রবিবার সন্ধ্যা ৭:৩৬, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ. ১৯শে মে, ২০২৪ ইং

প্রজন্ম বিনাসী মাদক : মাহফুজুর রহমান পুষ্প

৮১৮ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

বর্তমান যুব সমাজকে অতি দ্রুত শারীরিক, মানুষিক, ও আর্থিক ভাবে পুঙ্গ করে দিয়ে জাতিকে ধ্বংসের দাড়ঁ প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে যে জিনিস, তা হল মাদক আর এই সময়ে বিভিন্ন প্রকার মাদকের মধ্যে সবচে এগিয়ে আছে ( ইয়াবা) সহজে বহন যোগ্য হওয়ার বিক্রেতা ও সেবন কারী কাছে দ্রুতই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে (ইয়াবা) ইয়াবা সেবন কারী, বহনকারী, ও বিক্রতা নিয়ন্ত্রণকারীদের বড় অংশটায় হচ্ছে তরুণ সমাজ – সহজে বহন যোগ্য হওয়ার রাস্তা ঘাট, অলি গলি যেখানে সেখানে দাঁড়ানো বা হাটা চলা অবস্থায় এখন ইয়াবা বিক্রি করা যায়

আর তাতে লাভ ও বেশী – জানা যায় যে কোন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা ও দিনে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা অনাসায়ে আয় করতে পারে এই ব্যবসা থেকে তাই অনেকেই অন্য পেশা ছেড়ে ইয়াবা ব্যসসায় জড়িয়ে পড়ছে, যা খুবই উদ্বেগ জনক, । বিশেষ করে ইয়াবা ব্যবসার সাথে যারা জড়িত তাদের একটা অংশ প্রতিটা এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসাবে পরিচিত,, ধারণা করা হয় পুলিশের অসৎ কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ ও সহযোগিতার ফলেই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দৌড়াত্ব দিনদিন বেড়ে চলছে ।

মাদকাসক্তি বলতে মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি বা নেশাকেই বুঝায়। যেসব দ্রব্য সেবন বা পান করলে তীব্র নেশার সৃষ্টি হয় সেগুলোই মাদকদ্রব্য। কোনো কোনো ওষুধকে ব্যবহারগত কারণে মাদকদ্রব্য বলা হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ অতিরিক্ত সেবন করলে এবং এর প্রতি আসক্তি জন্মালে সেটাও মাদকের আওতায় পড়ে। অতএব যেসব দ্রব্য সেবন করলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে এবং সেগুলোর প্রতি সেবনকারীর প্রবল আসক্তি জন্মে সেগুলোই হলো মাদকদ্রব্য। যেমন, বিড়ি, সিগারেট, চুরুট, মদ, গাঁজা, ভাং, আফিম, হেরোইন, পেথিডিন, ফেনসিডিল ইত্যাদি।

যারা মাদকদ্রব্য সেবন করে মাদকদ্রব্যের প্রতি তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্ভরশীলতা সৃষ্টি হয়। তারা মাদকদ্রব্য সেবন করা থেকে বিরত থাকতে পারে না। যদি কোনো কারণে তারা মাদক গ্রহণ করতে না পারে, তাদের মধ্যে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক উপসর্গের সৃষ্টি হয়। যেমন মেজাজ খিটখিটে হয়, ক্ষুধা ও রক্তচাপ কমে যায়, শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়, নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়, আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
যারা মাদকসেবী তারা বিভিন্ন পদ্ধতি ও মাধ্যমে মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে থাকে। যেমন ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো, ট্যাবলেট, পাউডার, সিরাপ হিসেবে খাওয়া, পানীয় হিসেবে পান করা, ধূমপানের মাধ্যমে গ্রহণ করা। ধূমপানেরও আবার নানা ধরন আছে। যেমন সিগারেট, বিড়ি, চুরুট, হুঁকা ইত্যাদি।

তামাক ও মাদকদ্রব্য সেবন বলতে প্রধানত ধূমপানকে বুঝায়। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে পৃথিবীতে প্রতি ৮ সেকেন্ডে শুধু ধূমপান জনিত কারণে একজন ব্যক্তির মৃত্যু হচ্ছে। যারা ধূমপান করে ও ধূমপায়ী ব্যক্তির ছেড়ে দেওয়া ধোঁয়া থেকে অন্যরা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মাদকদ্রব্য সেবনের কুফলসমূহ হচ্ছে :


১) মাদকদ্রব্য মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। যেমন শেখার ও কাজ করার ক্ষমতা হ্রাস করে, চাপ সহ্য করার ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে। তাছাড়া মানসিক পীড়ন বাড়িয়ে দেয়।
২) পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে যন্ত্রণাদায়ক প্রভাব ফেলে। মাদকসেবী পরিবারের সদস্যদের সাথে উগ্র আচরণ করে, পরিবারের শান্তি বিনষ্ট করে।
৩) শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করে। মাদকদ্রব্য সেবন মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষকে ধ্বংস করে, খাদ্যাভ্যাস নষ্ট করে। চোখের দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দেয়।
৪) কিছু কিছু মাদক এইচআইভি ও হেপাটাইটিস-বির সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। খাদ্যনালি ও ফুসফুসের ক্যান্সার, কিডনির রোগ, রক্তচাপ প্রভৃতি রোগের সৃষ্টি করে।

৫) আর্থিক ক্ষতি হয়। নেশার টাকা যোগাতে গিয়ে সংসারে অভাব ও অশান্তির সৃষ্টি হয়।
মাদকাসক্তি বর্তমান সমাজের একটি বড় সমস্যা। যারা মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে তারা তাৎক্ষণিক মৃত্যুমুখে পতিত হয় না বটে, কিন্তু মাদক গ্রহণের কারণে তারা নানা ধরনের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। মাদকের কারণে শুধু যে মাদকাসক্ত ব্যক্তিই ক্ষতগ্রস্ত হয় তা নয়। মাদকাসক্ত ব্যক্তির বাবা-মা, ভাই-বোন, ছেলেমেয়ে, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবার জীবনে প্রভাব পড়ে। সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা মাদকের অর্থ জোগাড় করার জন্য চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানিসহ বিভিন্ন অসামাজিক বেআইনি কাজকর্মে লিপ্ত হয় যা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতির জন্য খুব ক্ষতিকর। মাদকাসক্তির ভয়াবহ পরিণাম থেকে যুব সমাজসহ দেশের সবাইকে রক্ষা করতে হলে মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মাদকদ্রব্য যাতে সহজে পাওয়া না যায় তার জন্য যে আইন আছে তা যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন আইন তৈরি করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন করে তুলতে জনমত গঠন করতে হবে।

একটি কথা না বললেই নয় যে ( ইয়াবা) সর্ব প্রথম যে আঘাতটি করছে টাকার উপর, বাংলাদেশের ২-৫-ও ১০ টাকার নোট গুলোই ইয়াবা সেবনের জন্য সেবকদের কাছে এই টাকা গুলোই পচন্দের তার মধ্যে নতুন টাকা গুলোর প্রতি তাদের নজর থাকে বেশী – কেননা এই টাকা গুলো মুচড়ে পাইপ বানানো খুবই সহজ, আর ইয়াবা সেবনের জন্য এরচে ভাল উপায় আর নেই বললেই চলে । আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন ২-৫-ও ১০ টাকা নোটের অধিকাংশই এখন আগুনে পুড়া, ইয়াবা সেবীদের সাথে আলাপ করে জানা যায় – সেবনের সময় অসাবধানতা বশত তারা টাকার পাইপটি আগুনের খুব কাছাকাছি নিয়ে গেলেই পুড়ে যায় একাংশ ।

তাই তারা ২-৫-ও১০ টাকার নোট ব্যবহার করেন যাতে পুড়ে গেলে -ফেলে দিলে ও যেন বেশী ক্ষতি না হয়।। মূলত তারা একই সাথে দুটি অপরাধ করছে, এক মাদক সেবন, দুই দেশের টাকা গুলো পুড়িয়ে নষ্ট করার । কিন্তু আইনের যতাযথ প্রয়োগ না থাকা বা মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই এর ব্যাপকতা দিনদিন বেড়েই চলছে যা একদিন পুরো জাতিকে ধ্বংস করে দিবে, কেননা আজকাল ইয়াবা সেবনে শিক্ষিত তরুনরাই বেশী ঝুকে পড়ছে । শারীরিক, মানুষিক, ভাবে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মক্ষম হয়ে পড়ছে দেশের চালিকা শক্তি যুব সমাজ। যা দেশ ও জাতি ধ্বংসের ইঙ্গিত বহন করে ।

এই জাতি বিনাশী কর্মকাণ্ড দ্রুত বন্ধ করতে – সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে স্বোচ্ছার হতে হবে। যুবকদের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগাতে হবে, মাদকের কুফল সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। নতুবা মাদকাসক্তির ফলে ধ্বংস হবে ছাত্র সমাজ, বিনষ্ট হবে আধুনিক সভ্যতা আগামী প্রজন্ম নিমজ্জিত হবে অন্ধকারে…

—লেখক —
মোঃ মাহফুজুর রহমান পুষ্প
প্রতিষ্টাতা এডমিন
মাদক মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই
গোকর্ণ ঘাট — ব্রাহ্মণবাড়িয়া ।
মোবাইল- ০১৯৪২২৪৩৩৩৬ ।

Some text

ক্যাটাগরি: চিন্তা

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি