্মদ আবুল হাসনাত বাদল(আমেরিকা প্রবাসী)
*জনাব,খাদেমুল ইসলাম ভূঁইয়া (ইতালি প্রবাসী)
*জনাব,শামীম রেজা(ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ)
প্রমুখ।

আদিমযুগ থেকেই স্থান বা জাতির নামকরণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিশেষ প্রাধান্য পায়। আধুনিক যুগেও এ প্রথা বিদ্যমান। যেমন গৌতম বুদ্ধের অনুসারীরা বৌদ্ধ, যীশুখ্রিস্টের অনুসারীরা ক্রিশ্চিয়ান বা খ্রিস্টান, কার্ল মার্কসের অনুসারীরা মার্কসবাদী প্রভৃতি। আবার শ্রীলঙ্কার আদম চূড়া কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, ভারতের মম তাজমহল,হযরত শাহজালাল (রহ.) এর সফর সঙ্গী নাসিরউদ্দিনের নামানুসারে নাসিরনগর ইত্যাদি।
ঠিক তেমনি এক নাম ঈশান নগর।

★ঈশান নগর গ্রামের নামকরণের ইতিহাসঃ
পূর্ব বাংলা তথা ত্রিপুরা রাজ্যের জমিদারির ইতিহাস প্রমাণ করে এক সময় ব্রিটিশ শাসনামলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার কাইতলা জমিদার বাড়ি ছিল সমগ্র ত্রিপুরা রাজ্যের মহারাজা বীর বিক্রম রাধা কিশোর মানিক্য বাহাদুরের অধিনস্থ নূরনগর পরগনার একটি পূর্ণাঙ্গ জমিদার বাড়ি।আর বিশ্বনাথ রায় চৌধুরী ছিলেন এ জমিদারি সাম্রাজ্যের প্রধানতম জমিদার।পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য তিন পুত্র যথাক্রমে
(১)তিলক চন্দ্র রায় চৌধুরী,
(২)অভয় চন্দ্র রায় চৌধুরী,
(৩)ঈশান চন্দ্র রায় চৌধুরী
এবং প্রৌপুত্রগণ জমিদারি তদারকি ও পরিচালনা করেন।জানা যায়,পশ্চিম বঙ্গের শিমগাঁও নামক স্থান থেকে বিশ্বনাথ রায় চৌধুরী প্রথমে কাইতলা নামক জনপদে এসে বসতি স্থাপন করেন এবং জমিদারি লাভ করেন।প্রায় দুশো বছর আগে জমিদার ঈশান চন্দ্র রায় চৌধুরীর অধীনস্থ তালুকের উপর “একটি বাড়ি,একটি পুকুর” নিয়ে গড়ে উঠে আজকের ঈশান নগর নামক লোকালয়।

★নামকরণের পিছনের ইতিহাসঃ
প্রায় দুশো বছর আগে দৌলত নামক এক মুসলিম ব্যক্তি তার চার পুত্র সন্তান নাজাত,আজমত,রবিউল্লাহ ও অভিউল্লাহ সহ যমুনা গ্রামে বাস করতেন।তখনও যমুনা গ্রাম ছিল উগ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের চরম আখড়া। শ্রী হরি সেন নামক এক ব্যক্তির ত্রিপুরা রাজার দরবারের সাথে ভাল সম্পর্ক ছিল এবং সেই সুবাদে বেশ যাওয়া আসাও ছিল।অভিজাত হিন্দু পরিবার খ্যাত সেনের বাড়ির চারপাশ দিয়ে কোন মুসলিম পরিবারের সন্তান জুতা পায়ে হেটে যাওয়া নিষেধ ছিল।কারণে অকারণে গরীব রায়তদের ধরে এনে অপমান অপদস্থ করত সেনের লোকজন। তখন যমুনা গ্রামের নাম লোকমুখে সেনের বাড়ি নামেই পরিচিত ছিল বলে জানা যায়।আর এই সেন পরিবারের সাথে জমির খাজনাদি ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণেই জনাব,দৌলত তার চার পুত্র সন্তান ও নিজ পরিবার সহ বর্তমান ঈশান নগর গ্রামে এসে প্রথম বসতি স্থাপন করেন।
কথিত আছে যে,কাইতলার জমিদার পুত্র ঈশান চন্দ্র রায় চৌধুরীর তালুক থেকে জনাব,দৌলত বসবাসের জন্য একখন্ড জমি চেয়ে নেন।সেই জমিতে এক রাতের মধ্যে (বর্তমান ঈশান নগর গ্রামে পুরাতন পুকুর নামে পরিচিত)একটি পুকুর খনন করে,পুকুর পাড়ে ভিটে বাড়ি তৈয়ার করে বসবাস শুরু করেন।আর সেই জমিদার পুত্র ঈশান চন্দ্র রায় চৌধুরীর দানের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন পূর্বক গ্রামের নামকরণ করেন ঈশান নগর।

★ঈশান শব্দের আভিধানিক ও ধর্মীয় অর্থঃ
ঈশান একটি বিশেষ্য পদ ও একটি জনপ্রিয় নাম।এই নামের উল্লেখ শিব পুরাণে আছে, এবং এটি বিষ্ণুর নামও হয়।

★ব্যুৎপত্তিঃ[সং. √ ঈশ্ + আন]।

#ইসলাম_ধর্মে,ঈশান মুসলিমদের মধ্যেও এক জনপ্রিয় নাম।অর্থ হ’ল– “ঈশ্বরের আশীর্বাদ” বা “যোগ্য”।

#হিন্দু_ধর্মে,ঈশান হিন্দু ভগবান শিবের এক নাম।শিব হিন্দু ত্রিমূর্তি (ব্রহ্মা , বিষ্ণু, শিব)এর অন্যতম। এর মূল “ঈশ [ব্যুৎপত্তিঃ [সং. √ ঈশ্ + অ]] যার অর্থ(প্রভু,ভগবান,স্বামী,প্রাণেশ,মহেশ)জগতকে শাসন করা অদৃশ্য শক্তি। ঈশান ও ঈশ্বর একার্থক।
ঈশান শব্দের অর্থ ‘ শিব, মহাদেব;এবং ‘ উত্তর-পূর্ব’ দিকও হয়। বাস্তু শাস্ত্রের মতে
ঈশান্য দিকের অর্থ সমৃদ্ধি, ঐশ্বর্য্য ও জ্ঞান। হিন্দু ধর্মে উত্তর দিকে সুখ এবং পূর্ব দিকে জ্ঞান বোঝায়। ঈশান দুই-য়েরই মিলন।
শিবের পাঁচটা রূপ আছে। প্রতিটি রূপে
পঞ্চতত্ত্ব– অগ্নি, জল, বায়ু , পৃথিবী ,
আকাশ , এক একটিকে বোঝায়। ঈশান — শিবের পঞ্চম রূপ, যা উপর দিকে চেয়ে থাকে এবং পঞ্চতত্ত্বের ‘আকাশ’ বোঝায়।

#বৌদ্ধ_ধর্মে,জাপানী বৌদ্ধ বিশ্বাস অনুযায়ী,ঈশান বা ঈশানাটেন [টেন’ (天) যা ‘দেব’-এর সাথে সমার্থক।] উত্তর-পূর্ব দিকের রক্ষক।

★তথ্যসূত্রঃ
[১] কাইতলা জমিদার বাড়ির ইতিহাস
নব সাহিত্যের পাতা সাময়িকী
প্রকাশকালঃ১৯৯৮ ইংরেজি।
[২] মাঠ পর্যায়ে ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা।

👍Copyright @এস এম শাহনূর
smshahnoor82@gmail.com
(তথ্য সংগ্রাহক,লেখক ও গবেষক)

 

যমুনা গ্রামের নামকরণের  ইতিকথা : এস এম শাহনূর

| ১৯ আগস্ট ২০১৯ | ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

কসবা উপজেলার যমুনা গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

এই পদ্মা, এই মেঘনা,
এই যমুনা সুরমা নদী তটে।
আমার রাখাল মন, গান গেয়ে যায়
এই আমার দেশ, এই আমার প্রেম
আনন্দ বেদনায়, মিলন বিরহ সংকটে।।
এই মধুমতি ধানসিঁড়ি নদীর তীরে
নিজেকে হারিয়ে যেন পাই ফিরে ফিরে
এক নীল ঢেউ কবিতার প্রচ্ছদ পটে।।
(গীতিকারঃ আবু জাফর)

কে দিল নদী গুলোর এত সুন্দর নাম? ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের দক্ষিণ- পশ্চিম কোণে পদুয়া নামে ছোট্ট একটি গ্রামের অবস্থান। এক সময় এখানে পুকুরে রাশি রাশি পদ্ম ফুল ফুটে থাকতো বলে পদ্ম পুকুরের নামানুসারে গ্রামের নাম হয় পদ্মা।এইতো মাত্র গত শতাব্দীর নব্বই এর দশকে কি যেন কি মনে করে গ্রামের শিক্ষিত লোকজন খাতা পত্র আর চিঠির ঠিকানায় পদ্মার পরিবর্তে গ্রামের নাম লিখতে শুরু করলেন পদুয়া। এই পদুয়া গ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন এক গ্রাম।নাম তার যমুনা।এটি কসবা উপজেলার ২নং মেহারী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। নদীর নামে গ্রামের নাম ভাবতেই ভালো লাগে।


আসলে কি তাই?না।এটি মোটেও তা নয়। তাহলে কেমন করে হলো যমুনা গ্রামের নামকরণ?
গবেষণা এবং বিভিন্ন নির্ভরশীল তথ্য হতে জানা যায়,যমুনা নদী কিংবা ঋগ্বেদে বর্ণিত যমুনা দেবীর নামেও এই গ্রামের নামকরণ হয়নি।যমুনা গ্রামের নামকরণের ইতিহাস খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরতে হবে ১৯৪৭ পূর্ব অবিভক্ত ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সমাজ ব্যবস্থার মূলে।সে সমাজে (এবং ভারতের বেশ কিছু উগ্রহিন্দুত্ববাদী প্রদেশে এখনও) বেদ বিশ্বাসী ভারতীয়দের কাছে বেদ-অবিশ্বাসী বিদেশি মাত্রই ছিল যবন।

বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত বাংলা থেকে বাংলা ব্যবহারিক অভিধানের ১০০৬ পৃষ্ঠায়, ‘যবন’ শব্দের অর্থ করা হয়েছে
১. গ্রিক দেশের লোক
২. মুসলমান
৩. ম্লেচ্ছ।
আর মালাউন শব্দের অর্থ করা হয়েছে,
১. অভিশপ্ত,
২. বিধর্মীদের উদ্দেশ্যে মুসলমানদের গালি।”

বাংলা অভিধানে “মালাউন” শব্দের অর্থ অভিশপ্ত। এই শব্দটি আসলে ইবলিসের জন্য। কিন্তু কিভাবে জানি এই শব্দটি অমুসলিমদের জন্য বরাদ্দকৃত গালিতে পরিণত হয়েছে। অতীতে মুসলমানদের যখন যবন, ম্লেচ্ছ বলে গালি দেওয়া হত তখন পাল্টা গালি হিসেবে হয়ত এর আবির্ভাব হয়।মুলতঃ যবন এবং মালাউন দুটোই গালি বিশেষ ব্যবহার হয়।

★যবন এবং মালাউন শব্দের অপপ্রয়োগ মানবতার বিসর্জনঃ

★যবন শব্দটির ব্যুৎপত্তি (যু + অন (যুচ)-ক);
★যবনঃ [জবোন্‌] একটি বিশেষ্য পদ। অর্থ-
১ প্রাচীন গ্রিক জাতি; আইওনিয়া (Ionia)- বাসী গ্রিক।
২ ম্লেচ্ছ।
৩ বিধর্মী।
৪ অহিন্দু; বিদেশি; মুসলিম,বর্বর, প্রভৃতি।

★পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত
‘নতুন বাঙালা অভিধানে’ ‘
যবন’ শব্দের অর্থ লেখা হয়েছে এ রকম-
‘যবন’ মানে
‘অহিন্দু জাতি বিশেষ,
ম্লেচ্ছ জাতি।
বিধর্মী,
অসদাচারী,
গ্রিস,
আফগানিস্তান,
আরব,
পারস্য প্রভৃতি দেশের
অধিবাসী।’
এরপর ‘কথিত আছে’ বলে অভিধানে
যা ঢুকানো হয়েছে তা হলো-
‘বলিষ্ঠের আশ্রমদ্রাহী বিশ্বমিত্রের সমস্ত সৈন্য পরাভূত
করার নিমিত্ত তার কামধেনু শবলার যোনিদ্বার হতে এ জাতি উৎপন্ন হয়।’ তাতেও যখন অভিধান প্রণেতা সন্তুষ্ট হতে পারেননি, তখন অভিধান লেখক
ধর্মের বুলি শুনিয়েছেন।
‘বিষ্ণু পুরাণে’ যবন জাতির অন্যাবিধ উক্তি আছে-
‘সগর রাজা কতগুলো লোককে গুরু
অপরাধের জন্য মস্তক মুণ্ডন করিয়া
ভারতবর্ষ হতে দূরীকৃত করে দেন;
তারাই পরে যবন নাম প্রাপ্ত
হয়েছে।’
অভিধানে ‘যবন’-এর পরের শব্দটি
যবনারি। এর অর্থ শ্রীকৃষ্ণ।
যবন+অরি= যবনারি। ‘অরি’ মানে শত্রু;
অতএব, কৃষ্ণও মুসলমানদের শত্রু।
সুতরাং হিন্দু জাতিকে মুসলমানদের শত্রু না সাজালে
কৃষ্ণভক্ত হওয়া যায় কী করে?

যবন বলতে মুলত মুসলমানদের বোঝায়। তবে যবন নিয়ে একটা হাস্যকর গল্প আছে মহাভারতে। “হিন্দু রাজা যবাতি একবার গোমেধ যজ্ঞ করেছিলো। কিন্তু তার অসংযমী পুত্র লোভ করে এক টুকরো গরুর গোশত খেয়ে ফেলে। তখন থেকেই পিতার অভিশাপক্রমে এই আগের ভ্রষ্টপুত্র হতেই গো-খাদক ম্লেচ্ছ বংশ আরম্ভ হয়। সাধারণের ধারণা, ওই গো খাদক মুসলমানরাই ওই স্লেচ্ছ বংশীয় যবন।’ (ইতিহাসের ইতিহাস, গোলাম আহমদ মোর্তজা)”

মালাউন শব্দের অর্থঃ
‘মালাউন’ শব্দটি আরবী শব্দ “ملعون” থেকে উদ্ভূত যার অর্থ ‘অভিশপ্ত’ বা ‘ঈশ্বরের অভিশাপ প্রাপ্ত’।হিন্দুদের মালাউন বলা হলেও শব্দটি আসলে মাল’উন। এটি আরবী শব্দ। কুরআন শরীফে শয়তানকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। এটি এসেছে লানত বা অভিশাপ শব্দটি থেকে। মুসলমান রাজারা যখন ভারতবর্ষে আসেন তখন হিন্দু রাজাদের বিরুদ্ধে তাদের সৈন্যসমূহ তো বটেই,তাদের তান্ত্রিকদের যাদু শক্তির বিরুদ্ধেও মোকাবিলা করতে হয়েছিল যা ইতিহাসে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। ইসলামে শয়তানকে মালউন বা অভিশপ্ত বলা হয়েছে। হিন্দুদের সাথে তান্ত্রিকতা, কালো জাদুর সম্পর্ক খুবই গভীর যা মূলত শয়তানি আচারের সাথে সম্পৃক্ত। সেই সূত্র ধরে অনেক আগে থেকেই ভারতবর্ষে মালাউন শব্দটা ব্যবহার হয় বলে অনেকে ধারণা করেন।
(The Arabic word “ملعون” (mal’un), literally meaning ‘cursed’ is derived from the root “لعنة” (la’nat) meaning ‘curse’. In Islamic parlance, it means ‘deprived of Allah’s mercy’. The word has been loaned into languages of non-Arabic Islamic countrieslike Malay and Indonesian.)

কাজী রফিকুল হক সম্পাদিত বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত অভিধানের বইয়ে আরবি মালাউন শব্দের অর্থ দেওয়া আছে
‘অভিশপ্ত’,
‘বিতাড়িত’ এবং ‘
শয়তান’।
আর ডক্টর মুহম্মদ এনামূল হক এবং শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী সম্পাদিত ‘বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান’ গ্রন্থে ‘মালাউন শব্দটির প্রথম অর্থ দেওয়া হয়েছে-
লানতপ্রাপ্ত,
অভিশপ্ত,
বিতাড়িত,
কাফের।
দ্বিতীয় অর্থ দেওয়া হয়েছে
‘শয়তান’ এবং
তৃতীয় অর্থ মুসলমান কর্তৃক ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোককে দেওয়া গালিবিশেষ।
অন্যদিক বহুভাষাবিদ, পন্ডিত ড. মু. শহীদুল্লাহ সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ এ ‘মালাউন শব্দের অর্থ দেওয়া হয়েছে
‘বিধর্মী’ এবং
‘অভিশপ্ত”।
এখন আমরা উপরের তিনটি অভিধান থেকে ‘মালাউন’ শব্দের অর্থ পাই মোট ৫ টি।
বিধর্মী,
অভিশপ্ত,
বিতাড়িত,
শয়তান,
কাফের,
মুসলমান কর্তৃক ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোককে দেওয়া গালিবিশেষ।
বাঙালি হিন্দুরা এই বঙ্গভূমিরই সন্তান। হিন্দুরা কোনমতেই অভিশপ্ত বা বিতাড়িত জনগোষ্ঠী বা শয়তান নয়। তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি হিন্দুবিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক মনস্ক মুসলমানরা ‘মালাউন’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে বিধর্মী, কাফের হিন্দুদের প্রতি গালি ছুড়ে দেয় (ড. এনামুল হক প্রণীত অভিধান অনুযায়ী — ‘মালাউন’শব্দের অর্থ হলো মুসলমান কর্তৃক ভিন্ন সম্প্রদায় কর্তৃক গালিবিশেষ)। এই ‘মালাউন’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যম তারা মগজে লালন করে সুপ্ত হিন্দুবিদ্বেষ।

★কবি নজরুল একসময় এদেশ তথা গোটা ভারতের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি দেখে অনেক তৃপ্তি নিয়ে লিখেছিলেন, ‘মোরা একই বৃন্তের দুইটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।এখন যদি তিনি বেঁচে থাকতেন তবে তাকে অনেক কষ্ট পেতে হত।লিখতে হত, ‘মোরা একই হালের দুইটি বলদ গো, হিন্দু-মুসলমান!!’
হ্যাঁ, এদেশ তথা গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি এখন অনেকটাই ষাঁড় কিংবা বলদের গুঁতোগুঁতিতে পর্যবসিত হয়েছে।

উগ্র ধর্মীয় মতবাদের কারণে ভাঙ্গা হয়েছে বাবরি মসজিদ,রামুতে বৌদ্ধ মূর্তি।মিয়ানমারে চলছে মুসলমানদের ওপর বৌদ্ধদের পরিকল্পিত গণহত্যা।ভারতের গুজরাটে দাঙ্গায় প্রাণ হারিয়েছে হাজারো মুসলিম,গরুর মাংস খাওয়ার ‘অপরাধে’ পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা এবং ধর্ষণ?শুধু মাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে মোটর বাইক চোর সন্দেহে ঝাড়খণ্ডে ২৪ বছর বয়সী তাবরেজ আনসারি নামক যুবককে ১৬ ঘন্টা ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ ‘জয় হনুমান’ বলিয়েও মুক্তি দেয়নি,নৃশংস ভাবে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করেছে কয়েকজন যুবক।বাংলাদেশে ১৯৯০, ১৯৯২ এর সাম্প্রদায়িক সহিংসতা? নাসিরনগরের ঘটনা? ধর্ম অবমাননার ধুয়ো তুলে কখনো চলছে লুটতরাজ?
আধুনিকতার স্বর্নশিখরে পৌঁছেও মানুষ বুঝে উঠতে পারেনি
“সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই(মধ্য যুগের বাংলা কবি-বড়ু চন্দীদাস)বাংলা ভাষার অনেক অমুসলিম কবি সাহিত্যিক তাদের লেখায় মুসলমানদের ক্ষেত্রে নানা কুৎসিত শব্দ প্রয়োগ করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের চরম ঘৃণা ও বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।মুসলমান শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে ওরা ক্ষেত্র বিশেষে ব্যবহার করেছেন যবন, ম্লেচ্ছ, পাতকী, পাষণ্ড, পাপিষ্ঠ, পাপাত্মা, দুরাত্মা, দূরাশয়, নরাধম, নরপিশাচ, বানর, নেড়ে, দেড়ে ধেড়ে, এঁড়ে, অজ্ঞান, অকৃতজ্ঞ প্রভৃতি শব্দ। এমন সব শব্দের ব্যবহার থেকেই ধারণা করা যায় যে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিন্দুরা কতটা বিদ্বেষভাব পোষণ করেন।

—কাজী নজরুল ইসলাম ‘মানুষ’ কবিতায় বলে উঠেন-
গাহি সাম্যের গান–
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান ,
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ
ধর্মজাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের
জ্ঞাতি।
——————
—————–

মানুষেরে ঘৃণা করি
ও’ কারা কোরান, বেদ, বাইবেল
চুম্বিছে মরি মরি
ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর
করে কেড়ে
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই
মানুষেরে মেরে ।

★সীমানাঃ
উত্তরে -জমশেপুর,বর্ণী, কালসার,মেহারী।
পূর্বে-খাড়েরা ইউনিয়নের দেলী গ্রাম
দক্ষিণে- পুরকুইল
পশ্চিমে -ঈশান নগর গ্রাম।

★এক নজরে যমুনা গ্রামঃ
এখানে রয়েছে-
১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
“যমুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়”।
১ টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল।
১ টি জামে মসজিদ।
৩ টি ওয়াক্তিয়া মসজিদ।
১ টি ঈদগাহ।
১ টি খেলার মাঠ।
১ টি বাজার।
-বেশ কয়েকটি কবরস্থান।
১ টি পরিত্যাক্ত মঠ।
২ টি ঐতিহাসিক পুকুর
‘সেনের পুকুর’ ‘তারা পুকুর’।

মোট জনসংখ্যা =৮০০০জন (প্রায়)
গ্রামের আয়তন =২.৮০ বর্গ কিলোমিটার(প্রায়)
পুরুষ ও মহিলার অনুপাত =৫২ঃ৪৮
শিক্ষার হার=৭৯%
দারিদ্র্যতার হার=১০%

★পেশাঃ
কৃষিজীবি=৩৫%
প্রবাসী =২৫%
চাকুরীজীবি =১৫%
ব্যবসায়ী =২০%
অন্যান্য =৫%

★গোষ্ঠী/গোত্র গুলোর নামঃ
ম্যাকাইভার ও পেজ এর মতে, “গোষ্ঠী বলতে আমরা বুঝি কোন সামাজিক ব্যক্তির সমষ্টি, যারা পরস্পরের সঙ্গে নির্দিষ্ট সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত।” গোয়ালী গ্রামে রয়েছে বেশ কিছু গোষ্ঠী।যারা নিজ নিজ গোত্রের গন্ডির মধ্যে থেকেও অপরাপর গোষ্ঠীর মানুষজনদ সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দীর্ঘকাল পাশাপাশি বসবাস করে চলেছে।কখনো কখনো অত্র জনপদের লোকজন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে পাড়া বা বাড়ি হিসাবেও নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন।গোত্র /গোষ্ঠী /পাড়া/বাড়ি গুলো হল-

১) পূর্ব পাড়া
২) পশ্চিম পাড়া(নতুন বাড়ি, পুরাতন বাড়ি)
৩)আদম গোষ্ঠী
৪) করিমের গোষ্ঠী
৫)পোখলা গোষ্ঠী
৬)হাজী বাড়ি(তালুকদার বাড়ি)
৭)খাঁ বাড়ি
৮)দক্ষিণ পাড়া
৯)মোল্লা বাড়ি
১০)সরকার বাড়ি

★যমুনা গ্রামের এক সময়কার প্রভাবশালী সেন পরিবারের পরিচিতিঃ

সুকুমার সেন গুপ্ত।তিনি ১৯৫৪ সালে মেহারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন।উনার পিতার নাম ছিল সয়ত্রী সেন গুপ্ত এবং তার পিতার নাম গোলক সেন গুপ্ত ছিল বলে জানা যায়।বহু আগে থেকেই যমুনা গ্রামের আশপাশের বেশকিছু তালুকের মালিক ছিলেন এ সেন পরিবার।এক সময় মুসলিম বিদ্বেষী কঠোর রক্ষনশীল এই সেন পরিবারের বৃদ্ধাঙুলির নির্দেশে গ্রামের সকল মানুষ উঠ্-বস্ করতে বাধ্য ছিলেন বলে জানা যায়।মূলতঃ ধর্মীয় বিভাজনের কারণে ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান পৃথক রাষ্ট্রে পরিনত হলে বাংলাদেশ থেকে হিন্দু সম্প্রাদায়ের অনেক লোক হিন্দুস্থানে পাড়ি জমায়।তবে স্থানীয় প্রভাব প্রতিপত্তি থাকায় যমুনা গ্রামের সেন পরিবার তখনো দেশ ছাড়ার চিন্তা করেননি।পরে ১৯৫৮ সালে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হলে সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সুকুমার সেন গুপ্ত তাদের তালুকগুলো নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে ভারতে চলে যান।

★গ্রামের প্রথম মুসলিম পরিবারের পরিচিতিঃ
রূপ কথায় এবং অনেক সময় প্রবীণদের মুখে সোনা ভর্তি ডেক,রূপা ভর্তি কলস,টাকা ভর্তি সিন্ধুক,হিরা-জহরতের থলি পেয়ে রাতিরাতি অনেক মানুষের আঙুল ফুলে গলাগাছ বনে যাওয়ার গল্প শোনা যায়।এমনই এক গল্পের সাথে মিল রয়েছে যমুনা গ্রামে প্রথম বসবাসকারী মুসলিম পরিবারের উত্থানের সাথে।
বহু বছর আগের কথা।কথিত আছে যে,চাটগাঁ(চট্টগ্রাম) জেলার বর্তমান কর্ণফুলি থানার ৩নং শিকল বাহা ইউনিয়নে শেখ মামুদ এবং শেখ আলী জান নামক দুই ভাই বসবাস করতেন।গল্প নয় সত্যি, কল্পনা নয় বাস্তবে এ দুই সহোদর একদিন দৈবক্রমে একটি সোনা/ টাকা ভর্তি কলস পেয়ে যান।আর এ খবর চারদিকে জানাজানি হওয়ার আগেই তারা সোনা/টাকা ভর্তি কলস সহ এলাকা ছাড়ার সিন্ধান্ত গ্রহণ করেন।কারণ,সে যুগে এ ধরনের খবর শুনা মাত্র রাজা মহারাজার পাইক বরকন্দাজগণ এসে তাদের প্রাপ্ত গুপ্তধন সহ সবাইকে ধরে শিকলে বেঁধে টেনে হেঁচড়ে রাজ দরবারে নিয়ে যেত।(আর বর্তমানে আপনি এমন গুপ্তধন পেলে আপনার বাড়িতে অফিস বসাবে দুদকের চৌকস কর্মকর্তাবৃন্দ!!)তাই দুই ভাই বিভিন্ন নির্জন পথে পায়ে হেটে এবং নৌকায় করে বিজনা নদীতে ভাসতে ভাসতে খেয়া ঘাটে (বর্তমান খেওড়া/খাড়েরা গ্রামে)এসে উঠেন।অতঃপর খাড়েরা ইউপির বর্তমান সোনার গাঁও নামক লোকালয়ে আশ্রয় নেন।শেখ মামুদ এখানকার এক স্থানীয় ঘরের কন্যাকে বিয়ে করে শ্বশুরালয়েই থেকে যান।কিন্তু বড় ভাই শেখ আলী জান তাদের পৈতৃক নিবাস দক্ষিনে চাটগাঁ ফিরে যান বলে জানা যায়।লোকে বলে,”প্রেম এবং আগুন লুকিয়ে রাখা যায় না”।আমি বলি গুপ্তধনের গোপনীয়তাও বেশী দিন গোপন থাকেনা।তাই সোনা/টাকা ভর্তি কলস নিয়ে এখানে বসবাসের কারণেই গ্রামের নাম সোনার গাঁও হয়েছে কি না তাও ভাববার অবকাশ রাখে।

★মরহুম শেখ মামুদ এর উত্তরসূরীগণ:
মরহুম শেখ মামুদ এর ছেলের নাম মরহুম শেখ চেরাগ আলী।
শেখ চেরাগ আলীর দুই ছেলে।
ছেলেদের নাম
মরহুম শেখ সুন্দর আলী তালুকদার

মরহুম শেখ জয়দুল হোসেন তালুকদার

মরহুম শেখ সুন্দর আলী তালুকদারের ছেলের নাম আবু তাহের তালুকদার।
মরহুম শেখ জয়দুল হোসেন তালুকদারের ছেলের নাম অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন তালুকদার (মতি)

★ঐতিহাসিক সেনের পুকুর ঘিরেই আজকের যমুনা গ্রামঃ
এক সময় সেনের পুকুর নামে পরিচিত পুকুরের উত্তর পাড়ে ছিল সেন বাড়ি।পুকুরের পশ্চিম দক্ষিণ কোণে ছিল আজকের তালুকদার বাড়ি।
দক্ষিণ এবং পূর্ব পাড়ে কোন বসতি ছিলনা বলে জানা যায়।

★বরেণ্য ও কৃতী ব্যক্তিত্বঃ

* সমরঙ্গ সেন গুপ্ত (আই সি এস)
তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস এ কর্মরত ছিলেন।

* মেজর জেনারেল গোলাম কাদের
তিনি মেজর জেনারেল পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ২০০৮ সালের ৮ ই জানুয়ারী তিনি (ফখরুদ্দিন আহমেদ এর নেতৃত্বাধীন) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

* ড. হারুনুর রশীদ
(খ্যাতিমান চিকিৎসক)।
* জনাব,মমিনুল হোসেন তালুকদার
(সাবেক কানুনগো)
* ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ সরকার
* জনাব এস এম সেলিম
(সহকারী কমিশনার)
*এসএম শাহীন
(সহকারি সচিব, জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়)।
* এডভোকেট মকবুল হোসেন তালুকদার
(সাবেক পিপি ও রাজনীতিবিদ)
* জনাব সিদ্দিক মাস্টার
(শিক্ষক ও সমাজ সংস্কারক)
* জনাব মো. হোসেন তালুকদার
(শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ)

★শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীঃ

*জনাব,মোঃ আবুল ফয়েজ
(মেহারী ওবায়দিয়া ফাজিল মাদ্রাসা)
*জনাব,সাবিহা সুলতানা
(খেওড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়)
*জনাব,মো. হোসেন তালুকদার(মানিক মাস্টার)
*জনাব,মোঃ সুমন মাস্টার
*জনাব,মোঃ খলিল উদ্দিন
*জনাব,ফারুক হোসেন
(গোপিনাথপুর আলহাজ্ব শাহআলম কলেজ)
*জনাব জাফরুল হোসেন তালুকদার
(কালসার নাঈমা আলম মহিলা কলেজ)

★বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীঃ

১) মো. মেহেদী হাছান – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২) বিল্লাল হোসেন- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
৩) নাজির হোসেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
৪) শাকিল ভূইয়া- আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

★যমুনা নামকরণঃ
গবেষণা ও বিভিন্ন নির্ভরশীল মাধ্যম থেকে সংগৃহীত তথ্য ও তত্ত্বের আলোকে চুলচেরা বিশ্লেষণের উপসংহারে প্রতীয়মাণ হয় যে, মুসলমানদের প্রতি হিন্দুদের চরম ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির উলঙ্গ বহিঃপ্রকাশের শেষ শব্দ #যবন”(এক প্রকার গালি)থেকেই যবনাই>যমুনা নামের উৎপত্তি।

★অন্য একটি তথ্যমতে, অত্র জনপদে প্রথম থেকেই যব মোহন নামে এক ব্রাহ্মণ বসবাস করতেন।যব মোহনের যব থেকে যবনাই এবং পরবর্তীতে তা যমুনা নাম ধারণ করে বলে অনেকের ধারণা।গ্রামের দক্ষিণে ভাবনার পুকুর নামে একটি পুকুর আজও সেই ব্রাহ্মণ পরিবারের অস্তিত্ব বহন করে চলেছে বলেও কেউ কেউ মনে করেন।

★যবন শব্দের গৌরবময় ইতিহাসঃ
হযরত নূহ(আ:) এর
১.শেম,
২.হাম ও
৩.যেফত
নামে তিজন পুত্র সন্তান ছিল। বন্যা বা মহা প্লাবনের পরে এই তিনজনের আরও বহু সন্তান সন্ততির জন্ম হয়।শেম, হাম ও যেফতের উত্তরপুরুষদের মধ্যে যেফত এর পুত্রগণ হল:
গোমর,
মাগোগ, মাদয়,
যবন,
তূবল,
মেশক এবং
তীরস|

যবনের পুত্রগণ হল:
ইলীশা,
তর্শীশ,
কিত্তীম এবং
দোদানীম| [১]

ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে যে সকল মানুষের বাস তারা সকলেই যেফতের সন্তানসন্ততি। প্রত্যেক পুত্রের নিজস্ব ভূমি ছিল। সমস্ত পরিবারই বৃদ্ধি পেতে পেতে একটি জাতিতে পরিণত হয়। প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ভাষা ছিল।ধারণা করা হয়,ভারতবর্ষে যেফতের উত্তরসূরী #যবনের উত্তর পুরুষদের বসবাস এবং ইসলামের বার্তা যবনের বংশধর থেকেই ছড়িয়ে পড়েছিল।বিষয়টি কুলীন হিন্দুরা জানত বলেই তারা যবন জাতিকে সহ্য করতে পারত না।

★তথ্যসূত্রঃ
[১]পবিত্র বাইবেল(কেরী ভার্সন)
Bangladesh Bible Society 2001

*বাংলা ব্যবহারিক অভিধান।।বাংলা একাডেমি।
*নতুন বাঙালা অভিধান।।পশ্চিমবঙ্গ-ভারত।
*’বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান’
*মহা ভারত
*বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান।
*ইতিহাসের ইতিহাস।।গোলাম আহমদ মোর্তজা
*রাজমালা।।কৈলাশ চন্দ্র সিংহ
*মাঠ পর্যায়ে ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা।

💻Copyright@এস এম শাহনূর
smshahnoor82@gmail.com
(উইকিপিডিয়ান,কবি ও গবেষক)

কসবা উপজেলার মেহারী গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

| ০১ জুলাই ২০১৯ | ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ

কসবা উপজেলার মেহারী গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মেহারী গ্রামের নামকরণের সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও এ কথা সত্য যে এটি একটি প্রাচীন গ্রাম। মেহারী একটি ঐতিহ্যবাহি কালি মন্দির অবস্থিত।এখানে প্রতি বছর মহা সমারোহে সনাতন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পূজা ও বটতলায় মেলা অনুষ্ঠিত হয়।বিশেষ সূত্র থেকে জানা যায়, মেহারী কালি মন্দিরের নাম অনুসারে তৎকালীন লালু গোসাই নামে একজন চেয়ারম্যান এতদ্ অঞ্চলের “ইউনিয়ন পরিষদের”নাম দেন মেহারী ইউনিয়ন পরিষদ।[১]

➤সীমানাঃ

পূর্বে:-বাদৈর ইউনিয়নের কালসার ও বর্ণী গ্রাম।পশ্চিমে:- রাজার খাল ও শিমরাইল গ্রাম।

দক্ষিণে:- যমুনা ও ঈশান নগর গ্রাম।

উত্তরে;- বল্লভপুর ও মূলগ্রাম ইউনিয়নের শেরপুর গ্রাম।

➤একনজরে মেহারী গ্রামঃ

২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
২ টি কিন্ডার গার্টেন
১ টি কমিউনিটি ক্লিনিক
১ টি ঈদগাহ মাঠ
১ টি মাজার
১ টি খেলার মাঠ
১ টি ফাজেল মাদ্রাসা
১ টি মহিলা মাদ্রাসা
১ টি ঐতিহ্যবাহী অতিথি ভবন
৬ টি মসজিদ(১টি কেন্দ্রীয় কেবিএম জামে মসজিদ)
৬ টি কবরস্থান(১টি বড় কবরস্থান)
২ টি শ্মশান
২ টি মন্দির
৩ টি মঠ
৪ টি ঐতিহ্যবাহী বটগাছ
অসংখ্য পুকুর ও ডুবা।

মোট জনসংখ্যা =৭০০০জন (প্রায়)
মোট ভোটার=৩১০০জন
গ্রামের আয়তন =৩.১০ বর্গ কিলোমিটার(প্রায়)
পুরুষ ও মহিলার অনুপাত =৫৩ঃ৪৭
শিক্ষার হার=৭৮%
দারিদ্র্যতার হার=৯%

➤পেশাঃ

কৃষিজীবি=৩৫%
প্রবাসী =২০%
চাকুরীজীবি =১৫%
ব্যবসায়ী =৩৫%
অন্যান্য =৫%

➤গোষ্ঠী/গোত্র গুলোর নামঃ

ম্যাকাইভার ও পেজ এর মতে, “গোষ্ঠী বলতে আমরা বুঝি কোন সামাজিক ব্যক্তির সমষ্টি, যারা পরস্পরের সঙ্গে নির্দিষ্ট সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত।” গোয়ালী গ্রামে রয়েছে বেশ কিছু গোষ্ঠী।যারা নিজ নিজ গোত্রের গন্ডির মধ্যে থেকেও অপরাপর গোষ্ঠীর মানুষজনদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দীর্ঘকাল পাশাপাশি বসবাস করে চলেছে।

✪ জমিরের গোষ্ঠী
[এটি গ্রামের সর্বপ্রাচীন গোষ্ঠী বলে মনে করা হয়।মাডৎ খন্দকার নামে এক ব্যক্তি যিনি এ বংশের প্রথম পুরুষ ছিলেন বলে লোকমুখে প্রচলিত আছে।]
✪ ভূঁইয়া গোষ্ঠী
✪ বশরুউদ্দির বাড়ি
✪ উত্তর মৌলভী বাড়ি
✪ দক্ষিণ মৌলভী বাড়ি
✪ গাজীর বাড়ি
✪ কলিম উদ্দিনের বাড়ি

➤বিশেষ ব্যক্তিত্বঃ

যুগে যুগে এখানে অনেক জ্ঞানী গুণী মানুষের জন্ম হয়েছে।তাঁদের তালিকা আমি লেখকের একার পক্ষে সংগ্রহ করা অসম্ভব। তবে নিজ গ্রাম,দেশ ও জাতির নিকট পরিচিত আমার সংগৃহীত কিছু সংখ্যক বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের তালিকা নিচে প্রদত্ত হল।

* জনাব মোঃ আব্দুস সুবহান
যাঁর নামে ঢাকার সুবহানবাগের নামকরণ করা হয়েছে।

* জনাব মোঃ ওয়ালিউল্লাহ
একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।

* জনাব জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং জাতীয় পার্টির রাজনীতিবিদ।তিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত ঢাকা -২২ এর সংসদ সদস্য (এমপি) এবং ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা -৭ এর সংসদ সদস্য ছিলেন।তিনি ঢাকা মহানগরের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বেও ছিলেন।জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল ৮৪ বছর বয়সে ১৩ নভেম্বর ২০১৪ইং সালে মারা যান।

* জনাব মোঃ আব্দুর রহিম
* জনাব,প্রফেসর আব্দুস সালাম
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান।
* জনাব মোহাম্মদ ফজলুল হক
* জনাব ডক্টর জাফর সিদ্দিকী(খসরু)
যুগ্ন সচিব(অব:)
* জনাব মোঃ ফায়জুল কবির
এসপি,
পুলিশ স্টাফ কলেজ,ঢাকা।
* জনাব মজিব আলম লিটন
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার,
নারায়ণগঞ্জ।
* জনাব শিমুল চন্দ্র সরকার
সহকারী অধ্যাপক,
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।
* জনাব মোঃ মনির হোসেন
সহকারী অধ্যাপক,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ।

➤জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা:

✪ মোঃ আলী আজম
পিতাঃ মৃত আব্দুল আলীম।
✪ আবুল খায়ের
পিতাঃ মৃত মন্তাজ উদ্দিন।
✪ ইউনুছ মিয়া
পিতাঃ মৃত আব্দুর রাজ্জাক।
✪ মোঃ শাহান উদ্দিন
পিতাঃ মৃত ফয়জুর রহমান।
✪ জাহের আলী
পিডাঃ মৃত আবুল ফয়েজ
✪ মোঃ ইয়াছিন
পিতাঃ মৃত আব্দুর রাজ্জাক
✪ আব্দুল মালেক
পিতাঃ মৃত আব্দুর রাজ্জাক
✪ আনু মিয়া
পিতা: মৃত আব্দুর রহমান
✪ আব্দুল লতিফ
পিতা: মৃত আবু জালাল
✪ বিশ্বদেব
পিতা: মৃত হরি মোহনদেব
✪ সৈয়দ হোসেন
পিতা: মৃত মোঃ মকবুল হোসেন
✪ আব্দুর রহমান
পিতা: মৃত আব্দু মিয়া
✪ শাহের আলী
পিতা: মৃত আবুল ফয়েজ
✪ বাচ্চু মিয়া
পিতা: মৃত আবু বকর মুদশী
✪ মোঃ হালেম
পিতা: মৃত সোনা মিয়া
✪ জাহাঙ্গীর আলম
পিতা: মৃত বজলুর রহমান
✪ মোঃ হুমায়ূন কবির
পিতা: মৃত আলী আহম্মদ
✪ আব্দুল করিম
পিতা: মৃত গফুর মিয়া
✪ ইউনুছ মিয়া
পিতা: মৃত আকরাম আলী হাজী
✪ ফজলুর রহমান
পিতা: মৃত কালা মিয়া

➤মেহারী গ্রামের প্রাচীন নাম কি ছিল?

মাঠপর্যায়ে ব্যক্তিগত ভাবে তথ্য সংগ্রহ কালে গ্রামে বসবাসকারী কিছু সংখ্যক সবজান্তা প্রবীণদের কাছ থেকে জানা যায়,এক সময় মেহারী বাজার থেকে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর পূর্ব দিকের লোকালয়কে মোহাম্মদ পুর বলা হত।পরে কোন এক সময় বাজারের পূর্ব এবং পশ্চিম পাশে বসবাসরত পুরো জনবসতিই মেহারী নামে আত্ম প্রকাশ করে।এ তথ্যের সত্যতার পিছনে লোকমুখে প্রচলিত কিছু কথামালা এখনো মুখ থেকে মুখে মুখরিত।ইতিহাসিক তথ্যমতে কালিদাস সাগরের বুকে খানে খানে চর জেগে জনবসতি গড়ে উঠে আর জলমগ্ন এ এলাকায় একসময় নৌকা বাইচ হত।মাঝি মাল্লারা ডোল বাজনার তালে তালে গায়েনের সাথে জারি গানে সুর মিলাত।চর দখলের মত নিজ আধিপত্য বিস্তারের জন্য হত মারামারি,লাঠালাঠি।এক গ্রামের লোকজন অন্য গাঁয়ের লোকজনকে কবিয়াল ভাষায় হাইর (জারি গান)গেয়ে ভর্ৎসনা করত।আমার সংগৃহিত নিন্মে লেখা এমনি এক হাইর থেকে মেহারী গ্রামের পূর্ব নাম মোহাম্মদ পুর বলে জানা যায়।

“ওরে শিকারপুর কোন সাহসে আইলি মোহাম্মদপুর,
হগল গোষ্ঠি বাইন্ধা রাখুম নিয়া মান্দারপুর,
পলাইবারও পথ নাইরে সামনে জমশেপুর।।”

➤মেহারী নামকরণঃ

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার মেহারী নামক গ্রামটি মেহারী ইউনিয়ন তথা কসবা উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গ্রাম। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের আগেও এখানে কয়েকশো বছরের পুরনো ইমারত ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। যা অনাদর আর অবহেলায় হারিয়ে গেছে।
ধারনা করা হয় সেন বংশের রাজত্বকালে এখানে মিহির চন্দ্র নামক একজন ধনী ব্যবসায়ী বাস করতেন।আশে পাশের দশ গ্রামের লোকজন তার বসবাস করা বাড়িকে মিহির বাড়ি বলে ডাকতেন।সেই “মিহির বাড়ি” নামটিই পরবর্তিতে লোকজনের মুখে মুখে ঈষৎ পরিবর্তিত হয়ে (মিহির বাড়ি>মেহার বাড়ি>মেহারী)মেহারী নাম ধারন করে।[২]

*অন্য এক তথ্যমতে,মেহারী, বর্ণী, কালসার এই তিন গ্রামের লোকজন কোন এক সময় একই পরিবার ভূক্ত ছিল।কিংবদন্তী আছে এ গ্রাম ও তার পার্শ্বর্তী গ্রামে প্রাচীণকালে কালে খা, বরুণ খা, মেহের খা এই তিন ভাই ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ উদ দৌলার পতন হলে যুদ্ধে হেরে গিয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে এ অঞ্চলে আশ্রয় নেন।
জানা যায়,মেহের খা,বরুণ খা ও কালন খা নামক একই পরিবারের তিন ব্যক্তির নামানুসারে যথাক্রমে মেহারীর নামকরণ… মেহের খা থেকে, বর্ণীর নামকরণ বরুণ খা থেকে, কালসারের নামকরণ, কালন খা থেকে হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

কালসার গ্রামের নামকরণের আরেক তথ্যঃ

লেখক শফিকুল ইসলাম ‘কালসার’ গ্রন্থে লিখেছেন শিরদাঁড়ায় কালো দাগ বিশিষ্ট এক প্রকার হরিণকে ডাকা হয় কালসার। এখান থেকে আমরা পাই কালসার নামকরণ। প্রায় ২/৩ শত বছর পূর্বে এ গ্রামটিতে গভীর জঙ্গল ছিল। তখন এখানে ডোরাকাটা হরিণ বিচরণ করত।সেই থেকে গ্রামের নাম হয় কালসার।![৫]

👍Copyright @এস এম শাহনূর
smshahnoor82@gmail.com
(তথ্য সংগ্রাহক,লেখক ও গবেষক)

➤তথ্যসূত্রঃ
[১] মেহারী ইউনিয়ন তথ্য বাতায়ন
[২] স্বর্গীয় বাবু সূর্যকান্ত সরকার
সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক
কাইতলা যঁজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়।
[৩] মরহুম প্রফেসর আব্দুস সালাম
সাবেক চেয়ারম্যান,মেহারী ইউপি।
[৪] ডাঃ মোঃ আলী আজ্জম
সভাপতি,মেহারী ইউপি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদ।
[৫] কালসার -শফিকুল ইসলাম
বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত ‘।
[৬] মাঠ পর্যায়ে ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা।

 

শিমরাইল গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

| ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

শিমরাইল গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহের তালিকায়”আনন্দ ভুবন” নামে পরিচিত রাজার খালের উপর নির্মিত ব্রীজের নান্দনিক হাতছানি

“ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মিনি পর্যটন
বল্লভপুর-শিমরাইলের মহা মিলন
নাম তার আনন্দ ভুবন।”


নৈসর্গিক সৌন্দর্য মন্ডিত আজকের “আনন্দ ভুবন”যেই প্রাচীন জনপদকে নতুন করে জনসম্মুখে নিয়ে এসেছে সেটি হচ্ছে কসবা উপজেলার ২নং মেহারী ইউনিয়নের অন্তর্গত বিশাল গ্রাম শিমরাইল।এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দীর্ঘতম ও বড় গ্রামগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি জনপদ।নূরনগর পরগনার এটেল মাটি সমৃদ্ধ যে নদীর দু’কূল আর তলদেশ;যে নদীতে সারা বছর জোয়ার ভাটা হয়। দাড় বাওয়া,গুণটানা,পাল তোলা নৌকা চলে।ঘোলাজল পলি বয়ে এনে উর্বর করে ফসলি জমি,কৃষকের মুখে ফোটায় সোনালী হাসি, সেই বুড়ি নদীর অববাহিকায় শিমরাইল গ্রামের অবস্থান।[১]

★সীমানাঃ
উত্তরেঃ রাজার খালের উপর নির্মিত ব্রীজের নান্দনিক হাতছানি “আনন্দ ভুবন”।
ও নবীনগর উপজেলা।
পূর্বেঃ বল্লভপুর,ঈশান নগর,চৌবেপুর,জাজিয়ারা গ্রাম।
দক্ষিণেঃ কুটি ইউনিয়ন।এবং
পশ্চিমেঃ বুড়ি নদী ও মুরাদ নগর উপজেলা।

➤এক নজরে শিমরাইল গ্রাম:
এখানে রয়েছে-
৪ টি প্রাইমারী স্কুল
১ টি হাই স্কুল
২ টি কিন্ডার গার্ডেন
৪ টি হাফেজিয়া মাদ্রাসা
১ টি দাখিল মাদ্রাসা
৪ টি কবরস্থান
২২ টি মসজিদ ও
২ টি বাজার।

মোট জনসংখ্যা =২০,০০০জন (প্রায়)
গ্রামের আয়তন =৬.৪০ বর্গ কিলোমিটার(প্রায়)
পুরুষ ও মহিলার অনুপাত =৫২ঃ৪৮
হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনসংখ্যা =২℅
শিক্ষার হার=৭৪%
দারিদ্র্যতার হার=১০%

➤পেশাঃ
কৃষিজীবি=৪৫%
প্রবাসী =১৫%
চাকুরীজীবি =২০%
ব্যবসায়ী =১৫%
অন্যান্য =৫%

গবেষণা ও বিভিন্ন নির্ভরশীল তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মেহারী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪,৫ ও ৬ এই তিনটি ওয়ার্ডের অধিপতি শিমরাইল গ্রামে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার লোকের বসতি। তবে এ গ্রামের গোড়া পত্তন হয় আজ থেকে(প্রায়) ৪৫০ বছর পূর্বে। এখানে এক সময় ছিল(প্রায়)১০ কি.মি.প্রশস্থ অথৈ জলরাশির কালিদাস সায়র।বিল বা হাওর শব্দটি সায়র (সাগর) থেকে এসেছে। বর্ষাকালে কুটি,হাতনি ও শিমরাইলের বিল বা হাওরগুলো এখনো সে রূপই ধারণ করে। সুদূর অতীতে এই কালিদহ সাগর উত্তরে সিলেট থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, যার উপর দিয়ে ১০১১ খ্রিষ্টাব্দে চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং জাহাজে করে সরাসরি তাম্রলিপ্ত থেকে সিলেট পৌঁছেছিলেন বলে তাঁর লেখা থেকে জানা যায়।আবার কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে,আনুমানিক ৭০০ বছর পূর্বে ত্রিপুরা(বর্তমান কুমিল্লা) রাজ্যের কিছু কিছু জায়গায় প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে পাহাড় ধ্বংস হয়ে কালিদাস সায়র(বা কালিদহ সাগরের)সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা যায়।

➤শিমরাইল নামকরণ:
কালের পরিক্রমায় কালিদহ সায়রের মাঝখানে সৃষ্টি হয় একটি লম্বা চর বা আইল। এ আইলকে অবলম্বন করে গড়ে উঠতে থাকে বসতি। সায়রের এক বিশেষ সীমা রেখা ধরে জনপদটি গড়ে উঠার কারণে নাম হয়েছিল “সিম আইল” যা কালক্রমে বিবর্তিত হয়ে সিমরাইল/শিমরাইল নাম ধারণ করে।

অন্য আরেকটি তথ্যের সাথে উপরোক্ত তথ্যের প্রমাণ মিলে,”বরদাখাত এবং নূরনগর পরগণার মধ্যবর্তী সীমানা ঠিক করার জন্য উভয় পরগণার অধিকর্তাগণ বুড়ি নদীর তীরে উত্তর দক্ষিণে লম্বালম্বি ভাবে জেগে উঠা চর বা আইল কে বরদাখাত পরগণার পূর্ব সীমানা এবং নূরনগর পরগণার পশ্চিম সীমানা হিসাবে চিহ্নিত করে। সীমানা নির্ধারণী এ আইল ই পরবর্তীকালে (সীম+আইল) সীমাইল বা শিমরাইল নাম ধারণ করে।”

➤নোটঃ
✪আইল সংস্কৃত আলি শব্দ হতে ব্যুৎপন্ন। যার অর্থ পানি ধরে রাখার নিমিত্তে মাটির বাঁধ।[২]
আইল একটি আঞ্চলিক বাংলা শব্দ, যার অর্থ হয় কৃষি জমির সীমানা প্রাচীর।সাধারণত যেসব জমিতে চাষ হয় সেসব খন্ড খন্ড জমির সীমানা নির্ধারিত হয় এই আইল দ্বারা। আইল মুলত জমির পাশে মাটির ঢিবী দিয়ে সরু লাইন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।

✪সীমানাঃ(বিশেষ্য পদ) সীমা, জমির প্রান্ত, চৌহদ্দি।

➤তথ্যসূত্রঃ
[১] ↑বুড়িনদীর আদি ও ইতি।।এস এম শাহনূর

[২ ] ↑বঙ্গীয় শব্দকোষ।। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

💻Copyright @এস এম শাহনূর
(উইকিপিডিয়ন,কবি ও গবেষক)

 

কসবার খেওড়া গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

| ০৬ জুলাই ২০১৯ | ৬:২৫ অপরাহ্ণ

কসবার খেওড়া গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

“কী যে তোমার চোখে লেখা আছে
দেখি যে তাই চেয়ে
ওগো খেয়ার নেয়ে!”

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর “খেয়া” কবিতায় খেয়া ঘাটের মাঝির চোখে যাহাই খুঁজুক আমি খেয়া’র মাঝে খোঁজে বেড়াই খেওড়া গ্রামের নামকরণ।
কবি কাজী নজরুল ইসলামের
খেয়া-পারের তরণী কবিতায়ও খুঁজি প্রত্যাশিত শব্দের আদি অন্ত।

“যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার

বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।”
(অগ্নিবীণা)

আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার খেওড়া গ্রামের রয়েছে এক আধ্যাত্মিক পরিচয়। বিশ্বে মানবিক সম্প্রীতির দূত হিসাবে পরিচিত মা দেবী শ্রী শ্রী আনন্দময়ীর(১৮৯৬ -১৯৮২)জন্ম ভিটা ও আশ্রম এই গ্রামেই।ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু,প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে তাঁর অগণিত ভক্তকুল সৃষ্টি হয়।এছাড়াও অত্র গ্রামের সুনাম যেসকল জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ছড়িয়ে পড়ছে উনাদের মধ্যে শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক মরহুম আলহাজ্ব নূরুল হক(১৯৩৬–২০১৪), জনাব,প্রফেসর মোঃ ঈদ্রিস; জনাব,প্রফেসর ডক্টর তাজুল ইসলাম; সাবেক ইউ.পি. চেয়ারম্যান শরীফ এ কে এম শামসুল হক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জনাব,নারায়ণ সাহা মনি উল্লেখযোগ্য।

👀এখানে রয়েছেঃ
১টি হাই স্কুল
২টি সরকারী প্রাইমারী স্কুল
১টি হাফেজিয়া মাদ্রাসা
১টি হাট/বাজার
৬টি মসজিদ
৭টি কবরস্থান
১টি মন্দির ও
১টি শ্মশান

এছাড়াও এখানে বেশকিছু ক্রীড়া,সাংস্কৃতিক ও সমাজ সেবামূল সংগঠন রয়েছে।এগুলোর মধ্যে
★আকাবা ফাউন্ডেশন ও
★লায়ন্স স্পোর্টিং ক্লাব
বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য।

👀প্রাচীনকালে এই অঞ্চলটি হরিকেন নামক জনপদের অংশ ছিল। বৌদ্ধ যুগে এ এলাকা ছিল সমতট রাজ্যভুক্ত। পরবর্তীকালে মুসলিম শাসনামলে এতদ অঞ্চল ৩টি পরগনায় বিভক্ত হয়।
কালক্রমে এই অঞ্চলটি ত্রিপুরা রাজ্যের জমিদার মহারাজা বীর বিক্রম রাধা কিশোর মানিক্য বাহাদুরের জমিদারের অংশে পরিণত হয়। এই জমিদারের চাকলা রৌশনাবাদ এষ্টেটের মোগড়া রাজকাচারী ও আখাউড়াস্থ তহশীল কাচারী ছিল বর্তমান আখাউড়া সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে। এই কাচারী দুটির মাধ্যমে এতদ অঞ্চলের জমিদারীর যাবতীয় খাজনাদি আদায়সহ জমিদারী ব্যবস্থা কার্যাদি পরিচালিত হত। মহারাজার জমিদারীর দ্বিতীয় রাজধানী ছিল কুমিল্লা।
কিন্তু ইংরেজ শাসনামলে অত্র অঞ্চল কসবা থানার অন্তর্গত ছিল। এই সময় একটি পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হত।

♦খেওড়া গ্রামের নামকরণঃ
ঐতিহাসিক তথ্য উপাত্ত থেকে পাওয়া যায় প্রাচীনকালে অত্র অঞ্চল ছিল জলমগ্ন যা কালিদহ সায়র বা কালিদাস সাগর নামে অভিহিত। আর এ কালিদহ সায়রের বুকে জেগে উঠা ছোটছোট চরগুলোতেই পরবর্তীতে আস্তে আস্তে জনবসতি গড়ে উঠে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার অন্তর্গত আজকের খেওড়া নামক ঐতিহাসিক গ্রাম খানা(কালিদহ সায়রের বুকে জেগে উঠা চর) একসময় নূরনগর পরগণার একটি ব্যস্ততম খেয়া ঘাট ছাড়া আর কিছুই ছিলনা।বর্তমান ভারতের আগরতলা কিংবা ত্রিপুরা তথা নূরনগর পরগণা থেকে বরদাখাত পরগণার সাথে জল পথে যাতায়তের জন্য এ খেয়া ঘাট নদী বন্দর হিসাবে ব্যবহৃত হত।(কালিদহ সায়রের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে শেষ পরিচয় সর্পিলাকার রাজার খালের জলযানের খেয়া ঘাট হিসাবেও ইহা বহুকাল ব্যবহৃত হয়েছে।)গায়ের অশিক্ষিত আর অর্ধ শিক্ষিত মানুষের মুখে এ খেয়া ঘাটের উচ্চারণ শোনা যেত খেওয়া (খেওয়া পাড় বা খেওয়া ঘাট)।যা পরবর্তীতে খেওয়া থেকে খেওড়া নাম ধারন করে।

👀গবেষণায় জানা যায়,জলমহাল আর খেয়াঘাট তদারকি করার জন্য চাকলা রৌশনাবাদ এস্টেট এর মোগড়া রাজকাচারীর অধীনে এখানে উচু স্থানে বসানো হয় রাজচৌকি। এক সময় এই চৌকির পাশে গড়ে উঠে ফুল,ফল আর ফসলের বাগ(বাগান)।[লোকমুখে শোনা যায় কোন এক সময় এখানে বড় বড় গাছে আচ্ছাদিত গহীন জঙ্গল ছিল।রাতে তো দূরের কথা দিনের আলোতেও কেউ ভয়ে জঙ্গলে যেত না] এখান থেকে ফুল ফল আর সুগন্ধি শস্যাদি উপহার হিসাবে কিশোর মানিক্য বাহাদুরের রাজ দরবারে পেশ করা হত বলে চৌকির নাম হয় রাজার বাগ।পুরাতন দলিল দস্তাবেদ ঘেটেঘুটে জানা যায়,খেওড়া মৌজার রাজারবাগ তালুকের শেষ মালিকানা ছিল কৈলাস চন্দ্র দাস নামক এক তালুকদারের। ধারনা করা হয় তার অন্তত সাত পুরুষ আগে থেকেই পারিবারিক সূত্রে এ মালিকানা তিনি পেয়ে এসেছিলেন।খেওড়া গ্রামের সবচেয়ে বড় জলাধার”কৈলাস দীঘি” নামে তার স্মৃতি আজও বহন করে চলেছে।
👀তিনি অছি মাহমুদ নামক একজন মুসলিম ব্যক্তিকে অত্র তালুকের খাজনাদি পরিশোধের জন্য নিয়োগ দেন।১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ করে। কিন্তু হিন্দুরা মনে করে এই বঙ্গভঙ্গ হলে হিন্দু জমিদাররা তাদের ক্ষমতা হারাবে, আর মুসলমানদের উন্নতি হয়ে যাবে। এই তত্ত্ব থেকে হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতা করতে থাকে। ঐ সময় বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের নেতা ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকীর নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উল্লাস কর দত্তও ছিলো। এ বিরোধীতায় ক্ষুদিরামের ফাঁসি হয়, উল্লাস কর দত্তকে দেয় আন্দামানে নির্বাসন।তখন বঙ্গে থাকা বহু হিন্দু পরিবার ভারতে পাড়ি জমায়।এই স্রোতের গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে কৈলাস চন্দ্র দাস অছি মাহমুদের নিকট রাজারবাগ ও আশ পাশের অধিকাংশ ভূসম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর করে ভারতে চলে যান।
অন্য এক নির্ভরশীল তথ্যমতে জানা যায় অছি মাহমুদের পিতা একমাত্র মুসলিম ব্যক্তি যিনি কোন এক সময় স্বপরিবারে পাঁচ পুত্র
১।অছি মাহমুদ
২।সরব আলী
৩।মব আলী
৪।ছোবালী
৫।কাসেম আলী সহ
কসবা থানার দেলী গ্রাম থেকে প্রথম খেওড়া গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন।ওনার পরবর্তী প্রজন্মসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা প্রায় বিশটি গোত্রের এক অবিচ্ছেদ্য সামাজিক বন্ধন আজকের খেওড়া গ্রাম।

বিশেষ নোটঃ
♦খেয়া [খেয়া]
{(তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) ক্ষেপ>, (প্রাকৃত) খেঅ>}
১। নৌকাদি দ্বারা নদী পারাপার।
২। নদী পারাপারের নৌকা; গুদারা।

👀ঘাট (বিশেষ্য পদ) পুকুর নদী প্রভৃতি জলাধারে অবতরণ স্থান।

👀খেয়াঘাট (বিশেষ্য) যে স্থান থেকে নৌকাযোগে নদী পারাপার হওয়া যায় পারঘাট (প্রভু নি দেখিছ খেয়া ঘাটে-বিজয় গুপ্ত)।

👀খেয়া কড়ি (বিশেষ্য) নদী পার হওয়ার জন্য দেয় মাশুল বা অর্থাদি

👀খেয়া দেওয়া (ক্রিয়া) খেয়া নৌকায় পারাপার করা।

👀খেয়া নৌকা, খেয়াতরী (বিশেষ্য) নদী পারাপার করার নৌকা; ferryboat।

👀খেয়াপার (বিশেষ্য) নৌকাযোগে নদীর এক পার থেকে অন্য পারে গমন।

👀খেয়ামাঝি (বিশেষ্য) যে মাঝি খেয়ানৌকা চালায়।

👀খেয়ারি, খেয়ারী (বিশেষ্য) যে মাঝি নদী পারাপার করে; ferryman।

👍Copyright @এস এম শাহনূর
smshahnoor82@gmail.com
(তথ্য সংগ্রাহক,লেখক ও গবেষক)

কৃতজ্ঞঃ
👍প্রকৌশলী সামিউল হক সুমন
(Lecturer),
AIUB Continuing Education Center.CISCO.
Network Engineer at American International University in Bd.

 

কসবা উপজেলার বামুটিয়া গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

| ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ১:০৪ অপরাহ্ণ

কসবা উপজেলার বামুটিয়া গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

বামুটিয়া নামকরণের গৌরবময় ভাবার্থ অনুধাবন করতে হলে আপনাকে আমাদের মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের “কুলি-মজুর” নামক কবিতার মর্মার্থ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে হবে।ডুব দিতে হবে ভাবনার মহাসাগরে।আজকের শহুরে জীবনে অভ্যস্ত অতি আধুনিক নাগরিকদের ৯৮℅লোকই একসময় গ্রামের বাসিন্দা ছিল।এমন কি আমি লেখকও বল্লভপুর গ্রামের বাঁশের বেড়ার ঘরে মাটির মেঝেতেই জন্ম গ্রহণ করেছি।অদের খালের কাদাজলে,জুগি পুকুরের শ্যাওলা ভরা পানিতে লুটোপুটি খেয়ে কেটেছে শৈশব ও কৈশোর।আমার দৃঢ বিশ্বাস “কুলি-মজুর” নামক কবিতায় সেরা শব্দ গুলোর অন্যতম একটি শব্দ আজকের বামুটিয়া গ্রামবাসীকে দিবে নতুন এক পরিচয়।এই পরিচয় গর্বের, এই পরিচয় মানবিকতার, এই পরিচয় অহংকারের। কোন সেই শব্দ যা যুগযুগ ধরে বামুটিয়া নামের সুরভী বিলিয়েছ চলেছে?

➤”আসিতেছে শুভদিন,
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ!
হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়,
পাহাড়-কাটা সে পথের দু’পাশে পড়িয়া যাদের হাড়,
তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, #মুটে ও কুলি,
তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি;
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান,
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!
—————————————————


————————————————–
একের অসম্মান
নিখিল মানব-জাতির লজ্জা-সকলের অপমান!
মহা-মানবের মহা-বেদনার আজি মহা-উত্থান,
উর্ধ্বে হাসিছে ভগবান, নীচে কাঁপিতেছে শয়তান!”

চলুন আরো কিছু জানি।
➤”আমি কবি কামারের
আর কুমোরের
আমি কবি যত #মুটে
মজুরের।”
—প্রেমেন্দ্র মিত্র
[কালি কলম পত্রিকায় প্রকাশিত]

➤১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিঝরা দিন গুলোতে রথীন্দ্রনাথ রায়ের কন্ঠে গাওয়া জাগরণের গান–
চাষাদের, #মুটেদের, মজুরের ।।
গরিবের নিঃস্বের ফকিরের
আমার এ দেশ সব মানুষের, সব মানুষের।।
(–খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়া)

✪ মুটিয়া, মুটে এর বাংলা অর্থ:

★ব্যুৎপত্তিঃ [বাং. মোট + ইয়া এ]

মুটিয়া, মুটে একটি বিশেষ্য পদ।
এর বাংলা অর্থ হলো – মজুর,মোট বহনকারী,দরিদ্র শ্রমিক,দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ (‘আমি কবি কামারের মুটে-মজুরের’: প্রেমেন্দ্র)

➤এক নজরে বামুটিয়া গ্রাম:

গ্রামের আয়তন (প্রায়): ১০৪ বিঘা
(দৈর্ঘ্য ১৫০০ ফুট × প্রস্থ ১০০০ ফুট)
মোট জনসংখ্যা (প্রায়): ১০০০ জন, .
মোট ভোটার: ৪৬০ জন,
পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ৫৫ঃ৪৫
প্ররাসীর সংখ্যা =৫৫ জন
শিক্ষার হার=৮০%
দারিদ্রতার হার=১২%
মুসলিম=১০০℅

➤এছাড়া এখানে রয়েছে-
২ টি মসজিদ
(বামুটিয়া বাইতুম আমান মসজিদ।অন্যটি বামুটিয়া ভূঁইয়া বাড়ীর বাইতুল উমর মসজিদ)।

২ টি কবর স্থান
(একটি বামুটিয়া গ্রামের কবরস্থান অন্যটি বামুটিয়া ভূঁইয়া বাড়ী পারিবারিক কবরস্থান)।

➤পেশাঃ
কৃষিজীবি=৪৫%
প্রবাসী =০৫%
চাকুরীজীবি =১০%
ব্যবসায়ী =১৫%
অন্যান্য =২৫%

➤গোষ্ঠী বা গোত্র গুলোর নাম:
ভুঁইয়া বাড়ি,
মৌলভি বাড়ি,

➤সীমানাঃ
✪ উত্তরে- খেওড়া গ্রাম,
✪ পূর্বে- খাড়েরা ইউপির সোনারগাঁও,
✪ দক্ষিণে-খাড়েরা ইউপির বুগীর গ্রাম,
✪ পশ্চিমে -চৌবেপুর গ্রাম,

➤বামুটিয়া থেকে সৈয়দাবাদঃ
সৈয়দাবাদ গ্রামের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণপুরুষ জনাব,মরহুম এবি ছিদ্দিক প্রায় পাঁচ দশক আগে ১৯৬৯ সালে এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে “সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয়” নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।যা আজ সৈয়দাবাদ সরকারি কলেজ নামে পরিচিত। তৎকালীন সময়ে এটিই ছিলো উপজেলার একমাত্র কলেজ। বিশেষ সূত্র থেকে জানা যায় ওনার পূর্ব পুরুষরা এক সময় বামুটিয়া থেকে সৈয়দাবাদ গ্রামে চলে আসেন।

➤বিশেষ ব্যক্তিবর্গের নামের তালিকা:
* পীরে কামেল হযরত মাওলানা রুহুল আমিন।
* মরহুম জৈনুদ্দিন ভূঁইয়া
[তিনি বামুটিয়া গ্রাম থেকে বহুকাল আগে শিমরাইল গ্রামে চলে আসেন।তাঁর পুত্র মরহুম রহিম উদ্দিন ভূঁইয়া। যিনি মেহারী ইউ’পির প্রেসিডেন্ট ছিলেন।তাঁর পুত্র মরহুম সলিমউদ্দীন ভূঁইয়া।তাঁর পুত্র হাজী মোঃ শাহজাহন ভূঁইয়া (সাজু মেম্বার)]

* মরহুম তাজুল ইসলাম (ডিলার)
* মরহুম আব্দুর নূরু মেম্বার
* মরহুম আব্দুল গণি মাষ্টার
* মরহুম আব্দুল জলিল মিয়া।

➤বামুটিয়া গ্রামের শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীদের নামের তালিকাঃ

✪ অধ্যাপক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
(বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট )
✪ মাওলানা আব্দুল অহাব ভূঁইয়া
( সাবেক হেড মাওলানা কুটি অটল বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়)।
✪ মরহুম আব্দুল গনি মাষ্টার ভূঁইয়া
(সাবেক ইংরেজি শিক্ষক দেলি পাতাইসার উচ্চ বিদ্যালয়)।
✪ মরহুম নায়েব আলী মাষ্টার ভূঁইয়া
✪ মরহুম আব্দুল হেকিম মাষ্টার ভূঁইয়া

➤বামুটিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকাঃ
* বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোঃ সেলিম
(সাবেক সদস্য সচিব কসবা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ),
* বীর মুক্তিযোদ্ধা অবঃ পাপ্ত সুবেদার মরহুম শরাফুল ইসলাম (হুমায়ুন),
* বীর মুক্তিযোদ্ধা অবঃ পাপ্ত সেনাবাহিনী মরহুম আব্দুল আওয়াল,
* বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোঃ আবু হানিফ,
* বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নাছের,
* বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দিন (সুরুজ মিয়া),
* বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আবু হাসান,
* বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আবু ছায়েদ মিয়া।

➤সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বঃ
* জনাব, মোঃ ফজলুল হক নান্নু মিয়া
* জনাব, মোঃ ফোরকান আহম্মদ বাদল মিয়া
* জনাব, মোঃ লেলিন মিয়া
* জনাব, হাজী মোঃ শামসুল আলম
(আমেরিকান প্রবাসী)
* জনাব, মোঃ আবু কাউছার ( ফুড অফিসার )
* জনাব, মোঃ আনিছুর রহমান প্রমুখ।

➤তারুণ্যের প্রিয়মুখঃ
✪ এম আই মনির ভূঁইয়া
[তিনি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গ্রামের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।এছাড়া এলাকার মানুষের মতামত নিয়ে যেটি জানতে পারি, বামুটিয়া গ্রামের সকলের সহযোগিতা নিয়ে বর্তমানে বামুটিয়া গ্রাম কে কসবা উপজেলার সকলের কাছে পরিচিত করানোর জন্য যিনি বিভিন্ন ভাবে ব্যানার ফেস্টুনের মাধ্যমে গ্রামের নামটিকে হাইলাইট করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি বামুটিয়া গ্রামের এই কৃতি সন্তান জনাব এম আই মনির ভূঁইয়া।]

➤এছাড়াও বামুটিয়া গ্রামে সেনাবাহিনীর মেজর, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর , ডাঃ , ইঞ্জিনিয়ার বাংকের চাকুরী জীবি, সরকারী বেসরকারী ভাবে বিভিন্ন স্হানে বহু কৃতি সন্তান সন্মানের সাথে চাকুরী রত অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা যায়।এই গ্রামের পরিবেশ খুবই ভাল। সামাজিক ভাবে একে অপরের সাথে ভালভাবে মিলেমিশে চলেন এবং একে অপরের বিপদে আপদে উপকার করে থাকেন।।

সুপ্রিয় পাঠক ইতোমধ্যেই বামুটিয়া গ্রামের অনেক তথ্য আমরা নিশ্চয়ই জেনে গেছি।এবার চলুন মনে মনে বাংলা ফোক গানের এক দুটো লাইন গেয়ে নিই।

#বামন হইয়া চাঁদের পানে হাত বাড়াইলাম
আমি একী করিলাম তারে মন সপিলাম।
অথবা
#বামন হইয়া চাঁদের পানে হাত বাড়াইওনা
বন্ধু আমার আসমানের চাঁদ ধরা দিলিনা।

ত চালুন এবার #বামন শব্দ সম্পর্কে কিছু জ্ঞান আহরণ করি।
➤বামন শব্দটিকে যখন বিশেষ্য পদ হিসাবে বুঝায় তখন বাংলা অভিধানে এর অর্থ দাঁড়ায় —
১. বিষ্ণুর পঞ্চম অবতার/বিষ্ণু পঞ্চম অবতার বামনরূপে দৈত্যরাজ বলিকে দমন উদ্ধার করেন;[১]
২. পন্ডিতবিশেষ;
৩. দক্ষিণদিকের হস্তী।

➤ আবার একই শব্দ বামন শব্দটিকে যখন বিশেষণ পদ হিসাবে বুঝায় তখন বাংলা অভিধানে এর অর্থ দাঁড়ায় –
অস্বাভাবিক রকমের বেঁটে লোক (বামন হয়ে চাঁদ ধরতে যাওয়া)।

➤ব্যুৎপত্তি: [সং. √ বামি (√ বম্ + ণিচ্) + অন]।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণ বলতে বুঝতে হবে–
১. হিন্দু চতুর্বর্ণের শ্রেষ্ঠ বর্ণ (পূজায় বামুনের অধিকার);
২. পুরোহিত প্রভৃতি;

[প্রাকৃ. বম্ভণ < সং. ব্রাহ্মণ]।

➤বামুটিয়া নামকরণ:
এ জনপদে কোন এক সময় বামন (অতি কায় বেঁটে) আকৃতির এক শক্তিশালী মুটে/মুটিয়ার আবাস ছিল বলে জানা যায়। তাঁর সততা ও কঠোর কর্মনিষ্ঠার কারণে লোকমুখে বামন এবং মুটিয়া শব্দদ্বয় সংকোচিত হয়ে বামুটিয়া নাম ধারণ করে বলে ধারণা করা হয়।

➤পাদটীকাঃ
[১] ↑ মৎস্যপুরাণ । ২৪৪-২৪৬ অধ্যায়। বেদব্যাস। অনুবাদ পঞ্চানন তর্করত্ন। নবভারত পাবলিশার্স। ১৪০৬।
[২] ↑ নামকরণের ইতিকথা।। এস এম শাহনূর
[৩] ↑ মাঠ পর্যায়ে ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা।
[৪] ↑ কবি নজরুল রচনাবলী।
[৫] ↑ বাংলা সাহিত্যের আঞ্চলিক অভিধান।

💻Copyright@ এস এম শাহনূর
smshahnoor82@gmail.com
(তথ্য সংগ্রাহক,লেখক ও গবেষক)

 

কসবা উপজেলার পুরকুইল গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

| ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৭:১৯ অপরাহ্ণ

কসবা উপজেলার পুরকুইল গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলাধীন ২নং মেহারী ইউনিয়নের অন্তর্গত দ্বীনের পতাকাবাহী এক নিভৃত জনপদ পুরকুইল গ্রাম।আমার জন্মের পূর্ব থেকেই এ গ্রামের প্রতি রয়েছে এক ভালবাসার টান।কারণ আমার মরহুম পিতা মাস্তান হাজী আব্দুল জব্বার বল্লভপুরী (রহ.) এবং পুরকুইল দরবার শরীফের পীর যুগের অন্যতম আলেম হযরত মাওলানা মরহুম আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান(রহ.) পীর সাহেব, ওঁনারা ছিলেন গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আলেম পীর প্রফেসর আব্দুল খালেক ছতুরাভী (রহ) এর মুরিদ ও পীর ভাই।ছতুরা দরবার শরীফ,সোনাকান্দা দরবার শরীফ,মাছিহাতা দরবার শরীফ, আড়াইবাড়ি দরবার শরীফ ও পাক হাজীপুর দরবার শরীফে মাস্তান হাজী আব্দুল জব্বার (রহ.) হরহামেশা যাওয়া আসা করতেন। একই মুর্শিদের মুরিদ হলেও হাফেজ হযরত মাওলানা আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান(রহ.)স্বীয় পীর মুর্শিদ কর্তৃক তায়াজ্জুহ ও ফয়েজপ্রাপ্ত হয়ে হলেন পীর আর আলহাজ্ব আব্দুল জব্বার (রহ.)স্বীয় পীর মুর্শিদ কর্তৃক তায়াজ্জুহ ও ফয়েজপ্রাপ্ত হয়ে হলেন মদীনার আশিক ও মাস্তানা।যুগের অন্যতম আলেম হযরত মাওলানা মরহুম আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান(রহ.) পীর সাহেবের পদধূলিতে ধন্য হয়েছে পুরকুইল গ্রাম। এ গ্রামের মাটিতেই তিনি চির নিদ্রায় শায়িত আছেন।কিন্তু কোন সেঁ পীর মুর্শিদ কর্তৃক তায়াজ্জুহ ও ফয়েজপ্রাপ্ত হয়ে ধন্য হলেন হাফেজ মাওলানা মরহুম আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান(রহ.) পীর সাহের?ধন্য হলো পুরকুইল গ্রামবাসী?

পীর ও আধ্যাত্নিক শিক্ষক,ফুরফুরা শরীফের মুজ্জাদিদে যামান আবু বকর সিদ্দিক (রঃ) এর খিলাফাত প্রাপ্ত প্রাজ্ঞজনদের মধ্যে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (র), হযরত নেসারুদ্দীন আহমাদ (রঃ),রুহুল আমিন বর্ধমানী (রঃ), সদরুদ্দীন আহমাদ শহীদ (রঃ) ও পীর প্রফেসর আব্দুল খালেক (রঃ) ছিলেন অন্যতম। ইংরেজি শিক্ষিত সমাজে দ্বীন প্রচারের জন্য ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (রঃ) ও তাঁর পীরভাই পীর প্রফেসর আব্দুল খালেক (রঃ) স্বীয় পীর মুর্শিদ কর্তৃক তায়াজ্জুহ ও ফয়েজপ্রাপ্ত হয়ে বিশেষ দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন।

পীর প্রফেসর আব্দুল খালেক (রঃ) প্রণীত “সেরাজুস সালেকীন” “সায়্যিদুল মুরসালীন”, বোখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফতহুল বারী রচয়িতা হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীর (র) মুনাব্বেহতের বাংলা অনুবাদ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তার রচিত গুনচা-ই-ফারসী প্রথম খন্ড, দুররাতুল আদাব ২য় খন্ড, সহজ আরবী ব্যাকরণ মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠ্যসূচীর অর্ন্তভূক্ত ছিলো।তৎকালীন যুগে ফারসী ও আরবী তে এম,এ ফাষ্টক্লাস ফাষ্ট (গোল্ড মেডেলিষ্ট)। কুতুবুল ইরশাদ পীর প্রফেসর আবদুল খালেক (র) এর খলিফা ও মুরিদদের মধ্যে উল্লখেযোগ্য ছিলেন প্রথম খলিফা ইমামুত্ব তরিক্বত শায়খ সায়্যিদ বোরহানুদ্দীন উয়েসী (র)। প্রায় ২৫ জন অন্যান্য খলিফা বৃন্দের মধ্যে সূফী খোন্দকার আবদুল জব্বার (র), অধ্যাপক এম.এফ.এম আবদুল আযীয (র), সূফী ফাতেহ আলী (র), সূফী সিদ্দিক আহমদ খান (র.),ও বিশিষ্ট মুরিদ মুসলিম রেঁনেসার কবি ফররুখ আহমদ (র.) প্রমুখ উল্লখেযোগ্য।কবি তার সিরাজুম মুনীরা কাব্যগ্রন্থ তার মুর্শিদ পীর প্রফেসর আবদুল খালেক সাহেবকে (র) উৎসর্গ করেছিলেন।

তিনি ১৯৫৫ সালের ২ এপ্রিল ৬৩ বছর বয়সে মাওলার সান্নিধ্যে চলে যান।(জন্ম-১৮৯২ ইং সালের ২৪ আগষ্ট,) ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন বায়তুল মোকাররমের প্রথম খতীব আওলাদে রাসূল মাওলানা মুফতী আমীমুল এহসান মুজাদ্দেদী (র) এর ইমামতিতে শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক, মাওলানা আবদুল হামীদ খান ভাসানী সহ সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক গণ্য মান্য ব্যক্তিবর্গ তাঁর জানাজার নামাজে শরীক হন।

➤এক নজরে পুরকুইল গ্রাম:

গ্রামের আয়তন (প্রায়): ১৪০ বিঘা
(মোট জনসংখ্যা (প্রায়): ১৭০০ জন, .
মোট ভোটার: ৯০০ জন,
পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ৫৫ঃ৪৫
প্ররাসীর সংখ্যা =৬২জন
শিক্ষার হার=৮৩%
দারিদ্রতার হার=১১%

➤এছাড়াও এখানে রয়েছে –
১ টি ফাযিল মাদ্রাসা(এবতেদায়ি সহ)।
যার প্রতিষ্ঠাতা যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম পীরে কামেল মুর্শিদে মোকাম্মেল আলহাজ্ব হযরত মাওলানা হাফেজ হাবিবুর রহমান (রঃ)পীরসাহেব।
৩ টি মসজিদ।
২ টি ঈদগাহ ।
১ টি বড় মাঠ মাদ্রাসায়(খেলার জন্য নয়, মাহফিল ও ইসলামি জলসার জন্য)।
১ টি ছোট বাজার (মোড় সংলগ্ন)।
৪ টি কবরস্থান (বাড়ির আশেপাশে বেশ কিছু পারিবারিক কবরস্থানও আছে)।
১৮ টি.পুকুর (ছোট বড়)
১ টি বড় দিঘী। (গ্রামের দঃ পশ্চিমে,নাম চুছলার পুকুর)।

➤সামাজকল্যাণ মুলক সংগঠন।

ক. আলহাবিব সোসাইটি।
খ. ড্যাফোডিল অর্গানাইজেশন।
গ. হাজী হাউজ গ্রুপ লিঃ

➤পেশা:

কৃষিজীবি=৪৭%
প্রবাসী =০৫%
চাকুরীজীবি =১১%
ব্যবসায়ী =১৪%
অন্যান্য =২৬%

➤সীমানা:

উত্তরে -যমুনা গ্রাম।
পূর্বে-খেওড়া গ্রাম।
দক্ষিণে- বাহারআটা,তিলারপাড়, চৌবেপুর গ্রাম।
পশ্চিমে – ঈশাননগর গ্রাম।

➤বরেণ্য ও গুণী ব্যক্তিগণের নামের তালিকা:

✪ হাদিয়ে জামান কুতুবুল আকতাব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা হাবিবুর রহমান(রঃ)
প্রতিষ্ঠাতা,পুরকুইল গাউছিয়া হাবিবিয়া দরবার শরীফ ও পুরকুইল হাবিবিয়া ফাযিল মাদ্রাসা।
✪ পীরজাদা মরহুম আলহাজ্ব ফারুক আহমেদ (র)।
বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী,পুরকুইল গাউছিয়া হাবিবিয়া দরবার শরীফ।
✪ ওস্তাজুল ওলামা পীরজাদা মরহুম এ টি এম হাফেজ আহম্মদ(র),
(সাবেক অধ্যক্ষ পুরকুইল ফাযিল মাদ্রাসা)।
✪ অলীয়ে কামেল মুর্শিদে মুকাম্মেল আলহাজ্ব হোসাইন আহমেদ আল হাবিবি (রঃ) পীর সাহেব।
✪ অলীয়ে কামেল মুর্শিদে মুকাম্মেল হযরত মাওলানা ড. ছদরুদ্দীন আহমদ (রঃ) পীর সাহেব।
✪ মরহুম আব্দুল আজিজ
২ বার নির্বাচিত সাবেক ২নং মেহারী ইউপি চেয়ারম্যান।
✪ কর্নেল মো: রফিকুল ইসলাম
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
✪ ডা.ওবায়দুর রহমান,এমবিবিএস
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সদর হাসপাতাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
✪ মোঃ ফারুক আহমদ ভূঁঞা
বিশিষ্ট শিক্ষনুরাগী ও সমাজ সেবক।
✪ হযরত মাও. হাফেজ হাফিজুর রহমান।
ইমাম, আজিমপুর কবরস্থান মসজিদ,ঢাকা। ,
✪ মো: আবুল বাশার (পূর্ব পাড়া)।
বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক।
✪ মোঃ মাসুম ভূঁঞা (দ: পাড়া)।
বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক।
✪ সিরাজুম মনির সজল,
ম্যানেজার,রুপালী ব্যাংক লি:।
✪ যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল আজিজ
অবসর প্রাপ্ত সেনাবাহিনী।
✪ এডভোকেট শরীফুল ইসলাম,
জজকোর্ট,ঢাকা।
✪ আশরাফুল ইসলাম উজ্জ্বল,
সহকারি শিক্ষা অফিসার -সিলেট।

➤জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা:

✪ মোঃআব্দুল আজিজ
✪ মোঃ আদুরি শহীদ
✪ মোঃঅলি আহমেদ
✪ মোঃ হাসান আলী
✪ মোঃ হেলাল ভূঁঞা
✪ মোঃ ফুল মিয়া প্রমুহ।

➤শিক্ষক/শিক্ষিকা বৃন্দের নাম/পরিচয়:

* প্রফেসর মোঃ মমিনুল হক ইকবাল
(ইস্পাহানি স্কুল এন্ড কলেজ কুমিল্লা)।
* প্রভাষক আক্তার হোসেন বাবুল
কুটি মহিলা ডিগ্রি কলেজ।
* প্রভাষক মোঃ নুরুল হুদা(কবি ও লেখক)
পুরকুইল গাউছিয়া হাবিবিয়া ফাযিল মাদ্রাসা।
* কবির মোরাদ হুমায়ুন মাস্টার।
কসবা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।
* মোঃ রফিকুল ইসলাম।
পুরকুইল ফাযিল মাদ্রাসা।
* মোঃ কবির আহমদ।
নেয়ামতপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
* মোঃ সিরাজুম মনির
কসবা মহিলা মাদ্রাসা।
* মোঃ সিরাজুল ইসলাম
শিকারপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
* মোঃ নূরে আলম
খাড়েরা উচ্চ বিদ্যালয়।
* সাদিয়া নুর চৈতি।
রাইতলা উচ্চ বিদ্যালয়।
* ফাহমিদা আক্তার
বাহার আটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
* রাশেদা আক্তার
যমুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
* সালমা আক্তার
বাহারআটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
* সুমাইয়া আক্তার হিরা
যমুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
* ফরিদা আক্তার।
যমুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

➤পুরকুইল নামকরণ:

সংস্কৃত ভাষায় পুর শব্দ দ্বারা ঘর বা গ্রামকে বোঝায়।যা সাধারণত(বাংলা অভিধান অনুযায়ী) কোন স্থান নামের সাথে প্রত্যয় হিসাবে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে থাকে।যেমন: বল্লভপুর,শেরপুর,জয়পুর ইত্যাদি। আলোচ্য পুরকুইল(পুর+কুল)গ্রামের নাম পুর এবং কুল দুটো শব্দের সমন্বয়ে গঠিত একটি যুগ্ন শব্দ।পুরকুইল নামকরণের ক্ষেত্রে পুর শব্দের অর্থ দাঁড়িয়েছে মোটা,ভারী বা অভিজাত।আর কুল শব্দের অর্থ হলো জাতি,বংশ বা গোষ্ঠী।
গত ১৫ আগস্ট ২০১৯ইং খেওড়া বায়তুল নূর জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পুরকুইল দরবার শরীফের বর্তমান গদীনিশিন পীর ড.ছদরুদ্দীন আহমদ(রঃ)সাহেবের কাছে পুরকুইল গ্রামের নামকরণ বিষয়ে ওনার মূল্যবান মতামত জানতে চাইলে,পুর এবং কুল শব্দ দুটোর উপরোক্ত অর্থ বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, “অত্র জনপদে প্রথম দিকেই অভিজাত বংশীয় কিংবা জ্ঞানী গুণী সম্প্রদায়ের লোকজনের বসতি ছিল বলে একে পুরকুল>পুরকুইল বলা হয়”।

★অন্য একটি তথ্য মতে,(শিমরাইল বাজার সংলগ্ন প্রয়াত ডাঃ অনন্দ্র নাথ থেকে লেখক কর্তৃক সংগৃহীত)বরদাখাত এবং নূরনগর পরগণার মধ্যবর্তী সীমানা ঠিক করার জন্য উভয় পরগণার অধিকর্তাগণ বুড়ি নদীর তীরে,উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বি ভাবে জেগে উঠা চর বা আইল কে বরদাখাত পরগণার পূর্ব সীমানা এবং নূরনগর পরগণার পশ্চিম সীমানা হিসাবে চিহ্নিত করে। সীমানা নির্ধারণী এ আইলের উপর আস্তে আস্তে জনবসতি গড়ে উঠে।পরবর্তীকালে এটিই (সীম+আইল) সীমাইল বা শিমরাইল নাম ধারণ করে।জানা যায়, “শিমরাইল গ্রামের পূর্ব কোণে ছোট্ট একটি জনবসতি গড়ে উঠে। ধারণা করা হয় পূর্বকোণে গড়ে উঠা জনবসতির পূর্বকোণ (পূর্বকোণ শব্দের অপভ্রংশ)থেকেই পুরকুইল নামের উৎপত্তি।”

 

➤তথ্য সূত্রঃ-
১. জীবনী-হযরত শাহ সূফী অধ্যাপক আবদুল খালেক (র.)।। সিদ্দিক আহমদ খান
২. ফুরফুরা শরীফরে ইতবিৃত্ত।। মুবারক আলী রহমানী
৩. ফুরফুরার ইতিহাস।। আবদুল্লাহ্ আল আরিফ সম্পাদিত
৪. ইসলাম প্রসঙ্গ।। ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ
৫. আখেরী নবী (স.), হাদীয়াতুছ সালেকীন।।আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ বোরহানুদ্দীন (র)
৬. কবি ফররুখ আহমদ-ব্যক্তি ও কবি।। শাহাবুদ্দিন আহমদ সম্পাদিত
৭. সাইয়েদুল মুরসালিন (তৃতীয় খন্ড)।। অধ্যাপক আবদুল খালেক (র.)
৮. ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া জেলার ইতিবৃত্ত।। শোয়েব চৌধুরী সম্পাদিত
৯. নামকরণের ইতিকথা।। এস এম শাহনূর
১০. ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা
১১. প্রভাষক মোঃ নুরুল হুদা(কবি ও লেখক)
পুরকুইল গাউছিয়া হাবিবিয়া ফাযিল মাদ্রাসা।
১২. Tej Ram Sharma (১৯৭৮)। Personal and geographical names in the Gupta inscriptions । Concept Publishing Co., Delhi। পৃষ্ঠা 224-225।

💻এস এম শাহনূর
(কবি ও আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক)

 

কসবার বাহারআটা গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

| ১৩ জুলাই ২০১৯ | ১:০৫ অপরাহ্ণ

কসবার বাহারআটা গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলাধীন ২নং মেহারী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত ছোট্র একটি গ্রাম বাহারআটা।উত্তর দক্ষিণে প্রায় আধা মাইল লম্বালম্বি অত্র গ্রামের জনসংখ্যা ৮০০ জনের অধিক নয়।লোকমুখে শোনা যায় মোঃ সরব আলী ওরফে পচু গাজী নামক এক ব্যক্তি সপরিবারে দক্ষিণের কোন এক জনপদ থেকে এখানে এসে প্রথম বসতি স্থাপন করেন।বংশগতির ধারাবাহিকতায় পচু গাজীর পরবর্তী প্রজন্ম আজও পচু গাজীর গোষ্ঠী নামে পরিচিত। অত্র গ্রামের কৃতি সন্তান মরহুম ডাঃআব্দুর রাজ্জাক; চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কসবা উপজেলার এক কিংবদন্তী ব্যক্তি।জোনাকিপোকার মৃদু আলো ছাড়া যে গ্রামের লোকজন নিকষকালো রাতের পথ দেখতেন না,সেই বাহারআটা গ্রামে যিনি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ বাহার ছড়িয়েছেন তিনি হলেন সাবেক বিদ্যুৎ সচিব মোঃ জামসেদ চৌধুরী।
মুক্তিযোদ্ধা এ.কে. ফজলুল হক: যিনি বাহারআটা ও পুকুরপাড় গ্রামের ঈদগাহ স্হাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

♦এছাড়া আরো বহু জ্ঞানী,গুণী মানুষজন তাঁদের কর্মের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত গ্রামের সুনাম বয়ে আনছেন।তাঁদের মধ্যে


★আঃ হান্নান রনি(এ.এস.পি) :যিনি মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম(দারোগা)-এর ছেলে।
★ডাঃরুনা আহমেদ:
(সার্জেন্ট অলী আহমেদ এর সহধর্মিনী ও বড় বাড়ির পুত্র বধূ)
★মোঃ রুহুল আমীন-এম.ডি.
বাংলাদেশ থাই এলুমিনিয়াম লিঃ।
★ডাঃ আহসান হাবিব (এম.বি.বি.এস)
★আবু কাউসার: (রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষানুরাগী)
★রাজনীতিবিদ আঃ রশীদ: যিনি বাহারআটা ও পুকুরপাড় গ্রামে সর্ব প্রথম আওয়ামীলীগের বীজ বপন করেন
★এডভোকেট খোরশেদ আলম (পারভেজ)। এপিপি; জজ কোর্ট,ঢাকা।
★নাজমুল হাসান:
সিনিয়র অফিসার,বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।
★এডভোকেট আয়নাল হক বাবু
★প্রভাষক মাসুদ রানা: আহবায়ক সদস্য,কসবা উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সাধারন সম্পাদক, স্বাধীনতা মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ কসবা উপজেলা শাখা।বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য।

♦পুকুরপাড়ঃ লেশিয়ারা গ্রামের রঞ্জিত কর নামক এক ধনাঢ্য হিন্দু ব্যবসায়ী বাহারআটা গ্রামে একটি গভীর ও বিশাল পুকুর খনন করেন।সুপেয় মিঠা পানি আর নানাবিধ সুবিধার কারণে আস্তে আস্তে পুকুরের চারপাশে জনবসতি ও ঘনবসতি গড়ে উঠে।বর্তমানে পুকুরের চারপাশে বসবাস করা লোকজন নিজেদেরকে পুকুরপাড়ের অধিবাসী বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

♦নানান মত আর পেশার ৩টি গোষ্ঠী বা বংশীয় মানুষের এক অপূর্ব মেলবন্ধন আজকের বাহারআটা গ্রাম।গোষ্ঠী গুলোর নামঃ
১।পচু গাজীর গোষ্ঠী
২।ইডা গাজীর গোষ্ঠী ও
৩।বড় বাড়ী (গ্রামের বড় বড় ঘর ছিল যেখানে বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ এখানে এসে বাস করত।)ও

♦এ ছাড়া এখানে রয়েছে
১টি মসজিদ।
১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
১টি মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
১টি কবরস্থান।
১টি ঈদগাহ।
১টি ক্লাব: ড. বাড়ী ফাউন্ডেশন(প্রস্তাবিত)।

♦সীমানাঃ
উত্তরে-পুরকুইল গ্রাম।
দক্ষিণে-বুগীর,বামুটিয়া গ্রাম।
পশ্চিমে-ঈশান নগর গ্রাম।এবং
পূর্বে-খেওড়া গ্রাম।

♦বাহারআটা গ্রামের নামকরণঃ
নাম দিয়ে কী হয়, নামের মাঝে পাবে তুমি আসল পরিচয়।’ নামকরণ বা নাম রাখা নিয়ে এ দেশে বহু ঘটনা আছে। এ সব ঘটনা নিয়ে রটনাও আছে। তবে এ কথা ঠিক হাজার বছর ধরে বাঙালি এই কাজে বেশ পারঙ্গম। এর প্রমাণ সর্বত্র। যেমন নদ-নদীর নাম। গ্রাম-জনপদের নাম। ফুল-পাখীর নাম ইত্যাদি।
গবেষণা ও বিভিন্ন তথ্যাদি থেকে জানা যায়,কোন এক সময় এখানে বড় বড় বৃক্ষাদির সমাহার ছিল। স্থানীয় ভাষায় লোকজন গাছগাছালি পরিপূর্ণ এমন এলাকাকে আড়া(জঙ্গল)বলত।অবশ্য শুধু এখানটা ছাড়া তখনও অনতিদূরে লোকালয় গড়ে উঠেছিল।আর এটি বেশী দিনের কথা নয়।ধারনা করা হয় ১৫০ বছর পূর্বে এখাানে প্রথম জনবসতি গড়ে উঠে।
পাশেই ছিল যৌবনা রাজার খালের প্রবাহ।যা প্রতিদিনই জোয়ার ভাটার ডাকে সাড়া দিত।জেলেরা জাল ফেলে মাছ ধরত।নাওয়ের মাস্তুলে পাল উড়িয়ে গলা ছেড়ে জারি সারি গান গাইত মাঝি মাল্লার দল।তবে কালের প্রবাহের সাথে রাজার খালের প্রবাহ আজ মৃতপ্রায়।এখানে ছিল উত্তরাঞ্চলের মানুষজনদের জন্য কুটি বাজার তথা কুমিল্লা যাওয়া আসা করার একমাত্র পায়ে হাটার রাস্তা।এ গেয়ো রাস্তা ধরে চলার পথে ক্লান্ত পথিক যেখানে এসে থমকে যেত,মাথার ভারী বোঝা কিংবা কাঁধের ভার রেখে কৃষক বা গ্রাম্য ব্যবসায়ীরা যেখানে এসে গাছের সৌন্দর্যময় সুশীতল ছায়ায় একটু বিশ্রাম নিত;বসত বেচাকেনার হাট সেই স্থানটিই আজকের বাহার হাটা>বাহার আটা গ্রাম।

👍”বাহার” শব্দটা ফারসী ‘বহার’ শব্দজ অর্থাৎ ‘বহা’ শব্দের অপভ্রংশে “বাহার” ;

ফারসী শব্দ বাহার মানে বসন্ত। যা বাংলায় এসে অর্থ দাড়িয়েছে শোভা,সৌন্দর্য,মনোহারিতা,চটক।
“পথ পথিকের সৃষ্টি করেনা,পথিকই পথের সৃষ্টি করে”।আজ প্রায় দেড় শত বছর পরে ইতিহাস জানলো পথিক শুধু পথধরে হাটেই না,হাটতে হাটতে যে পথের মাঝে পথিক বসন্ত বাহার, শোভা,সৌন্দর্য আর মনোহারিতা খুঁজে পায়, তাদেরই কোন এক নাম না জানা পথিক এ স্থানের নাম দেন বাহারহাটা।
ইতিহাস থেকে জানা যায় বেশীর ভাগ মানব সভ্যতা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে।এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাহারহাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর স্রোতম্বিনী রাজার খালের সুবিধাদি ভোগ করার জন্য আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এখানে এসে এক নতুন জনপদ গড়ে তোলেন।পরবর্তীতে গ্রামের সুধীজন বাহার হাটা নামকে কিঞ্চিত পরিবর্তন করে নাম রাখেন বাহারআটা।তবে পুরাতন দলিল দস্তাঁবেজে আজও বাহারহাটা ই আছে।

♦অন্য এক তথ্যমতে,বিশেষতঃখেওড়া ও পুরকুইলের মত প্রাচীন গ্রামগুলোর প্রবীণ ব্যক্তিরা মনে করেন,উনাদের গ্রামের(দক্ষিণে)বাহিরে বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েকটি পরিবার এসে নতুন করে বসবাস শুরু করলে গ্রামের লোকজন তাদের সেই পাড়াকে গ্রাম্য কথ্য ভাষায় বাহির (হাটা)আটি/আডি (পাড়া)বলত।এবং সেই পাড়ায় বসবাসকারী লোকজনও নিজেদেরকে বাহির আটির(পাড়ার)লোক বলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত।এভাবে কালক্রমে বাহির আটি থেকে গ্রামের নামকরণ হয়ে যায় বাহারআটা।

👍প্রয়োজনীয় নোটঃ

★বাহির /বিশেষ্য পদ /
১. বর্হিভাগ,
২. ভিতরের বিপরীত দিক;
৩. গৃহের সদর বা বাইরের অংশদ গুহ হতে অন্যত্র;
৪. ঘরের বাইরের জীবন ও জগত (বাহিরের আলো, বাহিরের জীবন);
৫. বাইরের দিক, বহির্দেশ (বাড়ির বাহিরটাই দেখেছি)।

★বাহার /বিশেষ্য পদ/
ফারসি শব্দ ;
শোভা,
সৌন্দর্য;
মনোহারিতা;
সঙ্গীতের রাগিণীবিশেষ।

উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত
পদ্ধতিতে কাফি ঠাটের অন্তর্গত রাগ বিশেষ।[১]

★হাটাঃ হাটা সংস্কৃত হট্ট শব্দ হতে উদ্ভূত। বাংলাদেশে হাটা প্রত্যয় যোগে বেশ কিছু গ্রামের নাম রয়েছে।
যেমন,
দিনহাটা , দেবহাটা , দুর্গাহাটা, মাঝিহাটা, ময়দানহাটা।

★আঁটি , আটি [আঁটি, আটি (আঞ্চলিক)] (বিশেষ্য)
তৃণ বা শস্যাদির গুচ্ছ
(আঁটি আঁটি ধান চলে ভারে ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর); (আলঙ্কারিক)

পূব আটির ছেলে মেয়েরা পচিম আটির মক্তবে ফরতে আসে।(সিলেট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক ভাষায় পাড়া অর্থে।)[২]

স্বার্থপরতা (নিজের বেলায় আঁট আঁটি, পরের বেলায় চিমটি কাটি-নিজে আঁটি বেঁধে নেয়, পরকে দেওয়ার সময় এক চিমটিতে যতটুকু (যৎসামান্য) ওঠে, দেয়)।

বোঝার উপর শাকের আটি খুব ভারী জিনিসের উপর সামান্য বস্তুর ভার।

আঁটি , আঁঠি, আটি , আঠি [আঁটি, আঁঠি, আটি, আঠি]
(বিশেষ্য) ফলের মধ্যস্থ বড়ো বীজ বা বিচি (আম আঁটির ভেঁপু-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়; ন্যাংড়া আমের আঁঠি-প্রথম চৌধুরী)।

আঁটিসার (ক্রিয়াবিশেষণ) আঁটি মাত্র অবশিষ্ট রেখে; নিঃশেষে (চুষিয়া আঁটিসার করিয়া খাইবার ক্ষমতা রাখে-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়)।

(বিশেষণ) আঁটিসর্বস্ব; বড়ো আঁটিযুক্ত (আঁঠিসার আম খেয়ে আশ মেটে না)।

★তথ্যসূত্র:
[১] রাগ বিন্যাস (প্রথম কলি)। শ্রীশচীন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য্য। এস, চন্দ্র এন্ড কোং। শারদীয়া সপ্তমী, সেপ্টেম্বর ১৯৭৬।

[২] ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক
অভিধান।
[৩] শরীফ এ কে এম শামসুল হক
সাবেক চেয়ারম্যান,
মেহারী ইউনিয়ন পরিষদ।
[৪] প্রভাষক মাসুদ রানা
সাধারন সম্পাদক,
স্বাধীনতা মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ
কসবা উপজেলা শাখা।
[৫] মাঠ পর্যায়ে ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা।

💻 Copyright@এস এম শাহনূূর
smshahnoor82@gmail.com
(তথ্য সংগ্রাহক,লেখক ও গবেষক)

 

 

কসবা উপজেলার চৌবেপুর গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

| ২৪ এপ্রিল ২০২০ | ১২:১৬ অপরাহ্ণ

কসবা উপজেলার চৌবেপুর গ্রামের নামকরণের ইতিকথা: এস এম শাহনূর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ২নং মেহারী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে চৌবেপুর গ্রামের অবস্থান। উত্তর দক্ষিণে গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে সুন্দর এক গ্রাম্য পথ।এ পথে উত্তরের মহেশ রোড় থেকে বল্লভপুর -মেহারী -ঈশান নগর হয়ে আপনি অনায়াসে পৌছে যেতে পারবেন কুটি বাজার পর্যন্ত। গ্রামের পূর্ব,উত্তর ও পশ্চিমে দিগন্ত ছোঁয়া ফসলে ভরা সবুজ মাঠ আপনাকে মুগ্ধ করবে।আপনার মনের অজান্তেই মুখে বেরিয়ে আসতে পারে কবিতার পঙক্তিমালা-

“আমি দেখিছি সবুজের সমারোহ
তার পথ-মাঠ-ঘাট-প্রান্তর জুড়ে।
দেখিছি সবুজ পাতার গাছের সারি
মেঠো পথের বাঁকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে।

পেয়েছি খুঁজে অকৃত্রিম সুখটাকে
মাঠ ভরা সবুজ ফসলের প্রান্তরে।
মিশে আছে সেথায় অনাবিল ছোঁয়া
লাল-সবুজের এই বাংলাদেশে।

দেখিছি তার ভোরের শিশির কণা
ছুঁয়ে দিয়ে যায় সবুজ ঘাসে।
দখিনা হাওয়া দোল দিয়ে যায়
দিগন্ত জুড়ে সবুজ ধানের ক্ষেতে।”

➤সীমানা:
উত্তরে -পুরকুইল ও ঈশাননগর গ্রাম।
পূর্বে-বামুটিয়া গ্রাম।
দক্ষিণে- কুটি ইউনিয়নের লেশিয়ারা গ্রাম।
পশ্চিমে – শিমরাইল গ্রাম।

➤গ্রামের আয়তন ১.৪ বর্গমাইল,
➤মোট জনসংখ্যা -৪০০০ জন (প্রায়),
➤মোট ভোটার সংখ্যা -১৮০০জন (প্রায়),
➤পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ৪৮ঃ৫২।
➤শিক্ষার হার ৭৫%

➤পেশাঃ
কৃষিজীবি=৪৫%
প্রবাসী =১৫%
চাকুরীজীবি =২০%
ব্যবসায়ী =১৫%
অন্যান্য =৫%

➤এক নজরে চৌবেপুর গ্রাম:
এখানে রয়েছে –
১ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
২ টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল
১ টি এবতেদায়ী সহ দাখিল মাদ্রাসা
১ টি হাফিজিয়া খারিজি মাদ্রাসা
১ টি এতিমখানা হাফিজি সহ
৪ টি জামে মসজিদ
১ টি ঈদগাহ মাঠ
১ টি বাজার
২ টি কবর স্থান
৩ টি মাজার
১ টি দরবার

➤এছাড়াও এ গ্রামে রয়েছে-
৭ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক,
১১ জন চাকুরিরত শিক্ষক
৫ জন সরকারী কর্মকর্তা
৩০ জন সরকারি কর্মচারী
১২৫ জন বেসরকারি চাকুরিজীবি
৪২৫ জন প্রবাসী
১৫ জন বিশিষ্টজন।
৪ জন মাওলানা কামিল এম,এ
২ জন দাওরা হাদিস এবং
৭ জন কুরআনে হাফিজ প্রমুখ।

➤গোষ্ঠী /গোত্র/বাড়ি গুলোর নাম:
খাঁ বাড়ী
ভুৃঁইয়া বাড়ী
সরকার বাড়ী
মৌলভী বাড়ী
মোল্লা বাড়ী
দারগা বাড়ী
মিয়া বাড়ী
কাজী বাড়ী
হাজী বাড়ী
বর্দন বাড়ি
তিলার পাড়
খলিফা বাড়ি
নোয়া বাড়ি
ঠাকুর বাড়ি
মতির বাড়ি

➤শিক্ষা,সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমূহঃ
☆চৌবেপুর আলহাজ্ব শাহ আলম দাখিল মাদ্রাসা
☆চৌবেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
☆চৌবেপুর আইডিয়াল স্কুল
☆চৌবেপুর মুক্তিযোদ্ধা স্কুল
☆চৌবেপুর সামসুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা
☆আহলে বাইয়াত এতিমখানা,
প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক,
মুফতি আবদুল আউয়াল পীর সাহেব।
☆চৌবেপুর গাউছিয়া দায়েমিয়া বাসারীয়া সাত্তারীয়া খানকা শরীফ ও আহলে বাইয়াত এতিমখানা দরবার শরীফ।

➤শিক্ষক/শিক্ষিকা গণের নামের তালিকা:
(শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের নাম)
১, মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল
সুপারিন্টেন্ডেন্ট,
২,মোঃ মাহাবুবুর রহমান
সহ সুপার
৩, মোঃ আবু কাউছার
সহ মৌলভী
৪, মোঃ ইসমাইল মিয়া
সহকাটী মৌলভী।
৫, মোঃনিয়াজ উদ্দীন
সহকারী মৌলভী
৬, মোঃআমিনুল ইসলাম
সহ শিক্ষক
৭,মোঃ ইমরান হুসেন
সহকারি শিক্ষক
৮, মোঃ আনোয়ার হুসেন
সহ শিক্ষক,বি পি এড.
৯, সঞ্জিত কুমার দেব নাথ
সহ শিঃ বিঃ
১০, মোঃ আবদুল্লাহ কায়েস
সহ শিঃ বিঃ
১১, মোঃ উমর ফারুক
সহ শিঃ কৃষি।
১২, মোঃ আবুল বাসার
এবঃ প্রধান
১৩, রাশেদা আক্তার
জুনিয়র মৌলভী
১৪, নাজমা পারভীন
জুনিয়র শিক্ষক
১৫, মোঃ আবুল বাসার,
ক্বারী
১৬, মোঃ আইয়ুব খাঁন
অফিস সহকারি
১৭, মোঃ কামাল মিয়া
৪র্থ শ্রেণী দপ্তরী।
১৮, মোঃ তুফাজ্জুল হুসেন
নৈশ প্রহরী।
১৯, আয়া ১ জন
২০, নিরাপত্তা কর্মী ১ জন (নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন।

➤একনজরে আলহাজ্ব শাহ আলম দাখিল মাদ্রাসা:
স্থাপিত ও এবতেদায়ী চালু হয় ১৯৮৫ ইং সালে।
এবং দাখিল চালু হয় ১৯৯৫ ইং সালে।
বর্তমানে ছাত্র/ ছাত্রী সংখ্যা ৪৭৫ জন।
শিক্ষক সংখ্যা ১৫ জন
মহিলা শিক্ষক ২ জন।
অন্যান্য কর্মচারী ৪ জন।
ছাত্র/ ছাত্রী কেবিনেট ৮ জন,
স্কাউট দলে ৮ জন।

➤গ্রামের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের নামের তালিকা:
☆ আলহাজ্ব মাওলানা মুফতি সামছুদ্দিন (রহঃ)
☆ মাওলানা আবদুল কুদ্দুস (রহঃ)
☆ মাওলানা তাজুল ইসলাম (রহঃ)
☆ মাওলানা আবু ইউসুফ (রহঃ)
✪ জনাব,জমশেদ মিয়া মেম্বার
✪ জনাব,হাজী আঃ রাজ্জাক মেম্বার
✪ জনাব, হাজী আঃ জলিল
✪ জনা,হাজী সুলতান আহম্মদ
✪ জনাব,হাজী রমজান আলি
✪ জনাব, হাজী আঃ রশিদ
✪ জনাব,আঃ কাদির মুহুরী
✪ জনাব,আবদুর রহিম মুহুরী
✪ জনাব,কাজি হারুনুর রশিদ
✪ জনাব, আঃ সামাদ পুলিশ
✪ জনাব, মোঃ নূরুল ইসলাম
✪ এড. কামরুন্নাহার মনি
পিতা: মোঃ নূরুল ইসলাম
✪ জনাব, মোঃআল আমিন (বিসিএস)
মৌলভীবাজার জেলা ভুক্তাধিকার ম্যাজিস্ট্রেট।

!➤বিশেষ ব্যক্তিবর্গের তালিকা:
✪ জনাব, আঃ মান্নান ভুইয়া
✪ জনাব,শানু মেম্বার
✪ জনাব, হারুনুর রশিদ শুভন
✪ জনাব, কবির আহম্মদ
✪ জনাব, মাজেদ মেম্বার
✪ জনাব, আবুল কালাম
✪ জনাব, আঃ হক মনি
✪ জনাব, জাকারিয়া জিয়ন
✪ জনাব,বসির আহম্মদ
✪ জনাব, মনির হোসেন প্রমুখ।

➤চৌবেপুর নামকরণ:
জনশ্রুতি রয়েছে যে,কোন এক সময় এ লোকালয়ে পান্ডে নামে একজন অভিজাত ব্রাহ্মণের বসবাস ছিল।তিনি একটি মাত্র বেদ পাঠ করতে জানতেন।তাই এখানকার ব্রাহ্মণ সমাজের ধর্মীয় শিক্ষা দীক্ষা প্রসারের নিমিত্তে তিনি বৃন্দাবন থেকে চৌবে পদবীধারি একজন পাদ্রি নিয়ে আসেন।যিনি চারটে বেদই পড়তেন বলে তাঁকে বলা হত চতুর্বেদী বা চৌবে।চৌবেপুর একটি যুগ্ম শব্দ।কালের পরিক্রমায় লোকমুখে চৌবে শব্দের সাথে পুর(সংস্কৃত পুর অর্থ -ঘর বা গ্রাম) প্রত্যয় যুক্ত হয়ে চৌবেপুর নাম ধারণ করে বলে প্রতীয়মান হয়।

✪জানার আছে অনেক কিছুঃ

➤বাংলা অভিধানে চোবে/চৌবে একটি বিশেষ্য পদ। যার অর্থ দাড়ায়-
✪ চর্তুবেদী,
✪ ব্রাহ্মণের পদবী বা উপাধিবিশেষ। /হি/।

➤বাংলা অভিধানে পান্ডেও একটি বিশেষ্য পদ। যার অর্থ দাড়ায়-
✪ পশ্চিমী ব্রাহ্মণের উপাধিবিশেষ,
✪ পাঁড়ে।

[এই কিছুকাল আগেও যেমন অনেকেই নামের পাশে বি এ, এম এ, বি এড লিখতেন, তেমনই তারও বহু আগে যাঁরা একটা বেদ পাঠ করতেন, তাঁদের বলা হত পন্ডিত। বাংলার বাইরে যা হয়ে যায় পান্ডে। যাঁরা দুটো বেদ পাঠ করতেন, তাঁদের বলা হত দ্বিবেদী। বাংলার বাইরে যারা দুবে হিসেবে পরিচিত। তিনটে বেদ পাঠ করতেন যারা, তাদের বলা হত ত্রিবেদী। বাংলার বাইরে এঁরাই হয়ে যান তেওয়ারি। চারটে বেদ যাঁরা পড়তেন, তাদের বলা হত চতুর্বেদী। বাংলার বাইরে তাঁরাই চৌবে। মজা হচ্ছে, বংশের কোনও এক জন পন্ডিত হলে, তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের কেউ চারটে বেদ পড়লেও তিনি কিন্তু আর চতুর্বেদী বা চৌবে হয়ে উঠতে পারতেন না। তাঁকে পন্ডিত পদবি নিয়েই ক্ষান্ত থাকতে হত। আবার উল্টো দিকে, তিন বা চারটে বেদ পড়া কারও বংশধর যদি একটিও বেদ না পড়তেন, তাঁরাও শুধুমাত্র উত্তরাধিকার সুত্রেই ওই একই পদবি ব্যবহার করার অধিকারী হতেন।]

➤বৃন্দাবন ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মথুরা জেলার অন্তর্গত একটি প্রাচীন শহর। এই শহর হিন্দু ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত এবং হিন্দুধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। ঈশ্বর পরম রাধামাধব এখানে নিজেদের সচ্চিদানন্দ ছেলেবেলার লীলা প্রকাশ করে থাকেন । শহরটি ঈশ্বর পরম রাধামাধবের ভূ লোকের লীলা ভূমি জেলাসদর মথুরা থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে আগ্রা -দিল্লি হাইওয়ের ( ২ নং জাতীয় সড়ক ) উপর অবস্থিত। বৃন্দাবন শহরে রাধা ও কৃষ্ণের অনেকগুলি মন্দির আছে।[১]

➤বেদ’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ জ্ঞান। যার অনুশীলনে ধর্মাদি চতুর্বর্গ লাভ হয় তা-ই বেদ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী বেদকে অপৌরুষেয় অর্থাৎ ঈশ্বরের বাণী বলে মনে করা হয়। এটি কতগুলি মন্ত্র ও সূক্তের সংকলন। বিশ্বামিত্র, ভরদ্বাজ প্রমুখ বৈদিক ঋষি জ্ঞানবলে ঈশ্বরের বাণীরূপ এসব মন্ত্র প্রত্যক্ষ করেন। বেদ হল প্রাচীন ভারতে লিপিবদ্ধ তত্ত্বজ্ঞান-সংক্রান্ত একাধিক গ্রন্থের একটি বৃহৎ সংকলন। বৈদিক সংস্কৃত ভাষায় রচিত বেদই সংস্কৃত সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন এবং সনাতন ধর্মের সর্বপ্রাচীন পবিত্র ধর্মগ্রন্থ।[১]বেদের সংখ্যা চার: ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ,
সামবেদ ও অথর্ববেদ । [২] [৩]প্রত্যেকটি বেদ আবার চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:সংহিতা (মন্ত্র ও আশীর্বচন), আরণ্যক (ধর্মীয় আচার, ধর্মীয় ক্রিয়াকর্ম, যজ্ঞ ও প্রতীকী যজ্ঞ), ব্রাহ্মণ (ধর্মীয় আচার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও যজ্ঞাদির উপর টীকা) ও উপনিষদ্ (ধ্যান, দর্শন ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান-সংক্রান্ত আলোচনা)। [২]

➤তথ্যসূত্রঃ
১. ↑ Keene, Henry George (১৮৯৯)। “Bindrabun”। A Handbook for Visitors to Agra and Its Neighbourhood । Thacker, Spink & Co.। পৃষ্ঠা 98–106।
২. ↑ Sanujit Ghose (2011). ” Religious Developments in Ancient India ” in
Ancient History Encyclopedia .
৩. ↑ Gavin Flood (1996), An Introduction to Hinduism, Cambridge University Press,
আইএসবিএন ৯৭৮-০৫২১৪৩৮৭৮০ , pages 35-39
৪. ↑ Bloomfield, M. The Atharvaveda and the Gopatha-Brahmana, (Grundriss der Indo-Arischen Philologie und Altertumskunde II.1.b.) Strassburg 1899; Gonda, J. A history of Indian literature: I.1 Vedic literature (Samhitas and Brahmanas); I.2 The Ritual Sutras. Wiesbaden 1975, 1977
৫. ↑ নামকরণের ইতিকথা।। এস এম শাহনূর
৬. ↑ মোঃ বজলুর রহমান খান
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
৭. ↑ মোঃ আব্দুল আউয়াল
সুপারিন্টেন্ডেন্ট,
চৌবেপুর আলহাজ্ব শাহ আলম দাখিল মাদ্রাসা।
৮. ↑ আলহাজ্ব অলি ইসলাম
সৌদি আরব প্রবাসী।
৯.↑ কাজী মোঃ মানিক মিয়া
বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার।

💻Copyright@লেখক:
এস এম শাহনূর
(কবি ও আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক)

 

 

🚫বিশেয সতর্ক বার্তা:
মূল লেখকের অনুমতি ছাড়া উপরোক্ত লেখার আংশিক/পুরো অংশ অন্য কোন ব্যক্তির নামে বা কোন মাধ্যমে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

 

 

 

Some text

ক্যাটাগরি: বিবিধ

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি