বৃহস্পতিবার ভোর ৫:১৫, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ. ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ইং

শীত ও পথশিশু

৪২৬ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

রাতের আঁধারে ঘন কুয়াশায় অস্পষ্ট পথ ঘাট ও রাতের প্রকৃতি। ভূমির সংস্পর্শে থাকা আংশিক মেঘমালা ধবল রঙের ধোঁয়ায় ঘেরা চাঁদের আলো।

বৃক্ষের পাতায় জমে থাকা শিশির, টিনের চালে টুপটাপ শব্দ, প্রাণীর দেহ অনুষ্ণতার ছাপ,
এসবই হয়তো কুয়াশা, এসবই মনে হয় শীত।

রাতের ট্রেনে বাড়ী ফিরবো বলে রওনা হলাম, ট্রেন হতে নেমে দেখি কুয়াশার জালে আটকে আছে আমার শহর।

চিরচেনা শহর টাও আজ কুয়াশার চাদরে মোড়ে হলো অচেনা, অদেখা।

হেটে চলি এদিকে -সেদিকে, নেই কোন মানব, নেই কোন পাখি, নেই কোন কোলাহল, থেকেও যেনো নেই রাস্তার মোড়ে হলদে আলো ল্যাম্পপোস্টে, শুধু ঝড়ছে অনবরত বৃষ্টির মতই দেখতে যাকে আমরা কুয়াশা বলে ডাকি।

আমার চোখে শহরটা যেনো ঘুমিয়ে রয়েছে। মনে হচ্ছে শীতের গরম পোষাক কিনতে শহরে মানুষের ঢল নেমেছিলো দুপুরে, তাই হয়তো শহর টা আজ বড্ড ক্লান্ত।
চুপিসারে হেটে চললাম গন্তব্যের উদ্দেশ্যে, যেনো ক্লান্ত শহরের ঘুম ভেঙে না যায়।

হঠাৎ চোখের জ্যোতি চলে গেলো দূরে,
কে যেন রাস্তার পাশে শুয়ে আছে,গলা কাঁপানো কন্ঠে স্বরে কারো সাথে হয়তো কথা বলছে,

ছেড়া ছালা গায়ে দিয়ে দু-হাটু গুঁজে বুকে জরিয়ে, ছিমছাম জীর্ণ, শীর্ণ,এক শিশু শুয়ে আছে, এমন টাই মনে হলো।

আমি কাছে গিয়ে গলা খাকড়ি দিয়ে বললাম দিলাম :-হে খোকা, কাহার সঙ্গে কথা বলো?

খোকা: আফনে কেডা?আমারে মাইদ দেবাইন?

আমি: আরে নাহ!ভয় পেয়েও না।এখানে শুয়ে আছো কেন? শীত লাগে না?
খোকা: আমগর শীত নাই, শীত আমগর দুস্তু।
আমি: একা একা কার সঙ্গে কথা বলো?
খোকা: শীতের সাথে।
আমি: ওহ!কি কথা হয়ছে?
খোকা: শীত কয়ছে আল্লা নাকি শীত বাড়াইয়া দিছে, কয়চে শীতের কিচ্ছু করার নাই,কয়ছে আজগ রাইত টা কলেমস্তে কাডাইতাম, সহালে রইদ উটলে শরির গরম করতাম।

দীর্ঘ ঘন্টা সময় পথ শিশুর সঙ্গে সুখেদুঃখের গল্প করতে করেতে গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়িল উষ্ণ নূনা জল, ভোর নিশি হতে লাগলো, মসজিদের মিনার হতে শুনা গেলো আজানের ধ্বনি, চারপাশে আজানের স্বরে যেন ফুটে গেলো সদ্য গোলাপ, আল্লাহর ডাকে প্রকৃতির রূপ যেনো পালটে যাচ্ছে,হয়তো প্রকৃতিও আজানের জওয়াব দিচ্ছে, আজানের স্বরে ছুঁয়ে গেলো হৃদয়। ভাবতে লাগলাম এই আজানের শহরে অসহায় কেন পথশিশু,হাড় কাপাঁনো শীতে অনুষ্ণতায় কেন পথ শিশু,কেন’ই বা হলো শিশু থেকে পথ শিশু, কোন উত্তরেই মিলেনি আমার মগজে।
হঠাৎ দেখি পাশে বসা শিশু টা প্লাস্টিকের থলা কাঁধে নিয়ে ছুটে বেড়িয়ে যেতে লাগলো। আমার কাছে থাকা কিছু উষ্ণ ভালোবাসা দিয়ে দিয়ে আমিও চলে আসলাম, খোকাও বের হলো খাবারের সন্ধানে,তখনও পাখিরা গান গায়নি নীড় হতে বেড়িয়ে,কলসি কাখেঁ গায়ের বধূ যায়নি তখনও জলের খোঁজে, বাহিরে তীব্র শীত এসেছে বলে।

অথচ পথশিশু বলে তাদের আজ নেই কোন শীত? নেই কোন কষ্ট? পেটে যদি না যায় অন্ন কি করেই বা করবে গীত?

কেইবা দেখে হাসিরে আড়ালে বেদনার ছাপ।
পথশিশু ছুটেছে কুয়াশাকে অপমানিত করে, সূর্যি মামারও কোন দেখা নেই, কুয়াশাও পড়ছে অবিরত,খোকা এখন যাবে ফেলে থাকা বজ্র থেকে কিছু সংগ্রহের জন্য, শীতের তাপমাত্রা বেশি হলেও খেয়ে তো বাচতে হবে, এই ভেবে বেড়িয়ে গেলো আহারের খোঁজে।

এই ঘন শীত কে পড়ুয়া করে না পথশিশু, কারণ খড়া রোদ,ঝড়,বৃষ্টি,এসবই যেন তাদের কেবল বন্ধু, ঘুরে বেড়িয়ে কেটে যায় দিন, শীতলাতায় কেটে যায় রাত,শীত পেরিয়ে চলে যায় দিনের পর দিন।

তবুও আমাদের বিবেক নড়ে বসে না? ইচ্ছে হয় হয় না? আমাদের কেনা শীতের কাপরের থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে রেখে দেয় পথশিশুর জন্য? আমাদের মনে পড়ে না?পথশিশু কেমন আছে? কি করে কাটাচ্ছে শীতের রাত?আসলে কি তাই? শীত তাদের কেবলেই বন্ধু? নাকি নিজেকে সান্তনা দেওয়ার ইস্যু?শুধু প্রশ্ন হয়েই থেকে যায় এই সব, উত্তর মিলেনি আজও। শুধু পথশিশুর চলা ফেরা দেখেও অদেখার ভান করে চলে আসে মানুষ নামে অমানুষ রূপ।

Some text

ক্যাটাগরি: গল্প, চিন্তা

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি