বৃহস্পতিবার বিকাল ৪:১৯, ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ. ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ ইং

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় ভয়াবহ দিনগুলো

৮৬৫ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মাস বাঙ্গালীর মহান বিজয়ের মাস ও ২৬শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। আজ থেকে ৪৭ বছর আগে এই দিনে আমাদের স্বাধীনতা ঘোষিত হয় এবং সঙ্গেঁ সঙ্গেঁ এই স্বাধীনতা আক্রান্ত হয় হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী এবং তাদের সহযোগী কিছু নৃশংস ঘাতক বাহিনী দ্বারা। আক্রান্ত স্বাধীনতাকে রক্ষা ও স্থায়িত্বদানের জন্য লাখ লাখ মানুষকে আত্মদান করতে হয়েছে। জাতি- ধর্ম ও মত নির্বিশেষে অসংখ্য মা-বোনকে সম্ভ্রম খোয়াতে হয়েছে, প্রাণ দিতে হয়েছে । আজ থেকে ৪৭ বছর আগে আমি দশ বৎসরের কিশোর । আমার বাবা মোঃ শমসের খান সাহেবের চাকুরীর সুবাধে তখন আমরা সপরিবারে ময়মনসিংহ শহরের কেওয়াটখালী রেলওয়ে কলোনীতে থাকতাম। ১৯৭১ সালের নৃশংস ভয়াবহ ঘটনা গুলো আমার স্বচক্ষে দেখা। আজও আমার স্পষ্ট মনে আছে।

২৫ শে মার্চ দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার এবং নিয়মতান্ত্রিক অসহযোগ আন্দোলনের ২৪ তম দিন। ওই দিন দুপুর দিকে স্থানীয় মরাখোলা মাঠে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্য মোঃ ইমান আলীর সভাপতিত্বে এক বিশাল সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বক্তারা পূর্ব পাকিস্থানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগনের নির্বাচিত নেতা বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য রাষ্ট্রপতি আগা মোঃ ইয়াহিয়া খানের নিকট উদাত্ত আহবার জানান। অতঃপর মিটিং শেষে উপস্থিত জনতা বিশাল এক প্রতিবাদ মিছিল সম্পন্ন করে যার যার বাড়ীতে প্রত্যাগমন করেন। কাকতালীয়ভাবে ওই দিন গভীর রাতেই ঢাকায় পাক বাহিনীর গণহত্যা শুরু হয় এবং বঙ্গঁবন্ধু গ্রেফতার হন। পরদিন ময়মনসিংহ শহরে ঢাকা থেকে কোনো পত্রিকা আসেনি। এসময় স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা প্রচার করতে থাকেন যে, বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিব গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা দিয়ে গেছেন এবং উক্ত ঘোষনাটি ইপিআর এর তার বার্তার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছে কিন্তু পরিতাপের বিষয়- আওয়ামীলীগ নেতাদের উক্ত বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনো ধরনের বক্তব্য রেডিও বা টেলিভিশনের মাধ্যমে আমরা জানতে পারিনি। কেননা সকাল থেকেই রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্র বন্ধ। এতদিন ধরে যে অনবরত পল্লীগীতি ও দেশাত্ববোধক গান শোনা যেতো তাও বন্ধ। এই বৈরী অবস্থা দেখে আমাদের বাসার সবার ভয় বেড়ে গেলো। দারুন উৎকন্ঠ ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে ২৬ শে মার্চ বিদায় নিল।

এলো ২৭ শে মার্চ। চারিদিকে সুনসান নীরবতা রাস্তা ঘাটে লোক চলাচল খুবই কম। এই দিন অনুমানিক সকাল ৭টার দিকে ঢাকা থেকে আগত লোকদের মাধ্যমে ২৫ মার্চের পাক বাহিনীর নির্মমহত্যা কান্ডের খবর অত্র এলাকায় বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পরে। এমনি ভয়বাহ পরিস্থিতিতে বিকাল দিকে আব্বা আমাদের রেডিওটি অন করেন , অন করার ২/৩ মিনিট পর আমরাসহ কলোনীর অনেকেই এক অবিস্মরনীয় ও উদ্দীপনা মূলক ভাষন শোনতে পেলাম। মেজর জিয়াউর রহমান নামক একজন উর্ধ্বতন বাঙ্গাঁলী সামরিক কর্মকর্তা বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের পক্ষে “ বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম গনপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষনা দিলেন” এবং জাতির এই সংকটকালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আহ্বান জানান দেশের আপামর জনগনকে । এই ঘোষনাটি শোনার পর আমাদের মনে বদ্ধমূল ধারনা হলো যে, পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে আমাদের যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, এই যুদ্ধে আমরা অবশ্যই জয়ী হবো। মেজর জিয়াউর রহমানের এই উত্তেজনা ও প্রেরণা মুলক বক্তব্য শোনার ঘন্টা খানেকের মধ্যেই প্রতিশোধের মানসে বাঙ্গাঁলী ইপিআর, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয়রা যৌথভাবে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজে এক আতর্কিত আক্রমন চালায়- এতে ৮/১০ জন অবাঙ্গাঁলী ইপিআর সদস্য ঘটনাস্থলে নিহত হয়। প্রশাসনের আপত্তি অগ্রাহ্য করে উত্তেজনা বশত উক্ত লাশ গুলো টেনে- হিচরে স্থানীয়রা সমস্ত শহরে প্রদর্শন করে। ওই সময় ময়মনসিংহের জেলা প্রাশাসক ছিলেন সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী মোঃ মহিউদ্দিন খান আলমগীর। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর পরই শহরের আইন – শৃংখলার অবস্থা অবনতি হতে থাকে এবং ক্রমান্বয়ে এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে ময়মনসিংহ শহর জন্যশূন্য হয়ে বিরান ভূমিতে পরিনত হয়। দিন যতই ঘরাচ্ছে অবস্থা ততই ভয়বহতার দিকে যাচ্ছে। একপর্যায়ে ময়মনসিংহ শহর দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণরুপে বিছিন্ন হয়ে পরে। এমনি পরিস্থিতিতে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে থাকি।

এভাবে চলার পর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে আমাদের বাসার উঠানের পশ্চিম পাশে শহিদ কাকাকে দিয়ে একটি বিরাট বাংকার খনন করানো করনো হয়। আর আমাদের মেঝুভাই মোঃ নূরুল আফসার খান স্থানীয় কামারের দোকান থেকে সংগ্রহ করেন দেশীয় কিছু অস্ত্র। ১৬ই এপ্রিল সকাল দিকে নিজ উদ্যোগ অতিসাহস নিয়ে শাহিদ কাকা একা পায়ে হেঁটে ময়মনসিংহ শহর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উদ্দেশ্য রওয়ানা দেন; দেশের এই সংকটাপন্ন অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক নেতাকে তন্ন তন্ন করেও খোজে পাওয়া যায়নি। অবশেষে আব্বা উনার স্কুল জীবনের বন্ধু ময়মনসিংহে চাকুরীরত পুলিশ বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা মাধ্যমে জানতে পারেন যে, পাক বাহিনী ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ শহর দখল করার জন্য যে, কোনো সময় আক্রমন চালাতে পারে। এমতাবস্থায় সবারই নিরাপদ স্থানে চালে যাওয়া উচিৎ। অতঃপর আমরা কাপড়-চোপড়ব, বাক্স-পেটরা, বেডিং-পত্র ঘুছিয়ে প্রস্তত হয়ে থাকি। কিন্তু কোথায় যাব তা স্থির করতে পারছিনা। এমনি সময় দেবদূতের মত বিকাল দিকে আমাদের খালাতো ভাই মোঃ জসিম উদ্দিন চৌধুরী বাসায় এসে উপস্থিত হন। উনাকে পেয়ে আমরা সবাই প্রান ফিরে পাই।

পরের দিন ১৭ই এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে পাটগুদামের ফেরীঘাট থেকে শুম্ভুগঞ্জ চড়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য ফেরীতে উঠি। ফেরীতে তখন আনুমানিক ৫০/৬০ জনের মতো যাত্রী ছিল। যেই মাত্র যাত্রীবাহী ফেরীটি ব্রাহ্মপুত্র নদীর মাঝ বরাবর পৌছে তখন হঠাৎ  বিকট শব্দ করে দুইটি বোমারো বিমান আকাশে একটি চক্কর দেয়। তখন ফেরীতে অবস্থানরত যাত্রীরা একজন আরেকজনের সাথে বলাবলি করছিল যে, বিমানের পাইলটগন শম্ভুগঞ্জ রেলওয়ে ব্রিজটি দেখার জন্য আকাশে চক্কর দিচ্ছে। “ আবার কিছু যাত্রীগন বলছেন” বিমানের পাইলটগন নতুন বিধায় আকাশে চক্কর দিয়ে প্রশিক্ষন নিচ্ছেন।” যাত্রীদের মধ্যে এ ধরনের কথোপকথন অবস্থায়ই যাত্রীবাহী ফেরীটি ব্রাহ্মপুত্র নদীর পূর্বপারে শম্ভুগঞ্জ চড়ে এসে পৌছে। অতঃপর যাত্রীরা ফেরী থেকে নদীর পারে নামতে শুরু করে। আর এ সময়ে হাঠাৎ বিকট শব্দ করে উক্ত দুইটি বোমারো বিমান অসহায় যাত্রীদের উপর অতর্কিত আক্রমন শুরু করে; তখন যাত্রীরা দৌড়া দোড়ী করে যে যার মত করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। আমি তখন একটি টংঘরের নিচে আশ্রয় গ্রহন করি। তখন বিমানের বিকট শব্দ, আগুনের লোলিহান শিখা, মেশিনগানের গুলির শব্দ ও মানুষের আর্তচিৎকারে এক ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিমান দু’টি চলে যাবার পর দেখী – ১০/১২ টি দোকান দাউ দাউ করে জ্বলছে। ৮/১০ জনের মত লোক ঘটনাস্থলে মারা গেছে ও আমার ছোট বোন রুবীসহ বেশ কয়েকজন লোক আহত হয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। এ ভয়াবহ ঘটনার পরপরই আমরা অতি দ্রুত নদীপার হয়ে পুনরায় বাসায় চলে আসি আর চিকিৎসার জন্য রুবীকে নিয়ে আব্বা- আম্মা চড়পাড়া হাসপাতালে চলে যান। আমরা বাসায় আসার ঘন্টা খানেক পর সানকীপাড়া, গঙ্গীনিরপাড় ও নিউকালোনীতে বাঙ্গাঁলী – অবাঙ্গালীদের মধ্যে ভয়ঙ্কর দাঙ্গাঁ শুরু হয়।

এই বিপদ সঙ্কুল অবস্থায় জসিম ভাইকে বাসায় রেখে আব্দুল করিম নামক স্থানীয় এক লোকের সহায়তায় কেওয়াটখালীর ছয় মাইল পশ্চিমে অবস্থিত দীঘিরনালা নামক গ্রামে এক অপরিচিত লোকের বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় গ্রহন করি এবং পরের দিন সকালে দিকে আরো পাচঁমাইল দক্ষিন-পূর্বে অবস্থিত ভাংরামারীর চড় নামক গ্রামে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বাড়ীতে অবস্থান করি। শহরের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর ওই দিন বিকাল দিকে বাসায় ফিরি। শহরে এসে দেখী চারিদিকে আতংকের ছাপ ও সুনসান নিরবতা। সমস্ত কলোনীকে মানে হচ্ছিল কোন এক ভুতুরে পাড়া।

সন্ধ্যা হওয়ার পর পরই এলাকার পরিবেশ ও পরিস্থিতি ভয়ানক আকার ধারন করে। এ সময় স্থানীয় লাঠিয়ালরা বেছেঁ বেঁেছ অবাঙ্গালীদের বাসার সমস্ত আসবাবপত্র লুটতরাজ শুরু করে। এ অবস্থায় সুযোগ বুঝে অবাঙ্গাঁলীরা নিজেদের প্রাণ নিয়ে দ্রুত পলায়ন করছে। আর যারা ধরা পড়ছে তাদের উপর চলছে অকথ্য নির্যাতন। আনুমানিক রাত আটটার দিকে এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য অবলোকন করি। আমাদের বাসার পশ্চিম পাশের মাঠ থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে এবং গগনবিদারী আত্মচিৎকার শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও ব্রাহ্মপুত্র নদীর পাড় থেকে মহিলাদের আত্মসম্ভ্রম বাচাঁনোর বিকট চিৎকার শোনা যাচ্ছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে গনধর্ষন, নির্যাতন ও হত্যাকান্ড। আমরা তন্দ্রাহিন ও ভীতিকর অবস্থার মধ্যে সারারাত পার করি। কাক ডাকা ভোরে আমি, মেঝোভাই ও জসিম ভাই আকুলস্থলে পৌছি এবং অনেকক্ষন পর্যবেক্ষন করি। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা মতে ও আমাদের হিসাব অনুযায়ী এই পৈশাচিক হত্যাকান্ডে আনুমানিক ১৫০ জন লোক নিহত হন আর গন ধর্ষনের শিকার হয়ে মারা যান প্রায় ১৫ জন যুবতী মহিলা। অতঃপর আমরা বাসায় ফিরি এবং সকাল ১০টার দিকে সপরিবারে পাটগুদাম ঘাট থেকে ফেরী যোগে শম্ভুগঞ্জচরে গিয়ে পোঁছি।
নেত্রকোনার উদ্দেশ্যে আমরা হন্তদন্ত হয়ে শম্ভুগঞ্জ বাজার থেকে বাসে উঠি। আমাদের বাসাটি যাতাক্রমে শ্যামগঞ্জ, ভবের বাজার, হিরনপুর ও চল্লিশা পার হয়ে অবশেষে নেত্রকোনা সদর বাস ট্যান্ডে এসে পৌছেঁ। প্রায় দুপুর ২টা দিকে আমরা জসিম ভাইদের বাসায় গিয়ে উপস্থিত হই। এখানে প্রায় দেড়মাস অবস্থান করার পর আমরা ১৫ই জুন সকাল ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসার উদ্দেশ্যে “নাসিরাবাদ এক্সপ্রেসে” উঠি। ট্রেনটি ছাড়ার পূর্ব মুহুর্তে পাকবাহিনীর সদস্যরা সমস্ত যাত্রীদের মাল-পত্র তন্ন তন্ন করে তল্লাশি করতে থাকে এবং যাকে সন্দেহ হচ্ছে তাকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছে। এ ভীতিকর দৃশ্য দেখে আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পরি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ষ্টেশনে আসার পূর্ব পর্যন্ত প্রতিটি ষ্টেশনে প্রায় ১০মিনিট যাত্রা বিরতী করে পাক সেনারা তাদের তল্লাশি অব্যাহত রাখে। আনুমানিক দুপুর ৩টার দিকে আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ষ্টেশনে এসে পৌছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিভিন্ন আত্নীয়-স্বজনদের বাড়িতে প্রায় দেড় মাস অবস্থান করার পর অবশেষে আগষ্টের প্রথম সপ্তাহে বাসুদেব গ্রামে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউল হক ভুইয়ার বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় গ্রহন করি।

আমার স্বচক্ষে দেখা একাত্তরের ভয়াবহতা আমি কখনো ভুলতে পারবো না। এসব ভীতিকর স্মৃতির কথা মনে পড়লে আজও আমি ভয়ে শিউরে উঠি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মাটিতে যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়ে ছিল, তা ছিল বিশ শতাব্দীর নৃশংসতম এক গনহত্যা। ঐতিহাসিকদের মতে, বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানী বাহিনীর নিষ্ঠুরতা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পোল্যান্ডে নাজি বাহিনীর বর্বরতার চেয়েও ভয়াবহ। আমাদের এখন সোচ্চার কন্ঠে দাবি তুলতে হবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী সেনা কর্মকর্তা যাদের আমরা ১৯৭১ সালের গনহত্যার জন্য চিহ্নিত করেছি তাদের বিচার করতে হবে। ত্রিদেশীয় চুক্তির মাধ্যমে সিমলায় যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তাতে পাকিস্তান সরকার অঙ্গীঁকার করেছিল এই সব চিহ্নিত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করবে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা তা করেনি। সেই ঘৃনিত গনহত্যাকারী সেনা কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবীতে আন্তর্জাতিকভাবে জনমত সৃষ্টি করতে হবে।

Some text

ক্যাটাগরি: আত্মজীবনী, স্মৃতিচারণ

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি