শনিবার সন্ধ্যা ৬:৪১, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ. ১৮ই মে, ২০২৪ ইং

কাতারের “কাফালা পদ্ধতি” বাতিল নিয়ে যা বলল আইএলও

৪৬৯ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

দেশ ছাড়ার বিষয়ে প্রায় সব অভিবাসী শ্রমিকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে শ্রমিকবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরির উদ্দেশে দেশটির সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, এর আগে শ্রম আইনে সংস্কার আনার পরও লাখ লাখ বিদেশি গৃহকর্মী, প্রধানত এশিয়ার নেপাল, ভারত ও ফিলিপাইনের নাগরিকরা এক্সিট ভিসা পেতেন না। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, শ্রম আইনে সংস্কারের পরও বাদ পড়া অনেকেই হয়রানির শিকার হতেন। তারা এক্সিট ভিসা পেতেন না।

তবে কাতারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ আল-ওবাইদলি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, ‘এখন থেকে নিয়োগদাতার অনুমতি ছাড়াই অভিবাসী গৃহকর্মীরা কাতারে প্রবেশ এবং প্রস্থান করতে পারবেন। আমরা এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ আইনি ব্যবস্থা তৈরির জন্য কাজ করছি।’

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানায়, কাতারের শ্রম আইনের সংস্কার কার্যক্রম যথেষ্ট নয় এবং অসমভাবে এর বাস্তবায়ন হচ্ছে। এইচআরডব্লিউ’র এই অভিযোগের দু’দিন পর দেশটির সরকার এমন ঘোষণা দিল।

বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং মানবাধিকার কর্মীরা শ্রম শোষণ, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ এবং দুটি ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য স্টেডিয়াম ও অবকাঠামো নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিকদের মৃত্যুর মতো বিষয়গুলো নিয়ে অনেকদিন ধরেই সমালোচনা করছে। দুই ফুটবল বিশ্বকাপের একটি হলো ২০১৮ সালের রাশিয়া ও আসন্ন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কাতার প্রধান হওতান হোমায়নপোর আলজাজিরাকে বলেন, ‘শ্রমবিষয়ক বিধিনিষেধ সংস্কারের লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপ কাতার সরকারের জন্য মাইলফলক। নিয়োগদাতারা এখন আর শ্রমিককে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বলার সুযোগ পাবেন না। তারা (গৃহকর্মীরা) এখন সোজা বিমানবন্দরে গিয়ে বিমান ধরে দেশে যেতে পারবেন।’

২০১৮ সালে কাতারে কর্মরত বিদেশি অনেক শ্রমিককে ‘এক্সিট ভিসা’ দেয়নি দেশটির সরকার। সংস্কারকৃত আইন দেশটির গৃহকর্মী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী, তেল গ্যাস খাতের শ্রমিক ও কৃষি এবং সমুদ্রে কর্মরতদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়নি।

তবে নতুন এই নিয়মের আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও প্রধান প্রধান কোম্পানিগুলোতে সীমিতসংখ্যক শ্রমিকের ক্ষেত্রে এক্সিট পারমিটের প্রয়োজন হবে। চাকরিতদাতারা তার জনবলের ৫ শতাংশকে চিহ্নিত করতে পারবেন, যারা পূর্ব অনুমতি নিয়ে কাতার ছাড়তে পারবেন।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বিতর্কিত  দেয় কাতার সরকার। অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় কাফালা ব্যবস্থাকে ‘আধুনিক যুগের দাসত্ব’র সঙ্গে তুলনা করেন।

কাতার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ কাতারে প্রচুর অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। যেখানে নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভারতের কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করছেন।

Some text

ক্যাটাগরি: নাগরিক সাংবাদিকতা

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি