রবিবার রাত ২:১৬, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ. ১৮ই মে, ২০২৪ ইং

সড়কে চাঁদাবাজি ও রাঙ্গার অমৃত বচন

৬৫৯ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

গণ ও পন্য পরিবহন খাতে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজধানীর শতাধিক পয়েন্টে এ ধরনের চাঁদাবাজি এখন অপ্রতিরোধ্য রূপ নিয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে চাঁদাবাজির পয়েন্ট প্রায় ৯০০টি।একশ্রেণীর পরিবহন শ্রমিক, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, পুলিশ ও ক্ষতাসীন মহলের আর্শীবাদপুষ্টদের সমন্ময়ে গড়ে উঠেছে সম্মিলিত চাঁদাবাজ চক্র। তাদের কাছেই জিম্মি হয়ে পড়েছে যানবাহনের চালক, মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই।বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে  ও পরিবহন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত এ ধরনের ব্যক্তিদের সাথে আলাপ আলোচনা করে অবগত হওয়া যায় যে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অর্ধশতাদিক চাঁদাবাজ নেতা দৈনিক হারে চাঁদার টাকা ভাগ-বন্টন করে নেন।চাঁদার অবশিষ্ট কয়েক কোটি টাকা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সিন্ডিকেট সদস্যরা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণীর সদস্য নিজেদের পকেটস্থত করেন।

জরিপ করে জানা যায়, ট্রাক-বাস ও মিনিবাসের চালক ও মালিকরা এই অবৈধ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে টুশব্দটি পযর্ন্ত করতে পারে না।যদি এর প্রতিবাদ করে তাহলে তাদের উপর নেমে আসে চরম র্নিযাতন। এই অবস্থায় তাদেরকে টার্মিনাল ছাড়তে বাধ্য করা হয়।এই অবৈধ চাঁদাবাজির রয়েছে নানা ধরন।যেমন-থানার চাঁদা, ফাঁরির চাঁদা, বোবা চাঁদা,ঘাট চাঁদা, স্পষ্ট চাঁদা, ইফতারের চাঁদা ইত্যাদি। এছাড়াও হরতালের সময় গাড়ী ভাঙচুর হলে ক্ষতিপূরন ও চিকিৎসা বাবদ যে চাঁদা আদায় করা হয়, তার সুবিধা জোটে না পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ভাগ্যে।

এসব বিষয় নিয়ে মালিক ও চালক সমিতির কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান না গাড়ীর মালিক ও চালকরা। কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার পরও অসহায় ভাবে সারা বছর ধরে শুধু তাদেরকে চাঁদাই দিতে হয়। কিন্তু হতবাগ হওয়ার বিষয়, এই অবৈধ চাঁদার পক্ষে সাফাই গেয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে বেশ কিছু দিন আগে জানান,সড়কে চাঁদাবাজি নতুন কিছু নয়। এটা দীর্ঘ দিন যাবৎ চলে আসেছে।তবে যতই দিন যাচ্ছে এর মাত্রা বেড়েই চলছে। এর একটা ‍সুরাহা হওয়া উচিৎ।

রাজধানী থেকে যখন একটি গাড়ি স্টার্ট করে সেখানে একটি নির্দিষ্ট চাঁদা  দিতে হয় এবং এই নিয়মটি ঠিক আছে।এই প্রসঙ্গে তার বক্তব্য হলো- দিনের শুরুতে বাস বা ট্রাককে যাতে একবারই চাঁদা দিতে হয়, একাদিকবার নহে।তিনি আরো জানান, বর্তমানে প্রতিটি জেলায়  পরিবহন ঢুকলেই বাধ্যগত ভাবে চাঁদা দিতে হয়; এই অনৈতিক ও অমানবিক ব্যবস্থার চির অবসান হওয়া দরকার।সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ঢালাও চাঁদাবাজির বিরোধতিা কররেও প্রকারান্তরে তিনি চাঁদাবাজির পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন।কোন যুক্তিতে কোনো পরিবহনকে কেন স্টার্ট দেওয়ার সময় চাঁদা দিতে হবে তিনি তার যথাযথ ব্যাখ্যা দেননি।

আমাদের দেশ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে পরিবহন খাতে এ ধরনের অনৈতিক চাঁদাবাজির নিয়ম চালু আছে বলে আমাদের জানা নেই! পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে প্রধান বিরোধী দলের সাধারন সম্পাদক ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মসিউর রহমান রাঙ্গার মতো অবৈধ চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেয়-এমন “অমৃত ও অমূল্য বানী” কখনো শোনা গেছে বলে আমাদের আদৌ জানা নেই।আমরা কি পরাধীন কোনো দেশে বাস করছি যে, মনিবকে সন্তোষ্ট করার জন্য কষ্টার্জিত টাকা থেকে এ ধরনের অনৈতিক চাঁদা দিতে হবে? সড়ক পরিবহন খাতে এই অনৈতিক একচ্ছ্ত্র আধিপত্য চাঁদাবাজির চির অবসান হওয়া অত্যান্ত জরুরী।

খায়রুল আকরাম খান : ব্যুরো চীফ, দেশ দর্শন

Some text

ক্যাটাগরি: মতামত

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি