শনিবার রাত ৮:২৯, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ. ১৮ই মে, ২০২৪ ইং

আমার প্রিয় তেলিনগর গ্রাম

৯৬৩ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি
তেলিনগর, অষ্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রাকৃতিক রূপ-সৌন্দর্যে ঘেরা, সবুজ -শ্যামলে ঢাকা আমার প্রিয় তেলীনগর গ্রাম। যার চার দিক ছেয়ে আছে স্রষ্টার সৃষ্ট অপূর্ব সুন্দর, সুজলা সুফলা সবুজ-শ্যামল এক বিস্তীর্ণ শস্য ভূমি। এই সবুজের মাঝেই আঁকা বাঁকা হয়ে দিকবেদিক বেঁয়ে গেছে কত ছোট-বড় পথ, যার দুপাশ ঘিরে রয়েছে নাম জানা, না জানা কত নানারকম গাছ।

আছে আরো কত বড় -ছোট খাল-পুকুর। আর এই সবুজ শ্যামল প্রকৃতির মাঝেই গড়ে তুলেছে গ্রামের এই সহজ -সরল মানুষগুলো। পাকা আধো পাকা তাদের স্বপ্নের বাড়ি-ঘর। জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মানুষকে সুশিক্ষায় শিক্ষিতরূপে গড়ে তুলার জন্য নিজেরাই বানিয়েছে মাদরাসা মসজিদ, স্কুল-কলেজ আর চিকিৎসা সেবার জন্য ছোট একটি ক্লিনিক।

মানুষ চলাচলের জন্য কাঁচা-পাকা অনেক রাস্তা যার দুপাশ রয়েছে সবুজে ঢাকা। বাড়ির চার পাশজুড়ে তারা লাগিয়ে রেখেছেন আম-জাম, কাঁঠাল-লিচু, আমড়া-পিয়ারা আরো কত রকম ফল গাছ। কাঁচা শাক-সবজি,আনাজ-তরকারি। জীবন ধারণের জন্য ভেজালমুক্ত প্রয়োজনীয় সব কিছুই তৈরি করে রেখেছে তারা বাড়ির আঙিনায়, হাতের নাগালে।

তেলিনগর গ্রামের অপূর্ব ছবি

গ্রামের এই মুক্ত নির্মল বাতাস নাক দিয়ে যখন বুকে টেনে ফুসফুসে পাচার করি, বন্ধ চোখ দুটি খুলে যখন গ্রামের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে উপভোগ করি, তখন এই সবুজ প্রকৃতি আমাকে খু উ ব মুগ্ধ করে। আমার হৃদয়কে তখন খু উ ব আপ্লুত ও অভিভূত করে। আমি তখন হারিয়ে যায় প্রকৃতির এই প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যে অচেনা কোনো এক জগতে!

আর গ্রামের ভোলাভালা সরল-সুজা মানুষ গুলো যখন ক্ষেত -খামারে কাজ-কর্ম করে ক্লান্ত-শ্রান্ত শরীর নিয়ে গ্রামের রাস্তা-ঘাট বা বাড়ির আঙিনায় লাগানো তাদের এই সবুজ গাছপালার নীচে কোমরের গামছা খুলে মাটিতে বিছিয়ে একটু বসে গা এলিয়ে দেয়, তখন গ্রামের এই সবুজ প্রকৃতি এনে দেয় তাদের এই ক্লান্ত দেহে এক অন্নরকম সতেজ ও সজিবতা। কাজ-কর্মে তখন তারা ফিরে পান এক ভিন্নরকম উদ্যম।

তেলিনগর গ্রামের অপূর্ব ছবি

আমার এই প্রিয় গ্রামের মানুষগুলোর ঘুম ভাঙে প্রভাত-ভোরে আযানের সুমধুর সুরে, পাখপাখলির মিষ্টি কলতানে! এখানে নেই কোনো মানুষের কৃত্রিম কোলাহল, নেই কল-কারখানার অসহ্যকর শব্দদূষণ। গ্রামের সকাল-বিকালের সৌন্দর্য অনেক মনোমুগ্ধকর। প্রভাত-সূর্যের সোনালী আলো যখন সবুজ শ্যামল এই প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেই মিষ্টি আলো গায়ে মেখে, নগ্ন পায়ে দুর্বাঘাসে হাঁটতে বেশ ভালোই লাগে।

সারাদিন আলো দিয়ে বিকাল বেলায় ক্লান্ত লাল সূর্যটা যখন এই বিস্তীর্ণ প্রকৃতির মাঝে ধীরে ধীরে অস্তমিত হয়ে হারিয়ে যায়, তখন সেই নয়ানাভিরাম দৃশ্য দেখে মনে অনুভব হয় এক অপার্থিব ভালো লাগা। আর সেই ভালোলাগার প্রাশান্তির আনন্দ তখন ছড়িয়ে থাকে শরীরের প্রতিটি কোষে কোষে। যেমন ছড়িয়ে থাকে শবনম ভেজা শিশির বিঁন্দু কঁচি-কোমল দূর্বা ঘাসে।

আমির হামজা: প্রবাসী ইমাম, কাতার

১২ মে ২০২০, দুপর ১.২ মিনিট

Some text

ক্যাটাগরি: প্রকৃতি ও পরিবেশ

[sharethis-inline-buttons]

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি