মঙ্গলবার বিকাল ৫:২০, ১০ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ. ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ ইং

করোনা: নাস্তিক আর মডারেট মুসলিম ভাবনা

৮৬০ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

করোনা মহামারী যখন চীনে, তখন নাস্তিকেরা বললো চীন গোপনে বায়োলজিক্যাল ওয়েপন ডেভলপ করতে যেয়ে দূর্ঘটনাবশত ভাইরাস ছড়িয়েছে। সে সময় উহান পুরোপুরি লকডাউন করে দিয়েছিলো চাইনিজ গভর্নমেন্ট। সরকারি হিসেবের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক হাজার গুণ বেশি। হংকংভিত্তিক একটা পত্রিকা দাবি করেছিল, ২০হাজার লোক মারা গিয়েছে উহানে। আর ইদানিং শুনছি, প্রায় আড়াই কোটি মানুষের খোঁজ নাই (যদিও এটা এখনো অথেন্টিক নয়)। এভাবে যখন দেখল চীনের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে, তখন নাস্তিকসমাজ বলা শুরু করল, এটা আমেরিকার ষড়যন্ত্র। “আমেরিকান সৈন্যের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়েছে চিনে”, এমন খবরও দেয়া হলো কিছু পত্রিকায়।

এবার আমেরিকায় করোনার আক্রমণ শুরু হল। তখন নাস্তিকরা নতুন দাবি নিয়ে হাজির। আবার দোষ চীনের ঘাড়ে। তারা নাকি বিশ্ববাজার কন্ট্রোলের জন্য এই ভাইরাস ছড়িয়েছে। অথচ বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, চীন যে পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে, সেটা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে কয়েক বছর। করোনা শেষ না হতেই সেখানে হান্টা নামের আরেকটা ভাইরাসের আক্রমণ শুরু হয়েছে। অবশ্য বিশ্বব্যাপী করোনার তাণ্ডবে হান্টার খবর চাপা পড়ে গেছে। চীনের ভেতরে এখন আসলেই কি হচ্ছে, আমাদের মোটামুটি অজানা।

আমরা মুসলিমরা যখন বলছি, এটা আল্লাহর গজব। তখনই নাস্তিকরা একবার চীন আর একবার আমেরিকার বায়োলজিক্যাল আক্রমণ বলে বিভ্রান্তের মতো আচরণ করে যাচ্ছে। এদের কাজই হল, সৃষ্টিকর্তা বলতে কছুই নাই- এই কথাটা বিশ্বাস করানো। আর আমরা অনেকেই না বুঝেই এসব হাবিজাবি কথা বিশ্বাস করে যাচ্ছি। অথচ কুরানে আরও ১৪০০ বছর আগেই আল্লাহ বলে দিয়েছেন তাঁর গজব সম্পর্কে এবং তাঁর ক্ষুদ্র/অদৃশ্য সেনাবাহিনীর সম্পর্কে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমরা অনেক নামমাত্র মুসলিম নাস্তিক-কাফেরদের বায়োলজিক্যাল ওয়েপন থিওরিতেই বিশ্বাস করে যাচ্ছি।

নাস্তিকরা একবার চীন আর একবার আমেরিকার বায়োলজিক্যাল আক্রমণ বলে বিভ্রান্তের মতো আচরণ করে যাচ্ছে। এদের কাজই হল, সৃষ্টিকর্তা বলতে কছুই নাই- এই কথাটা বিশ্বাস করানো। আর আমরা অনেকেই না বুঝেই এসব হাবিজাবি কথা বিশ্বাস করে যাচ্ছি।

চীনের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নতুন ভার্শনে কুরান ছাপা হবে, এটা বলার কিছুদিন পরেই করোনার মহামারী শুরু হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক নিজে বলেছেন, তিনিই কুরআনের হেফাজতকারী এবং আল্লাহপাক অবশ্যই কখনোই ওয়াদা ভঙ্গকারী নন। এর পরেও আমরা অনেক মুসলমানই আরেক মুসলিমকে (যারা বলেন এটা আল্লাহর গজব) নিয়ে মজা করি।

মুসলিম দেশে কেন করোনা আক্রমণ হলো তাহলে? খুব কমন একটা প্রশ্ন। এই প্রশ্ন করার আগে ভাবুন যে আসলেই মুসলিমরা ইসলামের বিধান অনুযায়ী আদৌ কতটা মুসলমান? সৌদিআরবের পবিত্র ভূমিতে যখন সিনেমা হল খোলা হয়, বার, নাইটক্লাব খোলা হয় তখন তাদের উপর আল্লাহর গজব আসা কি স্বাভাবিক নয়? তবুও এখন পর্যন্ত মুসলিম দেশগুলোতে করোনার আঘাত এবং মৃত্যুহার তুলনামূলক অনেক অনেক কম।

একটা হাদিস বলি, অনেক আগে পড়েছিলাম। হাদিসটা ছিলো এই রকম (ভুল হলে ধরিয়ে দেয়ার জন্যে অনুরোধ রইলো), “একবার আল্লাহ পাক জীব্রাঈল (আঃ) কে একটা কওমের (গোষ্ঠী/জাতি) ওপরে পাহাড় উল্টিয়ে দিয়ে তাদের সমূলে ধ্বংস করে দিতে বললেন। জীব্রাঈল (আঃ) সেখানে গিয়ে দেখলেন যে তাদের মধ্যে একজন আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিও আছেন। উনি (জীব্রাঈল আঃ) তখন আল্লাহ পাকের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, বুজর্গ লোকটিকে কি করবেন? মহান আল্লাহ তখন জীব্রাঈল (আঃ) কে হুকুম দিলেন, তাঁকে সহই পুরো জনপদ ধ্বংস করে দিতে। লোকটি ঈমানদার হলেও তার একটা ভুল ছিলো এই যে, সে শুধু নিজে ইবাদত করতো কিন্তু অন্যদেরকে ইবাদত করার ব্যাপারে কোনো নসিহত করতোনা।”

করোনা অবশ্যই আল্লাহর গজব এবং বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ওপর কাফের-মুশরিকদের করা অন্যায়ের প্রেক্ষাপটে মুসলিমদের জন্যে এটা আল্লাহর পক্ষ হতে গায়েবী সাহায্য। ইজরায়েল, সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, চীন, ভারতসহ সমগ্র বিশ্বের অত্যাচারিত মাজলুম মুসলমানেরা আল্লাহর যে গায়েবী সাহায্যের জন্যে দিনরাত কান্নাকাটি করেছিলো, করোনা সেই গায়েবী সাহায্য।

এখন চিন্তা করে দেখুন। এই সামান্য একটা ভুলের কারণেও আল্লাহ অকৃতজ্ঞদের সাথে ঈমানদার ব্যক্তিকেও আযাব দিলেন। আর সেখানে আমরা তো নামেমাত্র মুসলিম। ইবাদত-বন্দেগী তো করিইনা বরং প্রতিনিয়ত আল্লাহর নাফরমানীই করে যাচ্ছি। তাহলে মুসলমাদের ওপর গজব কেন আসবে না? তবে মুমিনদের জন্যে সুখবর! মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করেন। একজন মুসলিম হিসবে শহীদী মৃত্যু অনেক মুল্যবান।

করোনা অবশ্যই আল্লাহর গজব এবং বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ওপর কাফের-মুশরিকদের করা অন্যায়ের প্রেক্ষাপটে মুসলিমদের জন্যে এটা আল্লাহর পক্ষ হতে গায়েবী সাহায্য। ইজরায়েল, সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, চীন, ভারতসহ সমগ্র বিশ্বের অত্যাচারিত মাজলুম মুসলমানেরা আল্লাহর যে গায়েবী সাহায্যের জন্যে দিনরাত কান্নাকাটি করেছিলো, করোনা সেই গায়েবী সাহায্য। মজলুমের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন, এমনকি যদি সে কাফেরও হয়। তাহলে চিন্তা করে দেখুন মজলুম ইমানদারগণের দোয়া কি আল্লাহ কবুল করবেন না?

করোনার ভয়ে ইরাক থেকে একে একে দখলদার সৈন্যারা চলে যেতে শুরু করেছে। অথচ কিছুদিন আগেও কুফফারেরা বলেছিলো তাদের সৈন্য ইরাক থেকে যাবে না। করোনার মাধ্যমে মুসলিম রাষ্ট্রের বিজয় অলরেডি শুরু। আরও একটা ব্যাপার, ইজরায়েলে করোনার আক্রমণ হলেও অধিকৃত গাজায় কিন্তু আক্রমণ নেই বললেই চলে। আর চায়নাতেও এখন পর্যন্ত উইঘুর মুসলমানদের করোনায় আক্রান্ত অথবা মৃত্যুর কোনো খবরই পাওয়া যায়নি। তাই বলা যায়, করোনা নামক আল্লাহর গজব, পুরো পৃথিবীর অনেক হিসেব নিকেশ পাল্টে দেবে।

 পরের পর্বে থাকছে করোনা এবং বাঙাল কাঠমোল্লারা

সোহাগ মাহবুব হাসান : কলামিস্ট

Some text

ক্যাটাগরি: চিন্তা

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি