রবিবার রাত ২:৪৯, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ. ১৮ই মে, ২০২৪ ইং

ভারতের পক্ষে চীনাপণ্য বয়কট কি সম্ভব?

৭০০ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ভারত নাকি চীনা পন্যে বয়কটের ডাক দিয়েছে, কিন্তু আজকের গ্লোবালাইজেশনের এর যুগে কেউ কাউকে পুরোপুরি বয়কট কখনো করতে পারে না, এটা সম্ভব নয় বরং এটা একটা রাজনীতি, মানুষের চোখে ধুলো দেবার জন্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই মুহূর্তে ভারতের অর্থনীতির কি অবস্থা সবাই জানে, তারপরে চীনের লাগাধ আগ্রাসন স্বাভাবিক ভাবেই আঙ্গুলটা গভার্নমেন্ট এর দিকেই যায়‌। যাইহোক এটা ভারতের জনগনের বোঝার ব্যাপার। কিন্তু আমার প্রশ্ন পুরোপুরি চিনকে ভারত বয়কট করতে পারবে কিনা।

যেমন অটোম্যান এবং ব্রিটিশ রাজতন্ত্র এর কথা যদি বলি। এই দুটো সাম্রাজ্যই একসময় পৃথিবী শাসন করতো।এরা একে অন্যের জাত শত্রু ছিল, কিন্তু তারপরেও কি পেরেছিল কেউ কাউকে পুরোপুরি বয়কট করতে? পারেনি সরাসরি না হলেও বিভিন্ন পথে একে অন্যের পন্য কিন্তু তাঁরা ব্যবহার করতো।

১৯৭১ এ যুদ্ধ জয় করে পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয়েও বাংলাদেশ কি পেরেছে অর্থনীতির থেকে পুরোপুরি বয়কট করতে পাকিস্তানকে? পারেনি বরং এখনতো দেখা যায় তাদের পন্য ব্যবহার হচ্ছে এ দেশে। বিশেষ করে তাদের লোন কামিজ গুলো। ইরাক যুদ্ধের সময় মার্কিন পন্যে বয়কটের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে কিন্তু ব্যাপারটা এমন হয়ে উঠে সারাদিন মার্কিন পন্যের বিরুদ্ধে চেঁচিয়ে শুকনা গলা কোকাকোলার কোমলজলে ভিজিয়ে নেওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি।

পাকিস্তান ভারত একে অন্যের চরম শত্রু, তারপরও সব কিছু বাদ দিলেও মুভি, সংগীত এসব থেকে কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একে অন্যেরটা  উভয়ই গ্রহন করে। ইজরায়েলের সাথে বাংলাদেশ এর কোন কুটনৈতিক সম্পর্ক নেই, অথচ অনেক ইজরায়েল এর পন্যেই নির্দিধায় চলছে বাংলাদেশে যা কিনা ইউরোপ আর ভারত দিয়ে প্রবেশ করে। আজকাল শোনা যায় বাংলাদেশ এর পন্যেও একি ভাবে ইজরায়েলে প্রবেশ করছে।

এবার আসি চায়না ও ভারত প্রসঙ্গে, চায়না পন্য বর্জন করার জন্য সোশ্যাল নেটওয়ার্কসে ঝড় উঠেছে ভারতে ।এখন প্রশ্ন চায়নার প্রোডাক্টগুলো কি কি? প্রধানত আমি আপনি মোবাইল, লেপটপ এবং কম্পিউটার ব্যবহার করে যে দাবি গুলো জানাচ্ছি সেই ইলেকট্রনিক প্রোডাক্ট এর খুব সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম যন্ত্রগুলো চায়না তৈরি করে। এপেল এর মতো পন্যেও ব্যবহার হয় চায়নার যন্ত্রাংশ, চায়না এমন একটি অর্থনৈতিক চেইনিং ব্যবস্থা চালু করেছে পৃথিবীতে তাতে করে আপনার আমার দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থার সাথেই চায়না জড়িত। যে পন্যে গুলো ব্যবহার করা একসময় মধ্যেবিও এবং নিম্নবিত্তের কাছে স্বপ্ন ছিল, চায়নার দৌলতে এখন সেগুলো এই দুই শ্রেনীর নাগালের মধ্যেই ‌। ইলেকট্রনিক্স পণ্য থেকে কসমেটিক এবং সাংসারিক জীবনের ছোট খাট ব্যবহার্য পন্যেও উৎপাদন করে চায়না পৃথিবীতে অর্থনীতি উপর সাম্রাজ্য বহু আগেই বিস্তার করেছে এবং চায়নার মার্কেট হিসেবে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোই বেশি টার্গেট ছিল এবং চায়না সেখানে সাকসেস।

চায়নার একজন বিশেষজ্ঞ নাকি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার এ বলেছে ভারতের মানুষ আবারও ব্যবহার করবে চায়না পন্যে,এটা নাকি সাময়িক আবেগ তা থেকে তাঁরা বেশিদিন বিরত থাকতে পারবে না। এ নিয়ে ঝড় বইয়ে দিচ্ছে ভারতের গনমাধ্যমে গুলো, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে চায়না কি খুব ভূল কিছু বলেছে ? কারন একজন ক্ষুধার্ত মানুষের সামনে জাতীয়তাবোধ আর খাবার পাশাপাশি রাখলে সে খাবার টাকেই বেছে নেবে এটা নিশ্চিত। কারন ক্ষুধার কোন দেশ, কাল বা ধর্ম নেই। বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির করুন অবস্থার কথা আমরা কম বেশি সবাই জানি, প্রায় প্রতিদিন ক্ষুধার জ্বালায় কৃষক বা নিম্নবিত্ত নাগরিক এর আত্মহত্যার বিষয় টা খুব স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে।

পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্ভোগের কথা এখন প্রতিদিনের খবর, রাষ্ট্র যেখানে ব্যার্থ সেখানে এসে দায়িত্ব নিচ্ছেন অভিনেতা সোনু সুদ এবং দেব সহ আরো অনেকেই। সেখানে জাতীয়তাবোধের ঝান্ডা দিয়ে সুলভ মূল্যে পাওয়া পন্যের ব্যবহার কতোদিন আটকানো যাবে সেটাই প্রশ্ন। মানুষ স্বভাবতই ভুলে যায় অথবা ভুলে যেতেই সাচ্ছন্দ্যবোধ করে, আর এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি তাঁর বড় প্রমাণ আমাদের এখনও সেই ব্রিটিশ কলোনিতেই আটকে থাকা। তবে এটা বলা যায় এই চিনা পন্যের তত্ব বেশ কিছুদিন মোদি সরকারকে ভারতের জনগনের তোপ থেকে বাঁচিয়ে দেবে।

# জান্নাতুল মাওয়া ড্রথি

Some text

ক্যাটাগরি: মতামত

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি