বৃহস্পতিবার বিকাল ৩:৫০, ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ. ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ ইং

পদে পদে ভোগান্তি সঞ্চপত্র গ্রাহকদের

২২৮০ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

জাতীয় সঞ্চপত্র হলো বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রনণালয়ের একটি বিশেষ প্রকল্প। এই সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার জনসাধারনের কাছ থেকে টাকা ধার  করে এবং এই ধার বা কর্জের বিপরীতে সরকার বিনিয়োগকারীদেরকে আর্কষনীয় হারে মুনাফা দেয়। বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র প্রচলিত আছে।এ গুলো হচ্ছে-পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, পারিবারীক সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশন সঞ্চয়পত্র।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত তিন বছর মেয়াদী। বাদবাকি  সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ পাচঁ বছর। আঠার বা তদূর্ধ্ব বয়সের যে কোনো বাংলাদেশী নাগরিক পাচঁ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চপত্র ও তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। আর পারিবারিক সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন বাংলাদেশী নারী এবং পয়ষট্টি বা তদূর্ধব বয়সের কোনো বাংলাদেশী পুরুষ।

পাচঁ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকাএবং যুগ্মনামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। তিম মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও একই ক্রয়সীমা। পরিবারিক সঞ্চয়পত্রে একক নামে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা  পযর্ন্ত বিনিয়োগ করা যায়। আর পেনশাননার সঞ্চয়পতে এ সীমা ৫০ লাখ টাকা। পরিবার বা পেনশনার সঞ্চয়পত্র যুগন্ম নামে কেনার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সব ধরনের শাখাসমূহে, বানিজ্যিক ব্যাংকের নির্ধারিত শাখা সমূহে, জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো অফিস ও পোষ্ট অফিস থেকে সঞ্চয়পত্র কনো যায়।প্রয়োজনে মেয়াদপূর্তির আগেও যে কেনো ধরনের সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গানো যায়। তবে এক বছর পূর্তির আগে ভাঙ্গলে  অথবা বছরের ভগ্নাশে জন্য কোনো মুনাফাপ্রদান করা হয় না।

সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য ক্রেতা ও নমীনীর প্রত্যেকের সত্যয়িত দু’কপি ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি ও কাংখিত পরিমান টাকার ব্যাংকের পে-অর্ডারসহ ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দিতে হয়। সঞ্চয়পত্র কেনার সময় দীর্ঘ দিন যাবৎ এ সব নিয়ম অনুযায়ী চলছে। তবে মাঝে-মধ্যে এ ব্যতিক্রমও ঘটে। ইস্যুকারী অফিসারেক নগদ বকশিস না দিলে  বিনিয়োগকারীরা  সঞ্চয়পত্র নবায়র করা বা মেয়াদ শেষে টাকা নগদ নেয়া বা বিশেষ প্রয়োজনে ভাঙ্গিয়ে ফেলতে চাইলে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। এ কাজ গুলো সুসম্পন্ন করতে ক্রেতাকে করপক্ষে ১৫/২০ দিন সঞ্চয়পত্র ইস্যুকারী অফিসারের দ্বারে দ্বারে ঘুড়তে হয়।  কিন্তু সরকারী নিয়ম অনুযায়ী এক দিনের নোটিশে এ সব কাজ সুসম্পন্ন হওয়ার  কথা। এমনই এক ভূক্তভোগী আখাউড়া উপজেলার মসজিদ পাড়া মহল্লার মরহুম হাশেম মিয়ার পুত্র মোঃ আবুল হোসেন বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর সৌদীআরবে মোটাঅংকের চাকরি করেছি;বতর্মানে বয়স প্রায় ৬৫ হয়েছে তাই উক্ত দেশ থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা বৈধ ভাবে নগদ নিয়ে এসেছি কিন্তু বতর্মানে স্বাস্থ্যগত কারনে দেশে কোনো কাজ বা ব্যবসা করতে পারবো না বিধায় উক্ত পুরো টাকায় আমার ও আমার স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে চাচ্ছি, কিন্তু সঞ্চয়পত্র ইস্যুকারী অফিসার আমাকে প্রায় ২০/২৫ দিন যাবৎ গোড়াচ্ছে। এমতাবস্থায় আমার এক বন্ধুর পরামর্শ মতো উক্ত অফিসারকে নগদ ১০ হাজার টাকা বকশিস দিয়ে আমার স্ত্রীর নামে ৪০ লাখ ও আমার নামে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছি। একই ধরনের আরেক ভূক্তভোগী হলেন সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া নিবাসী মরহুম আলী আকবর খানের ছেলে শাহজাহান আলী খান।তিনি অতি দুঃখের সঙ্গে  বললেন, আমি অতি দরিদ্রলোক কামলার কাজ করি। আমার এক মাত্র মেয়েকে বিয়ে দেবো আগামী মাসে।  আমার  তিন বছর মেয়াদী তিন লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে এ মাসের প্রথম দিকে কিন্তু  সঞ্চয়পত্র ইস্যুকারী অফিসার ১৫/২০ দিন যাবৎ গোড়াচ্ছেন, প্রাপ্য টাকা দিচ্ছেন না।

জরিপ করে জানা যায়, যে সব নারী-পুরুষ শাররীক বা মানসিক ভাবে কোনো ধরনের কাজ করতে অক্ষম তারাই সাধারনত বিভিন্ন মেয়াদী সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেন থাকেন।আবার অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারীরও সঞ্চয়পত্র কিনে থাকেন।মূলত পরিবার ও সমাজরে কর্মঅক্ষম ও অবহেলীত নারী-পুরুষরাই সঞ্চয়পত্রের আসল ক্রেতা।কিছূ কিছু  অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকমালিকরা  অতিরঞ্জিত করে বলছেন, শেয়ারবাজর ব্যবসায় ধ্বশ নামার কারনে উক্ত ব্যবসায়ীরা  শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ না করে জাতীয় সঞ্চয়পত্র ক্রয় করছেন। এতে পুজিঁ বাজারে মুলধনের অভাবে আরো ধ্বংশ হতে চলছে বা চূড়ান্ত তলানিতে নেমেছে। এছাড়াও বতর্মানে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী ব্যাংকে হরি লুট চলছে।এতে অনেক ব্যাংক গুলো দেওলিয়া হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় একতরফা ভাবে উক্ত ব্যাংক গুলোকে বাচঁনোর জন্য ও শেয়ার বাজার ব্যবসা চাঙ্গা করার জন্যে অমানবিক ভাবে  ২০১৯  সালের ১ জুলাই থেকে সরকার সঞ্চয়পত্রের উপর অতিরিক্ত ১০% উৎস কর ধায্য করেছেন।এতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

পর্যালোচনা করে দেখা যায়,জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর ২০১৫ সালে পারিবারিক সঞ্চপত্রের এক লাখ টাকার বিপরীতে মুনাফা দিতো ১,০৭০ টাকা, ২০১৮ সালে তা কমিয়ে করলো ৯২২ টাকা এবং ২০১৯ সালে তা আরো কমিয়ে করলো ৮৬৪ টাকা। আর তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ২০১৫ সালে প্রতি এক লাখ টাকার বিপরীতে মুনাফা দিতো ১,০০০টাকা,২০১৮ সালে তা কমিয়ে করলো ৮৭৪ টাকা এবং ২০১৯ সালে এই মুনাফা আরো কমিয়ে ধায্য করলো ৮২৮ টাকা।

সরকারী-বেসরকারী ব্যাংক গুলোকে বাচাঁনোর জন্য ও পুজিঁ বাজার চাঙ্গা করার জন্য  সরকার যদি এ ভাবে প্রতি বছর সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমাতে থাকে,তালে এক পর্যায়ে সাধারন মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে জাতীয় সঞ্চয়পত্র কেনা চিরতরে বন্ধ করে দিয়ে সরকারী-বেসরকারী ব্যাংকে গিয়ে এফডিআর একাউন্ট খুলবে; এবং ব্যাংকারা এটাই চাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পোষ্ট অফিসের প্রধান পোষ্ট মাষ্টার মোঃ গিয়াস উদ্দিন অবিবেচকের মতো বললেন, মুনাফা স্থির থাকা ঠিক নয়,তা বাজারের সাথে উঠা-নামা করা উচিৎ। এই জন্যে যদি ক্রেতার লুকসান হয় তা হলে তাদের সঞ্চয়পত্র না কেনাই হলো উত্তম পন্থা; এই অবস্থায় তাদের ব্যাংকে এফডিআর করা উচিৎ।

সাধারন মানুষকে ব্যাংকমুখী করা জন্য ও আয় করের পরিধি বাড়ানোর জন্য ২০১৯-২০২০ সালের বাজেটে ১ জুলাই ২০১৯ সাল থেকে সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার নতূন নিয়ম চালু করেছে।নিয়মটি হলো- প্রত্যেক সঞ্চয়পত্র ক্রেতার আয়কর সার্টিফিকেট ও ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে।এখন থেকে ব্যাংক পে-অর্ডারের পর্রিবতে ব্যাংক চেক নগদ টাকার বিপরীতে জমা দিতে হবে এবং আপটুডেট আয়-কর সার্টিফিকেটও জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আগের মতোই ক্রেতা ও নমীনির দুই কপি সত্যায়িত ছবি ও  জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। সরকারের এই নতুন নিয়মের কারনে ক্ষুদে বিনিয়োগকারীদে ভোগান্তি আরো বেড়ে যাবে এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমানও কমে যাবে। এই প্রসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো-এর সহকারী পরিচালক মোঃ আবুল হাশেম বলেন,এক লাখ টাকার বেশী সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে চাইলে গ্রাহককের ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে। আবার  ব্যাংক হিসাব করতে গেলে ব্যাংকে যেতে হবে। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি  জমা দিতে হবে, যা অনেকেরই নেই। এছাড়াও আগে সঞ্চয়পত্রের ফরম নিজ হাতে পুরন করতে হতো কিন্তু এখন থেকে তা অনলাইনের  মাধ্যমে পুরন করতে হবে এবং আয়-কর সার্টিফিকেট থাকতে হবে। এসব কারনে বর্তমানে সমগ্র বাংলাদেশে গ্রাহকদের মধ্যে সঞ্চয়পত্রের প্রতি ঝোকঁ অনেক কমে গেছে। দেশের পোষ্ট অফিসগুলোতে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের ভির আর আগের মতো নেই।

জাতীয় সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম প্রসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পোষ্ট অফিসের প্রধান পোষ্ট ‍মাষ্টার মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, আগের মতো সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়া পর পরই এক দিনের মধ্যেই তা নবায়ন করা যেতো কিন্তু নতুন নিয়মানুযায়ী দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কারনে পুরাতন সঞ্চয়পত্র নবায়ন করতে কম পক্ষে ২০/২৫ দিন সময় লেগে যাবে। সরকারের এই নতুন নিয়মের ভেরাজালে পড়ে পুরাত  গ্রাহকরা সবাই এখন দিশেহারা।যারা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দিয়ে সংসার চালাতো তাদের কষ্ট ও ভোগান্তি চরম  পর্যয়ে গিয়ে দাড়িঁয়েছে। ভূক্তভোগী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মধ্যপাড়া মহল্লার মোঃ আমজাদ আলীর বিধবা স্ত্রী মনোয়ার বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া  জেলা পোষ্ট অফিসের  সহকারী পোষ্ট মাষ্টার হাসিনা রাব্বীর কাছ থেকে জানতে চান- যদি সঞ্চয়পত্র নবায়ন করতে ২০/২৫ দিন সময় লেগে যায় এবং উক্ত সময়ের মুনাফা না পাই তাহলে আমার সংসার চলবে কিভাবে? তখন তিনি বললেন,আগের মতো সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক দিনের মধ্যেই তা নবায়ন করার সুযোগ আর নেই। নতুন নিয়ম অনুযায়ী  নবায়র করার সঞ্চয়পত্রের এই টাকা ২০/২৫ দিন মুনাফা বিহীন অবস্থাই  সরকারী তহবিলে পড়ে থাকবে। এখানে আমাদের কিছুই করনীয় নেই।তিনি আরো বললেন, ২০/২৫ দিন পর নগদ টাকা পাওয়ার পরও আয়-কর অফিসে গিয়ে নতুন আয়-কর হিসাব বই খুলতে হবে।এই নতুন আয় কর বই খুলতে গিয়ে গ্রহককে জটিল সমস্যায় পড়তে পবে। সমস্যাটি হলো: গ্রাহক যেই মূলমানের সঞ্চয়পত্র ক্রয় করবেন, সেই টাকার আসল উৎস বা টাকা গুলো কতটুকু বৈধ তা কাগজে কলমে দালিলিক প্রমান দখিল করতে হবে।যদি গ্রাহক তা করতে ব্যর্থ হন তা হলে উক্ত টাকার বিপরীতে ৩০% সুদ দিয়ে টাকার বৈধতা নিতে হবে। এখন কথা হলো- যেই গ্রাহক আজ থেকে ২০/৩০ বছর আগে জমি বিক্রি করে ক্রেতার কাছ থেকে  নগদ টাকা নিয়ে ছিলেন অথবা তার ধনী কোনো আত্মীয় বিভিন্ন সময় নগদ টাকা দিয়ে সাহায্য করে ছিলেন অথবা  বাবা মেয়ের অভাব অনটন দূর করার জন্যে তাকে এককালীন  মোটা অংকের নগদ টাকা দিয়ে ছিলেন সেই সব বৈধ টাকার দালিলিক প্রমান দিবেন কি ভাবে? তাহলে কি এসব বৈধ টাকা প্রমানের অভাবে অবৈধ হযে যাবে? এই জটিল আইনের মারপ্যাচের কারনে সমাজের অসহায় ব্যক্তিরা নতুন সঞ্চয়পত্র ক্রয় করকতে পারেবেন না? তাহলে তারা জীবন নির্বাহ করবেন কি ভাবে?

এতো কঠিন ও জটিল নিয়ম-কনুন মেনে যারা বিনিয়েগের টাকার সঠিক বৈধতা দাখিল করতে পারবেন তাদের পরিমান হবে অতি নগন্য, যা দেশের জন্যে কল্যান বয়ে আনবে না।অবাক হওয়ার বিষয় তাদের এই হিসাব বই খুলতে লেগে যাবে প্রায় ৪/৫ দিন এবং প্রতি বছর  তাদেরকে আমানতের টাকা উপর কমপক্ষে ৩,০০০ হাজার টাকা সরকারকে আয়-কর দিতে হবে। নতুন এই আইনের ফাঁদে পড়ে সঞ্চয়পত্রের পুরতন গ্রাহকরা প্রায় এক মাস পযর্ন্ত জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের মাধ্যমে টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে না , তাই তারা উক্ত টাকার কোনো মুনাফা পাবে না। এমতাবস্থায় সঞ্চয়পত্রের উপর নির্ভশীল অসহায় পরিবার গুলো চলবে কি ভাবে?

উল্লেখ্য,২০১৯-২০২০ সালের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আ,ক,ম,মোস্তফা কামাল ঘোষনা করেন,২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে  পূর্বের ৫% স্থলে ১০% হরে উৎস কর কাঁটা হবে।কিন্তু বাস্তবায়ন হবে ২০১৯ সালের ১ আগষ্ট থেকে।কিন্তু অর্থ মন্ত্রীর এই ঘোষনার পর পরই অতিলোভের বশবর্তী হয়ে  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পোষ্ট অফিসের প্রধান পোষ্ট মাষ্টার গিয়াস উদ্দিন ও সহকারী পোষ্ট মাষ্টার হাসিনা রাব্বী পরষ্পরের মধ্যে যোগসাজ করে সরকারী আদেশের কোনো ধরনের তোয়াক্কা না করে জুন মাস থেকেই আমানতকারীর ২/৩ মাসের জমানো মুনাফা থেকে অন্যায় ভাবে ১০% হারে উৎস কর কেটেঁ নেন। আবার অনেক গ্রাহকের ৫/৬ মাসের জমানো মুনাফাও কেঁটে নিয়েছে। কসবা উপজেলার আসকিনা গ্রামের আবুল  হোসেন সরকারের পুত্র মাহতাব হোসেন সরকার পোষ্ট মাষ্টার দ্বয়ের এই অন্যায় কাজে তীব্র প্রতিবাদ করলে সহকারী কেশ  ইনর্চাজ রিপন মিয়া তার সাথে খুবেই খারাপ ব্যাবহার করেন।এই ব্যাপরটি প্রধান পোষ্ট মাষ্টারকে অবহিত করলে তিনি কোনো ধরনের মন্তব্য করেনি। এই ধরনের অনৈতিক ও আইন বিরোধী কাজ প্রসঙ্গে  ব্রাহ্মণবাড়িয়া বারের বিশিষ্ট আইনজীবী তৈমুর রেজা মোহাম্মদ শাহজাদ ভূইয়া বলেন, পোষ্ট মাষ্টার দ্বয়ের এ ধরনের কাজ সমাজ ও রাষ্ট্রের সংবিধান পরিপন্থি কাজ। তারা উভয়ে ফৌজধারী অপরাধ করেছেন। এই অপরাধের জন্য তাদেরকে আইনের মুখামুখী করা উচিৎ।

এমতাবস্থায় অতি দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পোষ্ট অফিসের প্রধান পোষ্ট মাষ্টার ও সহকারী পোষ্ট মাষ্টার ও তাদের সহযোগীদের এই অনৈতিক ও আইন বিরোধী কাজের সুষ্ঠু তদন্ত করে তাদের বিরোদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে কর্তৃপক্ষের নিকট বিশেষ আবেদন রইল। পাশাপাশি সরকারের প্রতি সবিনয় অনুরোধ রইল বতর্মানে প্রণিত যাবতীয় নিয়ম-কানুন বাতিল করে পূর্বে নিয়ম-কানুন পুনঃবহাল করার জন্যে। এতে জাতীয় সঞ্চয়পত্র ক্রেতাদের ভোগান্তি ও কষ্ট দূর হবে এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হবে।

খায়রুল আকরাম খান : ব্যুরো চীফ, দেশ দর্শন

Some text

ক্যাটাগরি: মতামত, সমাজসেবা

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি