মঙ্গলবার বিকাল ৫:৩৯, ১০ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ. ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ ইং

খালেদাও আগস্ট-হত্যা ষড়যন্ত্রে জড়িত -শেখ হাসিনা

৮৯১ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করে বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ষড়যন্ত্রে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও জড়িত ছিলেন। গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি এবং জিয়াউর রহমান তাদের দূতাবাসে চাকরিসহ বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করেন। আর জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদের ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসিয়েছিলেন জিয়ার স্ত্রী (খালেদা জিয়া)। তার অর্থ কী দাঁড়াচ্ছে, জিয়াউর রহমান একাই নন, তার স্ত্রীও ১৫ আগস্টের হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘খুনিরা খুনিই হয়। এই খুনিরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। কাজেই এদের হাতে দেশের ক্ষমতা গেলে দেশের কি উন্নতি হবে? দেশের মানুষ কি ন্যায়বিচার পাবে?’

খুনিদের রাজত্ব আসতে দেওয়া হবে না : খুনিদের রাজত্ব এ দেশে আর আসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের যখন উন্নতি হচ্ছে, তখন একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী মানুষের ভালো লাগে না। এই শ্রেণির মানুষের মন খুব খারাপ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে—আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা। আজকে আমরা ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়েছি। দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ ইনশা আল্লাহ আমরা করব।’

শিশুদের উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য : সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও জাতির পিতার খুনিরা বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াক এটা চায় না। তারা যে এটা চায় না, তার দৃষ্টান্ত এখনো আপনারা দেখতে পান। বাস দুর্ঘটনায় দুজন শিক্ষার্থী মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।’ এই আন্দোলনে উসকানির বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তারা উসকানি দিয়ে দিয়ে, এই ছেলেমেয়েদের মিথ্যা কথা বলে বলে দেশে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য কী? তিনি এ সময় সাম্প্রতিক স্কুলশিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে যারা উসকানি দিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। শিশুদের আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বুড়োরা হঠাৎ স্কুলড্রেস পরে ছোট হতে চাইল। কেন? উদ্দেশ্যটা কী? এরা কোন স্কুলের ছাত্র? এদের গ্রেফতার করলে কাদের দুঃখ? কাদের হাহাকার? আন্তর্জাতিক সাংবাদিক এবং আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী তারা কি চোখ খুলে দেখবেন না? উসকানিদাতাকে গ্রেফতার করা হলে আর্টিকেল লিখতে পারেন। আর যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল, তারা কি এর বিরুদ্ধে কলম ধরবেন না? কলমের কালি ফুরিয়ে গেল, তাই লিখতে পারছেন না! ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে গেল বলে লিখতে পারছেন না!’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাহারা খাতুন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, কার্যনির্বাহী সদস্য সিমিন হোসেন রিমি ও আনোয়ার হোসেন। কবিতা আবৃত্তি করেন আহকামউল্লাহ।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, ‘কিছু কিছু পত্রিকায় দেখবেন, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমানোই যেন তাদের একমাত্র কর্তব্য। কারণ যখন বাংলাদেশে অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় থাকে, তখন তাদের খুব কদর বাড়ে। এরা সুযোগসন্ধানী। এদের কারণে বাংলাদেশের মানুষকে বারবার বিপদে পড়তে হয়েছে, অধিকারহারা হতে হয়েছে।’

অপরাধীদের ধরলে দেখি খুব হৈচৈ : প্রধানমন্ত্রী এ সময় নাম উল্লেখ না করে দৃকের পরিচালক আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের বিষয়ে বলেন, ‘অনেক নামি, দামি, জ্ঞানী, অনেক বড় আঁতেল, অনেক ইন্টেলেকচুয়াল। কিন্তু তাদের রক্তের সূত্রটা কোথায়? বাংলাদেশের বিরোধী খান এ সবুরের বোনের ছেলে। ওই ধরনের যারা পাকিস্তানি চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী, তাদের বংশধর থেকে শুরু করে অনেকেই এর মধ্যে জড়িত। আবার তাদের ধরলে দেখি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে খুব হৈচৈ।’

একটি জাতীয় দৈনিক থেকে কপিপেস্ট

Some text

ক্যাটাগরি: নাগরিক সাংবাদিকতা

[sharethis-inline-buttons]

Leave a Reply

আমি প্রবাসী অ্যাপস দিয়ে ভ্যাকসিন…

লঞ্চে যৌন হয়রানি