শনিবার সন্ধ্যা ৭:৫৭, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ. ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ইং

গণহত্যা ও গণকবরের অজানা কথা: ফারজানা হক

৪৮৬ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

বাংলাদেশের এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা, নির্যাতন চালায়নি। এসব গণহত্যা সংগঠিত হওয়ার পর শহীদদের গণকবর দেওয়া হতো। এসব গণকবরের অনেক গণকবর পড়ে আছে অবহেলায়। মুক্তিযুদ্ধের পর বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রীয় অবহেলার ধ্বংস হয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলার গণকবর বধ্যভূমি ও শহিদ মুক্তিযুদ্ধাদের কবর ও স্মৃতিময় স্থান। ফলে যেখানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে কবর দেয়া হয়েছিল, সেখানে আজ কোন স্মৃতি চিহৃ নেই। আর এ সকল স্মৃতিকে চি‎হ্নিত করতে গণহত্যা ও গণকবরের অজানা তথ্য খুজে বের করতে ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী গবেষণা করছেন ফারজানা হক। যে সকল গণকবরের এখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ধান মেলেনি, সে সমস্ত গণকবর খুঁজে বের করতে কাজ করে চলেছেন তিনি।

ফারজানা হকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় :- ফারজানা হক স্বর্না পৌর শহরের সরকারপাড়া মহল্লার স্বনামধন্য এ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক ও গড়েয়া ডিগ্রী জলেজের উপাধ্যক্ষ সাহানা জেসমিন আখতারের কন্যা। স্বর্নারা ৪ বোন। ফারজানা হক স্বর্নার স্বামী হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো:সফিকুল ইসলাম।
২০০৬ সালে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ২০০৮ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ২০১২ সালে ১ম বিভাগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১ম বিভাগে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে গবেষনারত।
সেখানে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা ও গণকবর বিষয়ে এমফিল করছেন। তার কিছু লেখা ইতিমধ্যে জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। পেশাগত জীবনে তিনি জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রত্নাই বোগুলাবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক।

স্বর্না ছোট বেলা থেকেই নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। টিভিতে বেশ কিছু নাটক ও উপস্থাপনাও করেছেন।
২০০৯ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে সেরা সদস্য নির্বাচিত হন তিনি এবং ২০১১ সালে ২নং রমনা ব্যাটেলিয়নের আওতায় আয়োজিত ক্যাপসুল ক্যাম্পে বেস্ট ক্যাডেট হিসেবে পুরস্কৃত হন।

ফারজানা হক বলেন, বাঙ্গালি জাতীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ অধ্যায় হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। এই মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলার মাটিতে যে নৃশংসতম
হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল তা ছিল বিংশ শতাব্দীর মধ্যে অন্যতম গণহত্যা।

কবি সিকান্দার আবু জাফর তার রচিত কবিতায় লিখেছিলেন,‘গ্রামে গ্রামে আজ বধ্যভূমি’। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হচ্ছে, বই পত্র প্রকাশিত হচ্ছে। প্রকাশিত বই পত্রে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব গাঁথা যতোটা আলোচিত হয়েছে সে তুলনায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা সম্পর্কে তেমন বিশেষ বইপত্র প্রকাশিত হয়নি।

এমনটি চলতে থাকলে এমন একদিন আসবে যেদিন কেউ বিশ্বাসই করতে চাইবেনা এদেশে কখনও কোন গণহত্যা হয়েছিল।জাতীয় ইতিহাস রচনায় দেশ জাতি গঠনে গণহত্যার স্থান বধ্যভূমি গণকবর শহিদ ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর চিহিৃত করে তা রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি তা স্থায়ী অবকাঠামো করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে হবে। এসব গনকরব চিহিৃত হলে একটি অঞ্চলের সাধারন মানুষের আত্নত্যাগের বিবরণ উঠে আসবে। লিখিত হবে জন ইতিহাস।

Some text

ক্যাটাগরি: ইতিহাস

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি